রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

‘জোড়ার’ মাঝেই আটকে আছে লালমিয়া-হনুফার স্বপ্ন

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

আসাদুজ্জামান স্টালিন, জলঢাকা (নীলফামারী) : জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গোপালঝাড় গ্রামের বাসিন্দা লালমিয়া। সাভারে একটি গার্মেন্টসে কাটিং সেকশনে কাজ করেন। গত বছরের ৮ জুলাই একই ইউনিয়নের আনছারহাট এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মনুফা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর স্ত্রীর গর্ভে সন্তান এলে স্বাভাবিকভাবেই খুশি হন লালমিয়া।

অর্থের প্রাচুর্য নয়, স্ত্রীর কোল আলো করে সন্তান আসবে, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখের প্রাচুর্য হবে-সেই স্বপ্নে লালমিয়া যখন বিভোর, তখনই লালমিয়ার ঘরে এলো জোড়া লাগানো কন্যা শিশু। প্রথমে ভেবেছিলেন জমজ। খুশিতে লাফ দিয়ে উঠেন। কোলে তুলতে গিয়ে দেখা গেল একজন ছাড়া আরেকজনকে তোলা যায় না। মানে এক শিশুর সঙ্গে আরেক শিশুর জোড়া লাগানো। সৃষ্টিকর্তার এ কেমন খেলা, কেমন দান!

লালমিয়া আর মনুফা বেগমের সকল স্বপ্ন আটকে গেলো জোড়ার মাঝে। নাড়িছেড়া ধন, ফেলা যায় না। আবার চিকিৎসা দিয়ে রক্ষা করবে, আগলে রাখবে সেই সামর্থ্যও নেই। তাই তাদের চোখেমুখে এখন রাজ্যের অন্ধকার, জগতের হতাশা।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) জলঢাকার স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের মধ্য দিয়ে জন্ম হয় জোড়া লাগানো নবজাতকের। শুক্রবার সকালে ওই ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, উৎসুক মানুষ ভিড় করছে জোড়া লাগানো মেয়ে নবজাতকদের দেখার জন্য।

লালমিয়া বলেন, আমার স্ত্রী গর্ভবতী হলে আলট্রাসনোগ্রাম করেছি। ডাক্তার বলেছেন ভাল আছে। সেসময় জোড়া লাগানো ও জমজের বিষয়ে আমাকে বলা হয়নি। জন্মের পর দেখি জোড়া লাগানো। তাদের শরীরের সবই আলাদা হলেও কোমরের নিচ থেকে পায়খানার রাস্তা এক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তারগণ ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। টাকার অভাবে ঢাকা তো দুরের কথা, রংপুরেই থাকা সম্ভব হয়নি। সমাজে সহৃয়বানদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া জোড়া লাগানো নবজাতকের চিকিৎসা চালিয়ে নেয়া কিংবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই শিশুকে আলাদা করা লালমিয়ার পক্ষে সম্ভব নয়।

নবজাতকদের মা মনুফা বেগম বলেন, ডাক্তারেরা বলেছেন অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা পায়খানার রাস্তা করা সম্ভব হতে পারে। তাই ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছিল। টাকা না থাকায় তাদেরকে ফেরত আনা হয়। এখন আল্লাহ জানে তাদের ভাগ্যে কী আছে।

কর্তব্যরত সার্জন ডা. মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসাসেবায় আমাদের দেশ বর্তমানে অনেক এগিয়ে। নবজাতকদের মেরুদণ্ড জোড়া লাগানো না থাকলে ঢাকায় এ চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।

একুশে/এএস/এটি