২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, বুধবার

ঋণের টাকা শোধ করতে চুরি, প্রথম ঘটনাতেই ধরা!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২, ২০১৯, ৭:২৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : রেয়াজউদ্দিন বাজারে প্রথমে দোকান-কর্মচারির কাজ। সেখান থেকে পার্টনারে দোকান প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি ক্ষুদ্র পাইকারি ব্যবসা। সব মিলিয়ে ভালোই চলছিল মহিউদ্দিন। একসময় হঠাৎ লোকসানে পড়েন তিনি। ধারদেনা করে লোকসান কাটিয়ে উঠার চেষ্টাও করেন। কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাতেও লোকসান। উপরন্তু বাড়ে দেনা। স্বজন-শুভার্থী, ব্যবসায়িক পার্টনারদের কাছে দেনা পরিশোধের জন্য প্রতিনিয়ত ধর্না দিতে থাকেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। বরং সবাই মুখ ফিরিয়ে নেন। সাথে দেনাদারদের উপর্যুপরি চাপ। এ অবস্থায় ঋণের টাকা শোধ করতে অপরাধ-প্রক্রিয়ায় জড়ান মহিউদ্দিন, বেছে নেন কৌশলে চুরির পথ।

জানা যায়, জালাল আহম্মদ নামের এক ব্যবসায়ী গত ২৫ মার্চ সিটি ব্যাংক, জুবিলী রোড শাখায় থলেভর্তি ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান ব্যাংকে জমা দিতে। ক্যাশ-কাউন্টারের কাছে ওপ্রান্ত থেকে আসা কলে মনোযোগ দিয়ে কথা বলছিলেন ব্যবসায়ী জালাল। এসময় কাউন্টারের কাছে ওঁৎ পেতে থাকা মহিউদ্দিন কৌশলে ৫ লাখ টাকার ব্যাগটি নিয়ে চলে যান।

মোবাইল ফোনে কথা শেষ করে জালাল আহম্মদ দেখতে পান তার টাকার ব্যাগটি উধাও। কোথাও খুঁজে না পেয়ে তিনি বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান। ব্যাংকের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, এক যুবক কৌশলে চুরি করে ব্যাগটি নিয়ে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ী জালাল আহম্মদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও কললিস্ট ধরে অভিযানে নামে কোতোয়ালী থানার পুলিশ টিম। টিমে ছিলেন এসআই সজল কান্তি দাশ, এসআই কেএম তারিকুজ্জামান, এএসআই অনুপ কুমার বিশ্বাস ও কনস্টেবল রিটন বড়ুয়া।

চারদিন ধরে নানা পরিকল্পনা ও কৌশল শেষে সোমবার রাত ১০ টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন স্টেশন রোড সংলগ্ন বানিয়াটিলা এলাকার মতলব চৌধুরী বিল্ডিংয়ের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ মহিউদ্দিনকে আটক করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে  মহিউদ্দিন ৫ লাখ টাকাভর্তি ব্যাগটি চুরি করার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেখানো মতে বাসার আলমারি থেকে চুরি যাওয়া ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন একুশে পত্রিকাকে জানান, একে তো দেনাদারদের অত্যাচার, উপরন্তু তার কাছ থেকে সবার মুখ ফিরিয়ে নেবার ঘটনায় মহিউদ্দিন একপর্যায়ে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে এবং শেষপর্যন্ত দেনা পরিশোধ করতে চুরির মতো গর্হিত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে মহিউদ্দিন পুলিশকে এমন তথ্য দিয়েছেন বলে জানান ওসি।

ওসি মহসিন জানান, গ্রেফতার মহিউদ্দিনের এটাই প্রথম চুরির ঘটনা। প্রথমবার ঘটনা ঘটিয়েই সে পুলিশের হাতে ধরা পড়লো। অবশ্য টাকাগুলো চুরি করে নিয়ে যাবার পর একধরনের অনুশোচনাবোধ থেকে মহিউদ্দিন নিজেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজারের ল্যান্ড ফোনে কল করেন। জানতে চান তাদের ব্যাংকের কোনো টাকা চুরি গেছে কিনা। উভয়পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে আপোস-মীমাংসার কথা চললেও একপর্যায়ে মহিউদ্দিন উল্টে যায়। আর তখনই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ করলে আমরা মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করি এবং ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করি।

এ ব্যাপারে চুরি ও চোরাইমাল উদ্ধারের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনে কোতোয়ালী থানায় জালাল আহাম্মদ মহিউদ্দিনকে আসামি করে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন।

গ্রেফতার মো. মহিউদ্দিন (২৮) এর বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার রূপকানিয়া, হায়দার আলী বাশির বাপের বাড়িতে। তিনি স্থানীয় আব্দুল হাকিমের ছেলে।

একুশে/এটি