শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

জন্মদিন উপলক্ষে খাবার নিয়ে এতিম-দুঃস্থদের দুয়ারে এক তরুণ

| প্রকাশিতঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৯:০৯ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : এখনকার তরুণের জন্মদিন পালন মানেই জম্পেশ খাওয়া-দাওয়া, দলবেধে ঘুরে বেড়ানো, নাচ-গানের জৌলুস কিংবা বিলাস-ব্যসন। সেই বিলাসী কিংবা চাকচিক্য জন্মদিন পালনের স্রোতে গা না ভাসিয়ে নগরের এক তরুণ তার জন্মদিনে স্মরণ করলেন অনাথ-দুঃস্থ শিশুদের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনাথ শিশুদের খুঁজে বেড়িয়েছেন নগরের অলি-গলি। তাদের নিয়ে আয়োজন করেছেন দোয়া-দরুদ ও মিলাদ মাহফিল।

বলছিলাম মানবিক তরুণ মোস্তফা নূর বিপ্লবের কথা। স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এ তরুণ আগ্রাবাদ দাইয়াপাড়ার সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ’আলোকবর্তিকার’ সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু ছাত্রপরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সহ সভাপতি।

শনিবার ছিল (১৯ সেপ্টেম্বর) তার ২৯ তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে গতানুগতিক আড়ম্বরে যুক্ত না হয়ে বিপ্লব ভিন্ন আঙ্গিকে, ব্যতিক্রমী আয়োজনে পালন করলেন দিনটি। রাত জেগে বাবুর্চি দিয়ে তৈরি করলেন ৫শ’ বিরানীর প্যাকেট। এরপর আজ সকাল থেকে ছুটেছেন দাইয়াপাড়া এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসায় আশ্রিত এতিমদের দুয়ারে দুয়ারে। স্থানীয় বস্তিগুলোতেও বিতরণ করেছেন খাবার-প্যাকেট।

এরপর দুপুরের দিকে যান নগরের পাথরঘাটায় অবস্থিত গাউছিয়া তৈয়্যবিয়া হেফজখানা ও শাহ আমানত (রহ.) এতিমখানায়। সেখানে নিজে উপস্থিত থেকে শতাধিক এতিম শিশুর মুখে খাবার তুলে দেন। শিশুদের নিয়ে শরীক হন দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে। এসময় জীবদ্দশায় মানবকল্যাণে, সমাজের সকল ভালো কাজে মোস্তফা নূর বিপ্লব যেন আরো বেশি করে সম্পৃক্ত হতে পারেন সৃষ্টিকর্তার কাছে সেই প্রত্যাশার হাত তুলে মুনাজাত করা হয়।

গতানুগতিক বিলাসী, ভোগের জন্মদিন পালনে না গিয়ে কেন এমন আয়োজন-উদ্যোগ, জানতে চাইলে তরুণ সংগঠক মোস্তফা নূর বিপ্লব একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের তৃণমূলকর্মী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, এই দুখিনী বাংলায় আমার জন্মদিনও কী, মৃত্যুদিনও কী?  বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান যদি তাঁর জন্মদিনে এমন উক্তি করতে পারেন সেখানে আমার মতো একজন নস্যি, সামান্য কর্মীর জন্মদিন পালন বেমানান।

তাই আমি কখনো ঘটা করে জন্মদিন পালন করি না। প্রতিবছর ঘরোয়া পরিবেশে দোয়া-দরুদ পড়ে দিনটি পালন করলেও এবারই প্রথম চিন্তা করলাম আমার তো ছোটখাটো সামর্থ্য আছে। সেই সামর্থ্য দিয়ে আমি তো অনাথ-অসহায়দের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিতে পারি। যেই ভাবা সেই কাজ। ৪-৫ দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে আজ সেই কাজটি ভালোভাবে শেষ করলাম। আজকের দিনটি দুঃস্থ-এতিমদের জন্য উৎসর্গ করে দিলাম। বলেন বিপ্লব।

প্রসঙ্গত, তরুণ সংগঠক মোস্তফা নূর বিপ্লব সমাজ ও মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে প্রায়শ নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন। গত জুন মাসে নগরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষদের মাঝে ৩-৪ দিন ধরে রান্না করা খাবার বিতরণ করে আলোচনায় আসেন তিনি।