সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

সাগরপথে আসছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯, ২:১৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে টেকনাফের স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে।

প্রতিদিন টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে ট্রলার ভর্তি পেঁয়াজ আমদানি করছেন টেকনাফের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক। এসব পেঁয়াজ কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে টেকনাফ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হলেও সুফল পাচ্ছেনা টেকনাফবাসী। এছাড়া মিয়ানমারের এই পেঁয়াজ টেকনাফের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি না করার অভিযোগও রয়েছে। যার ফলে টেকনাফে ব্যবসায়ীদের হাতে মজুদ থাকা পেঁয়াজ এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই কারণে মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে পেঁয়াজ। একটি হচ্ছে, ভারতে টন প্রতি ৮৫০ ডলার হলেও মিয়ানমারে পেঁয়াজের দাম এখন পর্যন্ত ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

টেকনাফ কাস্টমস সুত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসে আমদানি হয়েছে শুধুমাত্র ৮৪ এর বেশি মেট্রিক টন পেঁয়াজ। কিন্তু (১৮ সেপ্টেম্বর) বুধবার পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে প্রায় ৩৯২ মেট্রিক টন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও বাজারের চাহিদা পূরণ করতে আরো প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলেও জানা যায়।

আমদানিকারকরা বলছে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রায় সাড়ে ৯শত মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ করেছেন। এর মধ্যে মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর থেকে পেঁয়াজ বোঝাই ৪টি ট্রলারে আরো ১৫০ মেট্রিক টনের মতো পেঁয়াজ সমুদ্রপথে আছে। দু-তিন দিনের মধ্যে সেগুলো স্থলবন্দরে এসে পৌঁছাতে পারে। এরপর পেঁয়াজগুলো খালাস করে দেশের অভ্যন্তরে নেওয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।

টেকনাফ স্থল বন্দরের ব্যবসায়ী মেসার্স জিন্নাহ এন্ড ব্রাদার্সের সত্ত্বাধিকারী মোঃ শওকত আলী জানান, মিয়ানমারের বাজারেও মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় এবং পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধিতে স্থানীয় বাজারেও মুল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবারেও প্রায় ২শ’ টন পেঁয়াজ আমদানি ও দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলতে রাজি হননি এবং বন্দরের অভ্যন্তরে ভিডিও বা ছবি তুলতে বাধা প্রদান করেন।

টেকনাফ স্থলবন্দর কাস্টম্স সুপার আবছার উদ্দিন জানান, সরকারি নির্দেশনা থাকায় বন্দর ও কাস্টমসের যাবতীয় কার্যক্রম অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ দেশের বাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্দরের অভ্যন্তরে কোনো পেঁয়াজ জমা রাখা হচ্ছেনা।

একুশে/এসসি