বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

বাজেট: মিশ্র প্রতিক্রিয়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। বাজেটকে উন্নয়ন সহায়ক বা গণ-উন্নয়নমুখী বাজেট হিসেবে অভিহিত করলেও ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।

প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়ন সহায়ক বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার। চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আহরণের আওতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে প্রস্তাবিত বাজেট। ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি অর্জন করা গেলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে বাজারে বেশিরভাগ দ্রব্যমূল্যের কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অব্যাহত সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি কিছু নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকার, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বলেন, ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা গত ৪ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা এই সীমা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। ঠিকাদারি ও সরবরাহ বিলে উৎসে কর হ্রাস করা হয়েছে, অগ্রীম কর প্রদানের ক্ষেত্রে সীমা ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং এসএমই খাতে টার্নওভার ৩৬ লাখ থেকে ৫০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে যা ইতিবাচক। হস্তশিল্প রফতানিকে করমুক্ত রাখার সময়সীমা ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। তৈরিপোশাক শিল্পে কমানো করহার সুবিধা অব্যাহত রাখা দেশের প্রধান রফতানি খাতকে উৎসাহিত করবে।

বাজেট ব্যবসাবান্ধব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) সভাপতি খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বন্দর উন্নয়ন খাতে আরও বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। যার ফলে দেশের শিল্পায়ন বৃদ্ধি পেয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের জিডিপি ৮ দশমিক ৫ ছাড়িয়ে যাবে। বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, রেমিটেন্সের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় বৈদেশিক সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে সরকারকে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কমিয়ে রাখতে পারলে দেশের অর্থ তারল্য সংকট সৃষ্টি হবে না।

তিনি বলেন, কাস্টম হাউসের অটোমেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিলে কিছু কাস্টম কর্মকর্তার ঐচ্ছিক কার্যক্রমের ওপর ব্যবসায়ীদের নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক ব্যয় ও সময় কমানোসহ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আসবে যা, বাজেট বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। কারিগরি শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষায় জাতি এগিয়ে আসতে পারলেই বিদেশে আমাদের কর্মসংস্থানের মান বৃদ্ধিসহ রেমিটেন্সের প্রবাহ কয়েকগুণ বাড়বে।