চবি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী সুমিত মিত্রকে ধাক্কা দেওয়া সেই সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ।
শনিবার রাতে হাটহাজারি থেকে সেই সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) লুৎফর রহমান।
তিনি জানান, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থী সুমিত মিত্রকে ধাক্কা দেওয়া সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই গাড়ির চালককে আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অটোরিকশাটির মালিকের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গুরুত্বর আহত চবি শিক্ষার্থী সুমিত মিত্রকে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে আহত সুমিতকে দেখতে চমেক হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও আইন বিভাগের সভাপতি এবিএম আবু নোমান।
আহতের খোঁজ খবর নিয়ে উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী চমেক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আন্তরিকতার সহিত দেখভালের অনুরোধ জানান।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউর জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আজিজুল হক শনিবার রাতে জানান, মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে গুরুতর আহত সুমিতের অবস্থা সংকটাপন্ন। তার অস্ত্রপাচার প্রয়োজন হলেও তিনি ফিট না। রোগীর জিসিএস আনকনসান্স লেভেল-৩ অর্থাৎ সর্বনিন্ম পর্যায়ে রয়েছে, যার স্বাভাবিক মাত্রা লেভেল-১৫। তার মস্তিস্ক ও হার্টের পাম্প কাজ করছে না।
এ অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত রোগীর অস্ত্রপাচার সম্ভব না বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট এলাকায় সিএনজি চালিত অটো রিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমিত মিত্র। আহত ওই শিক্ষার্থী রাস্তার পাশ ধরে হাটার সময় বেপরোয়া গতিতে আসা সিএনজি অটো রিকশার ধাক্কায় তার মস্তিষ্ক আঘাত প্রাপ্ত হয়।
আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় গ্রীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থার অবনতির কারণে রাতেই তাকে চমেক হাসপাতালের পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাতে ৯টার দিকে তাকে আবার নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে স্থানান্তর করা হয়।
শনিবার দুপুরে তাকে আবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে জানান তার সহপাঠীরা।