বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভাবখানা এমন যেন মেগা প্রকল্পের টাকা তাঁর পরিবারের : ছালাম প্রসঙ্গে নাছির (ভিডিওসহ)

প্রকাশিতঃ বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯, ১০:১৪ অপরাহ্ণ

হিমাদ্রী রাহা : সমন্বয়হীনতার কারণে মেগাপ্রকল্প এখন সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যানের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। হয়ত উনি সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বাহবা নিয়েছেন। কিন্তু সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া এতো হাজার কোটি টাকার প্রকল্প টেকসই হবেনা। উনার ভাবখানা এমন যেন মেগা প্রকল্পের টাকা তাঁর পরিবারের। উনি গণমাধ্যম ডেকে নিজের মুখে বলেছেন এই বছর ৩০% জলাবদ্ধতা দূর হবে। কিন্তু বাস্তবে কি হলো? জনগন তো এসব মনে করিয়ে দিচ্ছে। উনি যদি সবার সাথে সমন্বয় করে কাজ করতেন তাহলে নগরবাসীকে আজকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

সম্প্রতি একুশে পত্রিকাকে নগরীর জলাবদ্ধতা ও মেগাপ্রজেক্ট প্রসঙ্গে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সমালোচনা করে মেয়র আরো বলেন, তিনি শুধু প্রকল্প এনেছেন আর নিজের ছবি ছাপিয়ে তা প্রচার করেছেন। কিন্তু এই শহরে এতো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান তাদের কারো সাথে তিনি আলোচনা করেননি। উনি মনে করতেন আলোচনা করলে কৃতিত্ব শেয়ার হয়ে যাবে। কই শহরে অনেক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান যেমন ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ নানা প্রতিষ্ঠান আছে। তারাও তো কোটি কোটি টাকার প্রকল্প পায়, কই তারা তো ছবি ছাপিয়ে তা প্রকাশ করে না।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরীর অনেক পুরানো সমস্যা। সেই পাকিস্তান আমল থেকেই এই সমস্য চলমান। তখন এখনকার মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এতো প্রচার ও প্রসার ছিলো না। এতো জনসংখ্যা ছিলো না। তাই জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে খুব একটা মাতামাতি হয়নি। কিন্তু তারপর থেকে যতই দিন গড়িয়েছে ততই এই সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন। এই অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণেই জলাবদ্ধতা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, যেহেতু জলাবদ্ধতা এই নগরীর প্রধান সমস্যা ও এর কারণে অর্থনৈতিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তাই মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে আমি জনগণকে বলেছিলাম জলাবদ্ধতা নিরসনে আমি সর্বোচ্চ কাজ করে যাবো। সেই অনুযায়ী দয়িত্ব নেয়ার পর আমি কাজ করছিলাম। কিন্তু এরই মাঝে জানতে পারলাম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং তা একনেকে উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু কোনো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে তা অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সিডিএ তা করেনি।

এটার মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষাও করা হয়নি। যা হোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের অনুমোদন দেয় এবং পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করে দেয়। এরই মধ্যে দুই বছর পেরিয়ে গেছে। মেয়াদ কিন্তু আগামী বছরের (২০২০ সাল) জুনে শেষ। সে হিসেবে সময় কিন্তু আর বেশি নেই। সময় শেষ হয়ে আসলেও প্রকল্পের কোনো সুফল আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

মেগাপ্রজেক্ট প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সাথে মেগা প্রকল্পের সবগুলোই অনুমোদন দিয়েছেন। দ্রুততার সাথে অর্থছাড়ও করিয়েছেন। কিন্তু যারা কাজটি বাস্তবায়ন করছে তারা জনগণকে কোনো সুফল দিতে পারছে না। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগরবাসীকে শুধু আশারবাণীই শুনিয়েছে। এটা নিয়ে জল ঘোলা করা হয়েছে। রাজনীতি করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে যে মেগাপ্রজেক্ট সে মেগাপ্রজেক্টে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের যদি কীভাবে কাজ করা হবে তা বুঝিয়ে দেয়া না হয় তাহলে তারা কীভাবে কাজ করবে? প্রশ্ন রাখেন মেয়র।

জলাবদ্ধতা প্রকল্পে অনেকগুলো কাজ রয়েছে। যেমন খাল থেকে মাটি উত্তোলন, ৫৮টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল খনন, রিটেইনিং ওয়াল, রাস্তা নির্মাণসহ অনেক কাজ। এসব কাজ তো সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া করা সম্ভব না। এছাড়াও শহরে কোনো পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। এতোসব বিষয় পরিকল্পনা না করেই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়া প্রসঙ্গে নাছির বলেন, ১৯৯৫ সালে বিশ বছর মেয়াদী একটি ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান নেয়া হয়েছিলো। আমি দায়িত্ব নিয়েছি ২০১৫ সালে। কিন্তু এই ২৪ বছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিন্দুবিসর্গও করা হয়নি। ফলে দিনে দিনে জলাবদ্ধতা আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে মেয়র নাছির বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু প্রকল্প নয়, জনসম্পৃক্ততাও জরুরী। জনগণ তদের গৃহস্থালী বর্জ্য থেকে শুরু করে কল কারখানার বর্জ্য সবগুলোই নালা-নর্দমা ও খালে ফেলে দেয়। এটা বন্ধ করতে হবে। তাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। তারা নিজেরা যদি সচেতন না হয় তাহলে জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে যারা খাল-নালা দখল করে দোকানপাট করেছেন তাদের কয়বারই বা উচ্ছেদ করা যাবে? তবে আশার কথা হলো সাবেক চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার পর নতুন যে সিডিএ চেয়ারম্যান এসেছেন তিনি সেনাবাহিনীকে নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছেন। আমিও ৪১ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের বলে দিয়েছি যাতে তারা সেনাবহিনীর যে কোনো কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। আশা করছি শীঘ্রই নগরবাসী জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে।

একুশে/এইচআর/এসসি