চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরে নবনির্মিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) গেট-৩ এবং সিএফএস শেডের উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। শুক্রবার সকাল সোয়া নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে এসব স্থাপনা উদ্বোধন করেন তিনি।
এসময় নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, বন্দরের উন্নয়নে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সরকার বন্দরে সিটিএমএস, ভিটিএমআইএস চালু করেছে। ওয়াটার সাপ্লাই ভ্যাসেল সংগ্রহ করেছে। অ্যাম্বুল্যান্স শিপ নিয়েছে। ৩০-৪০ হাজার টিইইউস ধারণক্ষমতার ইয়ার্ড তৈরি করেছে। ৫৯টি হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করেছে। টাগবোট, মাল্টিপারপাস ড্রেজার কিনেছে। প্রশিক্ষণের জন্য সিম্যুলেটর চালু করেছে। গাড়ির জন্যে আধুনিক শেড তৈরি করেছে। অকশন শেড তৈরি করেছে। ডক শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল করেছে।
তিনি বলেন, বে টার্মিনাল, ওভার ফ্লো ইয়ার্ড, ১ নম্বর জেটির উজানে সার্ভিস জেটি, ৪০ তলা টাওয়ার নির্মাণ, মিরসরাইতে নতুন পোর্ট নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইসহ অনেক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো আমরা।
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানি এ বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে। কনটেইনারের ৯৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং করছে। বাকি ২ শতাংশ মংলা বন্দর করে থাকে। আমাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ। নয় মাসে সাড়ে ১৭ লাখ কনটেইনার (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে) হ্যান্ডলিং হয়েছে। এ বছর ২২ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। নতুন গেট ও শেডের কারণে ট্রেড ফ্যাসিলিটি ও নিরাপত্তা বাড়বে।
কাস্টমস কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান বলেন, শুল্ক রাজস্বের ৭০ শতাংশ, দেশের মোট রাজস্বের ৩০ শতাংশ এ বন্দর থেকে আদায়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাত বছর আগের তুলনায় চার গুণ বেশি রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।
উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এমএম তারেকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান, বন্দরের সদস্য কমডোর জুলফিকার আজিজ, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী, জুনিয়র চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিয়াজ মোরশেদ এলিট, বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক, সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মোঃ রুহুল আমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী সিএফএস শেড ঘুরে দেখেন।