শুক্রবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

বির্তকিত হলো ডাকসু নির্বাচন

প্রকাশিতঃ সোমবার, মার্চ ১১, ২০১৯, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

হাসিনা আকতার নিগার : ১৯৯০ সালের জুলাইয়ের ডাকসু নির্বাচনের ২৮ বছর পর হলো এবারের নির্বাচন। হাইকোর্টের নির্দেশ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীদের অনেক প্রত্যাশা ছাত্রসংসদের কাছে। কারণ তাদের জন্য কথা বলার নেতৃত্ব নেই দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলো। ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই বর্জন করলো এ নির্বাচন। আগামীকাল ধর্মঘট ও ক্লাসবর্জনের কর্মসূচি এসেছে। নির্বাচনের জয়-পরাজয় প্রত্যাশার জায়গাটি পূরণ করতে পারেনি।

রাজনৈতিক ব্যানারে প্রতিনিধিরা নির্বাচন করলেও ডাকসু এবং হল সংসদগুলোর মূল কাজ হলো সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণ, শিক্ষা-সাংস্কৃতিকসহ নানাবিধ সমস্যার সমাধান করা। সেখানে দলভিত্তিক কিছু বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। যার ফলে জাতীয় নির্বাচনের আদলে ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

অথচ দেশের মিনি পার্লামেন্ট হিসাবে পরিচিত এই ডাকসু। যেখান থেকে উঠে আসে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। যার আগামী দিনে জাতির প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে। ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হবার আগে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ছিল নানা ধরনের বির্তক।

বিগত ২৮ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ কোনো সরকারই নির্বাচন করতে পারেনি দলীয় কোন্দল ও হানাহানি হবার শংকার কারণে। যার ফলে ছাত্র সংগঠনগুলো রূপ নিয়েছে এলাকাভিত্তিক সংগঠন হিসাবে। ইউনিয়ন, থানা, জেলাভিত্তিক মূল দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে ছাত্র সংগঠনে অনুপ্রবেশ ঘটেছে অছাত্রের। যারা মূল রাজনৈতিক দলের মত কাজ করছে মিটিং-মিছিলসহ নানা কর্মসূচিতে।

যার প্রেক্ষিতে অতি উৎসাহীদের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্য দিয়ে আজকের ডাকসুর নির্বাচনে ছিল না উৎসবমুখর পরিবেশ।

যদি সাদা চোখে এ নির্বাচনকে দেখা হয়, তাহলে অতীতের ছাত্র রাজনীতিকে জানতে হবে। ডাকসু আর হল সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে শিক্ষার্থীদের জন্য। এখানে বিত্তবৈভবের কিছু নেই। একজন সংসদ প্রতিনিধি পড়ালেখার পাশাপাশি এ দায়িত্বটি পালন করেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। কে কোন দলের তা দেখার সুযোগ নেই হলসংসদ বা ডাকসু প্রতিনিধির। কারণ সে সবার প্রতিনিধি। ছাত্র প্রতিনিধি হিসাব কাজের মধ্য দিয়ে সে নিজেকে তৈরি করে মূল রাজনীতির ধারাতে দেশ ও জনগণের কথা বলতে। যার প্রমাণ মিলে দেশের প্রথিতযশা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জীবনীতে।

এবারের ডাকসু নির্বাচন পদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন ছিল ভোট প্রদান ও গণনার ক্ষেত্রে। আর তার ফল খুব বেশি সুখকর হয়নি। আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচনে ফলাফল সৃষ্টি করলো ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিবেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু প্রাঙ্গণ মুখরিত হোক আবার- একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে এ প্রত্যাশা ছিল ২৮ বছরের। কিন্তু শতভাগ বিজয়ের জন্য অতি মাত্রার ঘটনাতে ব্যথিত হয়েছে মন। হয়ত বা মামলা তদন্তসহ আরো অনেক কিছু ঘটবে আগামিতে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তবে এভাবে ডাকসু নির্বাচনকে বির্তকিত করার মধ্য দিয়ে আর একবার ছাত্ররাজনীতিকে শংকার মুখে নিয়ে গেল রাজনৈতিক দলগুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন।

একুশে/এইচএএন/এটি

হাসিনা আকতার নিগার : লেখক