শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

‘শুধু বিদেশীদের টাকায় জলবায়ুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না’

প্রকাশিতঃ শনিবার, আগস্ট ৩, ২০১৯, ৬:১৫ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : গাছ কাটা, পাহাড় কাটা বন্ধ না করলে শুধু বিদেশীদের টাকায় দেশের জলবায়ুর উপর পড়া নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবেনা বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার।

শনিবার বিকেলে নগরের শেরশাহ সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটিতে সেইভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশ বায়েজিদ বোস্তামী থানা শাখার আয়োজনে বৃক্ষরোপন, বৃক্ষ বিতরণ ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার বলেন, আমরা ভাগ্যবান। কারণ আমাদের সৌদি আরবের মত একটি গাছ লাগাতে কোটি টাকা খরচ করতে হয় না। আমরা একটি বীজ বপন করে দিলেই নিশ্চিত সেটি গাছ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে কিছু পরিচর্যার মাধ্যমে। আজকে এই সৌভাগ্যকে আমরা নিজেদের আচরণের কারণেই দূর্ভাগ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। পাহাড় কাটছি, গাছ কাটছি নির্বিচারে। শিল্পায়নের কারণে কার্বন নিঃসরণের ফলে জলবায়ুর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, বিদেশী টাকা দিয়ে আমরা জলবায়ুর এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পাবো না। ষোল কোটি মানুষ যদি একটি করে প্রতিবছর গাছ লাগাই, তবেই জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবকে মোকাবেলা করতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশ সারাদেশে পরিবেশ রক্ষায় যে যুদ্ধে নেমেছে সে যুদ্ধে আমরাও শামিল হই। আমরা অঙ্গীকার করি, গাছ লাগাবো, দুঃখ ঘুচাবো। গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জালালাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, সেভ দ্যা নেচার বাংলাদেশ বায়েজিদ শাখার পরিবেশ সচেতনতার এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। কারণ শিক্ষার্থী বা তরুণদের হাতেই এ দেশটা অর্পণ করবো আমরা। তরুণরাই এখন প্রতিটি দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে এগিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, একসময় এ দেশ গাছে পরিপূর্ণ ছিল। এখন গাছ কমছে। জীবন বাঁচাতে গাছ রক্ষার বিকল্প নেই। ঘরে ঘরে ছাদ বাগান, বারান্দায় বাগান, পতিত জমিতে গাছ রোপনের মাধ্যমে শহর এলাকায় প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। এতেই এই নগরী দীর্ঘ সময় ধরে বাসযোগ্য হবে।

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি স্বপন কুমার মল্লিক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ুতে নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান। বাংলাদেশ ছিল ষড়ঋতুর দেশ। এ দেশে এখন শীতকালে শীত নেই, বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই। অনাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে কৃষিতে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হল বনায়ন।

তিনি বলেন, আজকে এই তরুণদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন দেশের পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে দিকনির্দেশক হিসেবেই ভূমিকা পালন করবে। কারণ তরুণরাই পারে যেকোনো সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণের দিকে নিয়ে যেতে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, স্রষ্টা এ পৃথিবীকে ভারসাম্য রেখে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মানুষ এই ভারসাম্য নষ্ট করছে পাহাড় কেটে, গাছ কেটে।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ ছাত্র-ছাত্রীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে তারাই। এখন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সোনালী সময়। এখন মেধাবী শিক্ষার্থীর অভাব নাই। কিন্তু ভাল মানুষের অভাব আছে। সচেতন নাগরিকের অভাব আছে। মানবতার উপকার করার মানুষের অভাব আছে৷ পরিবেশকে রক্ষায় কাজ করাও কিন্তু মানবতার জন্য কাজ করা। পরিবেশ রক্ষায় বায়েজিদ এলাকার তরুণদের এ উদ্যোগ দেশকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।


তারেক আহমেদ রানার সঞ্চালনায় ও মাহফুজুল ইসলাম রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুব, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা সোহরাব হোসেন সৌরভ, স্কুল শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ও বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে গাছ রোপণ করেন।