২৪ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার

একুশে পত্রিকায় সংবাদ পড়ে যেভাবে ‘খুনি’ ধরল পিবিআই

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৯, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: ‘আম্মুকে খুঁজছে শিশুটি, গ্রেপ্তার হচ্ছে না খুনি’ শিরোনামে গত ৪ এপ্রিল একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তৎপরতা চালিয়ে সেই ‘খুনিকে’ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে গত ১৮ মার্চ রাতে নগরের হালিশহর আবাসিক এলাকার কে ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের কেএস স্পাইসি ক্যাফে নামের নিজের একটি খাবারের দোকানে খুন হন লাকি আক্তার (৩৩)। খুনের সময় চার সন্তানের জননী লাকির সাথে ছিল তার তিন মাস বয়সের শিশু সন্তান।

এ ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত কেএস স্পাইসি ক্যাফের ম্যানেজার খালেদ নূরকে (২৬) গ্রেপ্তারের জন্য হালিশহর থানা পুলিশ বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হচ্ছিল। অন্যদিকে খুনি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি হতাশায় ভুগছিলেন নিহত লাকির স্বামী শ্রীলংকান নাগরিক শান মুগাম।

সে সময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য ছিল, মূল আসামি খালেদ প্রতিনিয়ত অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে ধরা যাচ্ছে না। ঢাকার একটি স্থানে খালেদের টানা কয়েকদিন অবস্থানের তথ্য পেয়ে সেখানে হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুল কবীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়েও সফল হননি তারা।

আসামি গ্রেপ্তার না হওয়াসহ প্রাসঙ্গিক নানা বিষয় তুলে ধরে গত ৪ এপ্রিল একুশে পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশের পর এ মামলার ছায়া তদন্তে নামার সিদ্ধান্ত নেয় পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট। তখন পুলিশের বিশেষায়িত এ তদন্ত সংস্থার পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার আগ্রহে আসামির ব্যাপারেনানা তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করে একুশে পত্রিকা।

এরইমধ্যে গত ৬ এপ্রিল সকালে ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের গায়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তখন এ ঘটনার কিছু বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আসামি গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের চৌকস কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমাকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই নুসরাতের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই, গ্রেপ্তার হয় জড়িতদের অনেকেই।

এদিকে লাকি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে গত ১৫ এপ্রিল একুশে পত্রিকার পক্ষ থেকে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং) আশিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়; তিনি একুশে পত্রিকাকে জানান, আসামির মোবাইলের সূত্র ধরে তার উপর যে নজরদারি তারা এতদিন রাখছিলেন। সেটা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আসামি খালেদের নিকটাত্মীয়দের কেউ দেশে না থাকায় চ্যালেঞ্জে পড়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে ১৬ এপ্রিল নিহত লাকির স্বামী শ্রীলংকান নাগরিক শান মুগাম একুশে পত্রিকার প্রতিবেদককে ফোন করে পুলিশের তদন্তে অগ্রগতি আছে কিনা জানতে চান। বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পিবিআই মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করেছে- বিষয়টি জানানোর পর আশ্বস্ত হন শান মুগাম। লাকির স্বামীর ফোন করার বিষয়টি গত ১৭ এপ্রিল পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাকে জানিয়ে পিবিআইয়ের প্রতি সবার আস্থা, প্রত্যাশার ব্যাপারটি তুলে ধরে একুশে পত্রিকা।

এরইমধ্যে ফেনীর নুসরাতের ঘটনার রহস্য উদঘাটন হওয়ার পর নির্ভার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট এরপর লাকি খুনের মামলার আসামি গ্রেপ্তারে মনোযোগ দেয়। পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারেন অভিযুক্ত খালেদ নূর কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। এরপর তিনি কক্সবাজারে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেন।

একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার নেত্বত্বে কক্সবাজার সদরের হোলিডে মোড় থেকে খালেদ নূরকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই সদস্যরা। ধরা পড়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আর্থিক ও নারীঘটিত বিষয়ের বিরোধে লাকিকে খুন করার বিষয়টি স্বীকার করেন খালেদ।

এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে একুশে পত্রিকার একজন প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, ‘ধন্যবাদ। পিবিআই এর উপর আস্থা রাখার জন্য।’