চট্টগ্রাম: নগরীর কোতোয়ালি থানার বাস্তুহারা কলোনিতে অভিযান চালিয়ে একটি একে-২২ রাইফেলসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব-৭। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আইস ফ্যাক্টরি রোড এলাকার বাস্তুহারা কলোনিতে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে- একটি একে-২২ রাইফেল, একটি রাইফেল, একে-২২ রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন, ১৬টি রকেট ফ্লেয়ার ও চারটি ধারালো অস্ত্র (কিরিস)।
চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের কাছেই অবস্থিত বাস্তুহারা কলোনি নামের এই বস্তিতে পাঁচ হাজারের বেশী মানুষ বসবাস করে। বস্তিটি মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত অনেক আগে থেকেই পরিচিত। এই বস্তিতে সাধারণত নি¤œ আয়ের লোকজন কম টাকায় বসবাস করে।
এদিকে অভিযান শেষে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বস্তির দুটি ঘরের লোকজন পালিয়ে যায়। ওই এলাকার একটি সরু রাস্তা ও ড্রেনের পাশ থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, গত বছর জঙ্গিগোষ্ঠী হামজা ব্রিগেড এবং সম্প্রতি ঢাকায় জঙ্গিদের কাছ থেকে একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এখানেও উদ্ধার হওয়া রাইফেলের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগসূত্র থাকতে পারে। ধারণা করছি- অভিযান টের পেয়ে জঙ্গিগোষ্টি এসব অস্ত্র ফেলে পালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো মাদকব্যবসায়ীদের। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান বলেন, রুহুল আমিন, মুক্তার, রফিক ও বাবুলসহ বেশ কয়েকজন মাদকব্যবসায়ী অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করতো। মাদক বিক্রি সংক্রান্ত কোন ঝামেলা হলে বা কেউ বাধা দিলে এসব অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাত তারা। গত শুক্রবার দেখেছিলাম, বাবুল অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করে হাঙ্গামা করছে। আমি তাকে এর কারণ জানতে চাইলেই তারা সবাই আমাকে দা দিয়ে কোপায়। এতে আমি বেহুশ হয়ে পড়ি।
এদিকে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বস্তির যে দুটি ঘর থেকে লোকজন পালিয়ে গেছে, তাদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে পাশের দুটি ঘরের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে; ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা না পেলে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।