২৫ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার

কোরিয়ায় একুশে পত্রিকা পাঠক ফোরামের বর্ণিল অভিষেক, তথ্যমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ১০, ২০১৯, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলস্থ অভিজাত হোটেল বম্বে গ্রিলে শনিবার সন্ধ্যায় হয়ে গেলো নবগঠিত দক্ষিণ কোরিয়া একুশে পত্রিকা পাঠক-ফোরামের বর্ণাঢ্য অভিষেক। শনিবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় একুশে পত্রিকা প্রশংসার মেলায়, আড্ডার খেলায়।

একুশে পত্রিকা পাঠক ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক হিমেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ফরিদ হান, মেক্সিন চৌধুরীসহ পাঠক ফোরামের সব সদস্য।

এর আগে কেক কেটে জমকালো অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘুরেফিরেই সুরুচি-শুদ্ধাচার খ্যাত রাষ্ট্রদূতের মুখে ছিল একুশে পত্রিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা, জয়গান। একুশে পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের কানায় কানায় পূর্ণ হলরুমে একুশের অনলাইন ভার্সন পড়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

তিনি বলেন, একুশে পাঠকনন্দিত, বহুলপঠিত, সমাদৃত পত্রিকা। একুশের প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ দুটোই রুচিশীল ও স্মার্ট। দেশ-বিদেশের সংবাদ, ব্যতিক্রমী সংবাদ-ফিচার নির্বাচন, পত্রিকার মেকআপের ভূঁয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সাপ্তাহিক একুশে পত্রিকা হতে পারে মানুষের পথপ্রদর্শক। কারণ একুশে পত্রিকা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি তুলে ধরতে কাজ করছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় একুশে পত্রিকার ব্যাপক পাঠক রয়েছে। এখানকার বাংলাভাষাভাষিদের কাছে এটি প্রিয় পত্রিকা, প্রাণের পত্রিকা। এই পত্রিকা কালোত্তীর্ণ হোক-এটাই এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমার প্রত্যাশা। এসময় তিনি নবগঠিত পাঠক ফোরামের সাফল্য কামনা করেন এবং একুশে পত্রিকার প্রচার-প্রসারে তাঁর জায়গা থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী বলেন, একুশে পাঠকের মন জয় করে যুগ থেকে যুগান্তর ঠিকে থাকুক, দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক সেই কামনা করি।

অনুষ্ঠানজুড়ে মূল আকর্ষণ ছিল একুশে পত্রিকা নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপির ভিডিও বার্তাটি। বড় পর্দায় যখন তথ্যমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয় তখন পুরো হলজুড়ে পিনপতন নীরবতা, অভ্যাগতদের চোখে-মুখে অপরিমেয় মুগ্ধতার ছাপ।

ভিডিও বার্তায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, একুশে পত্রিকা একটি অত্যন্ত মানসম্পন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকা। এবং শুরু থেকেই একুশে পত্রিকাটি এই মানটি বজায় রেখেছে। অনেক পত্রিকা দেখা যায়, শুরুতে উচ্চমানসম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে খেই হারিয়ে ফেলে। একুশে পত্রিকার ক্ষেত্রে সেটি এখনো হয়নি। মানসম্পন্ন কাগজ হিসেবে, পত্রিকা হিসেবে একুশে পত্রিকা তার সুনাম ধরে রেখেছে।

আমি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত, সাউথ কোরিয়াতেও একুশে পত্রিকার বিরাট পাঠক সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে পাঠক ফোরাম গঠিত হয়েছে। আমি একুশে পত্রিকার সাউথ কোরিয়ার যে পাঠক ফোরাম হয়েছে, নতুন কমিটি হয়েছে তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। তাদেরকে অনুরোধ জানাব যে, এই পত্রিকাটি যাতে আরো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয় সে লক্ষ্যে তারা যেন কাজ করে। এবং পাঠক ফোরামও কিন্তু একটি পত্রিকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখে, রাখতে পারে। তারা সাজেশন দিতে পারবে। আমি আশা করবো, তারা সেই কাজগুলো করবো। একুশে পত্রিকা পাঠক ফোরাম সেখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য, বাঙালি সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করার জন্য সেখানে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানশেষে রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামকে পাঠক ফোরামের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সংগঠনের সভাপতি ওমর ফারুক হিমেল।

একুশে/ওএফএইচ/এটি