কওমি মাদ্রাসার সনদের সরকারি স্বীকৃতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত নয় সদস্যের কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও বেফাকের সভাপতি শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও বেফাক সভাপতির প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ স্বাক্ষরিত পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বৈঠকে বেফাক নেতারা অভিযোগ করেন, কোনো আলোচনা না করে গত মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিতে মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদকে আহ্বায়ক করে নয় সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি কওমি মাদ্রাসা ও শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের ঐক্য বিভক্তির ষড়যন্ত্র। কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির বিষয়ে ওলামা মাশায়েখদের সম্মিলিত পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বেফাক সভাপতি আহমদ শফী আগামী ১৭ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন আহ্বান করেছেন; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। সেখানে সবার মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির প্রসঙ্গসহ সব বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে আরও বলা হয়, একতরফা গঠিত কোনো কমিটি মেনে নেওয়া হবে না। দেওবন্দী উসুল, স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তাকে তারা অস্বীকার করছে না। কিন্তু ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি, প্রস্তাবিত বিতর্কিত শিক্ষা আইন এবং নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের বিষয়াবলি বাদ দিয়ে স্কুল পাঠ্যবই সংশোধনে আলেম সমাজের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেই সময়ে কওমি সনদের স্বীকৃতির আলোচনা গভীর প্রশ্ন তৈরি করে।
বৈঠকে বক্তব্য দেন, বেফাক সহসভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা আনওয়ার শাহ, মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার প্রমুখ।
বৈঠকে আগামী সোমবার সকাল ১০টায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় কওমি সনদের স্বীকৃতির প্রসঙ্গে আলোচনার জন্য বেফাকসহ সব বোর্ডের প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে সভার সিদ্ধান্ত হয়।