২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, বুধবার

তথ্য যাচাই ছাড়া ভ্যাট নিবন্ধন নয়

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯, ৮:০৯ অপরাহ্ণ


বাসস : ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন (ইলেকট্রনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ই-বিআইএন) শুরু হয়। এরপর থেকে ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠান দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে অনলাইনে আবেদন করলে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন পেয়ে যেতেন।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন গ্রহণ করেছে। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নজরে আসার পর ঠিকানাসহ আনুসঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই ছাড়া এখন কোন নিবন্ধন ইস্যু করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন,‘নিবন্ধন নেয়ার ক্ষেত্রে ভুয়া ঠিকানা ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অনলাইনে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন বন্ধ রেখেছি। এখন আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত প্রয়োজনীয় কাগজ এবং ঠিকানা যাচাই করে নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে।’

তিনি জানান, মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোন ব্যবসায়ী যেন নিবন্ধন নিতে না পারেন, এজন্য তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিআইএন ইস্যু করার আগে প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য মাঠ পর্যায়ের ভ্যাট কর্মকর্তারা যাচাই করছেন। তথ্য ও ঠিকানা সঠিক হলে সর্বোচ্চ তিনদিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। আর তথ্যের গরমিল পেলে নিবন্ধন ইস্যু না করার বিষয়টি ই-মেইলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে ট্রেড লাইসেন্স,জাতীয় পরিচয়পত্র,আইআরসি (ইম্পোট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট), ইআরসি (এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট), ব্যাংক হিসাব নম্বর, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি অনলাইনে আপলোড করতে হয়। সাথে প্রতিষ্ঠানের একটি ই-মেইল ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ভ্যাট কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা অনুযায়ী যাচাই করবেন। যাচাই শেষে সঠিক পেলে প্রতিষ্ঠানের দেয়া মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলে জানিয়ে দিচ্ছেন। তথ্যের গরমিল থাকলেও ই-মেইলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া ই-বিআইএন ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ইবিআইএনধারীর সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৮।

মুশফিকুর রহমান বলেন, নিবন্ধন গ্রহণকারী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের তথ্যের গরমিল পাওয়া গেছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ভুয়া ঠিকানা,ব্যাংক হিসাবের ভুল তথ্য, আইআরসি ও ইআরসি না থাকলেও ভুয়া তথ্য দিয়ে নিবন্ধন নিয়েছেন। আবার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট না থাকলেও কেউ কেউ নিবন্ধিত হয়েছে ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে। এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো জানান, আগে সারাদেশের ১২টি কমিশনারেটের অধীন ৮৪টি ভ্যাট বিভাগীয় দফতর থেকে নিবন্ধন দেওয়া হতো। এখন ১২টি কমিশনারেট থেকে নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি আবেদন পড়ে আছে।