শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

তিনি হুইপ, তাই সচিব অফিসে চলে আসে, ইঞ্জিনিয়াররা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে!

| প্রকাশিতঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১১:৫২ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রাম: পতাকা থাকলে কাজ করতে সুবিধা, সচিব অফিসে চলে আসে, ইঞ্জিনিয়াররা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। মন্ত্রী হলে একটা মন্ত্রণালয় চালান। আর তিনি ‘মন্ত্রীর’ মর্যাদায় হুইপ। একসঙ্গে ৬টি মন্ত্রণালয় মনিটরিং করেন তিনি।

চট্টগ্রামের পটিয়া আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এমনতর আত্মম্ভরিতা ও আত্মতুষ্টির একটি অডিও ক্লিপ একুশে পত্রিকার হাতে এসেছে।

শুরুতে সামশুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর মেয়ে আমাকে তিনবার নমিনেশন দিয়েছে। পটিয়ার মানুষ তিনবার আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে। এবার পাশের আনোয়ারায় (ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আনোয়ারা আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ) পতাকা দিয়েছে, পটিয়ার মানুষ রাগ করবে বলে, এবার বলে পটিয়াকেও একটা পতাকা দিই।

তিনি বলেন, পতাকাটার কাজ কী? পতাকা থাকলে কাজ করতে অনেক সুবিধা। টেলিফোন করলে সচিব অফিসে চলে আসে। ইঞ্জিনিয়ার দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। আমি এখানে আসবো শুনে রাস্তায় যে গর্ত হয়েছে সেগুলো ভরাট করে দিয়েছে। পতাকা আমার না, পতাকাটা তোমাদের, পটিয়ার জনগণের।

‘পতাকাটা যখন উড়ে.. ওহ.. তোমরা তো হুইপ সাহেবের এলাকার মানুষ। যেমন আনোয়ারার মানুষকে বলা হয়, তোমরা তো মন্ত্রী সাহেবের এলাকার মানুষ। তাকে মন্ত্রণালয় একটাতে বসানোয় মন্ত্রী বলে। আর আমাকে ‘মন্ত্রীর’ মর্যাদায় সংসদে বসিয়েছে। আমি ছয়টি মন্ত্রণালয় মনিটরিং করি। তারা একটা একটা মন্ত্রণালয় করে। তারা কী করে না করে, তাদের আইন পাস- থেকে সবকিছু (আমি মনিটরিং করি)। তাদের মন্ত্রীদের আমার সাথে কথা বলতে হয়।

‘পানি উন্নয়ন বোর্ড-এ আমার ফাইল একটাতে লেখা হয়েছে সমীক্ষা করা হোক। ওই যে সে দিন এগুলোর দায়িত্বে গিয়েছি, বলে স্যার, এর চেয়ে ভালো কাজ আর নেই। ..টেন্ডার করি দিই। বুঝছো? ..খালের উপর বেড়িবাঁধ হবে ৩৭০ কোটি টাকা, সিলমাইয়ের হচ্ছে হাইড্রোলিক রাবার ড্যাম। দৌড়াদৌড়ি করে কাজ হয়ে যাচ্ছে।’

হুইপ সামশুল বলেন, আমি আগে যে রকম ছিলাম। এখনো সে রকম আছি। পরিবর্তন হয়নি। আমি আগেও মানুষের সাথে যে রকম ছিলাম.. দরজা খোলা.. এখনো সেরকম আছি। আমি পটিয়া আসলে অফিসে বসি। শহরে অফিসে বসি। এখানেও বসি। কাল-পরশু থেকে বলে দেব, পুলিশ যেন আমার সাথে না থাকে। আমি নিজে নিজে একটু ঘুরতে পারছি না। কোন জায়গায় গেলে একটা বাথরুম করবো.. সেখানেও পুলিশ গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যেন আমাকে কেউ মেরে ফেলতেছে। আমি পুলিশ ছাড়া আগে হাঁটিনি? আসিনি?

‘এখন ওই বাংলাদেশের পতাকা একটা গাড়িতে লাগিয়েছে সেজন্য পুলিশ থাকছে। আমি আসার আগে বাসার সামনে এমনিতে দারোয়ান আছে, আনসার আছে। তারপরও বাসার সামনে দেখতেছি মহানগরের পুলিশের ৭-৮ জন এসে বসে আছে। আমি বললাম, তোমরা এসেছো কেন? আমার তো শরম লাগছে। বলে দিলাম, তাদেরকে চা-নাস্তা খাওয়ানোর জন্য।

তিনি বলেন, এমপি মানে জনগণের প্রতিনিধি। সরকারের সাথে বাগবিতণ্ডা করে কাজ আনতে পারে। আর হুইপ হচ্ছে মন্ত্রী। তারা হচ্ছে রাষ্ট্র, বাংলাদেশ সরকার। রাষ্ট্রের যখন হয়ে যাবে, তাকে তারা সেভাবে গাইড করে। আমার কাছে এগুলো ভালো লাগে না। আমি আগের মতো জনগণের সাথে শুয়ে, বসে কথাবার্তা বলতে পারলে, মুড়ি-নারিকেল-নাড়ু খেতে পারলে ভালো লাগে।

‘কেলিশহরে ভোটের সময় গিয়ে দেখলাম, এক মাসি নাড়ুর মুলা বানাচ্ছে। আমি বললাম, মাসি কী বানাচ্ছেন? বলে, খাওয়ার জন্য দুটো নিন। পরে হাতে দিয়েছে। আমি বললাম, অনেক মজা হয়েছে। মাসি বলে, আমি তোমার জন্য বানিয়ে পাঠাব। মাসি এক বাক্স বানিয়ে পাঠিয়েছে। বলেনি যে, তুমি এমপি হলে পাঠাবো। ছেলেকে গিয়ে মুলা পাঠালো। আমি বলেছি, কালকে সকালে মানুষ আসবে তাদের খাওয়াবো। আমিও একটা খাবো। আমার তো ডায়বেটিস, খেতে পারি না। তো মানুষের সাথে আমার যে সম্পর্ক সেটা থাকবে। তোমরা কী জন্য ভয় পেয়েছো, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। কি জন্য তালা মেরে সবাই ঘর থেকে চলে গেছেন?’

হুইপ বলেন, সবাই দোয়া করবেন। যাতে যতদিন বেঁচে থাকি, ততদিন মানুষের সেবা করে, আমি যেন দুনিয়া থেকে যাই। সারাজীবন এমপি থাকবো এমন কোন কথা নেই। আমি এখন ঠিক করেছি, আর কিছুদিন পরে শেখ হাসিনা যখন চলে যাবে, আমিও চলে যাবো। এতদিন পারবো না, একটু বিশ্রাম নেব। ঘরে বসে খেয়ে-দেয়ে কাটাব।

উপস্থিত একজন এ সময় বলে উঠেন, আরো ৩০ বছর আপনাকে মন্ত্রীত্বের মধ্যে দেখতে চাই।

হেসে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, দেখেন তো, আমি বাঁচবো এতদিন? আমার বয়স এখন ৬২ বছর। আচ্ছা যাক, দোয়া করো বাঁচলে আছি। আর না বাঁচলে নাই। অন্তত পক্ষে একজন মানুষ যদি চোখের পানি ফেলে বলে, মানুষটা বড় ভালো ছিল। এটাই আমার জন্য স্বর্গ, এটাই আমার জন্য বেহেস্ত। এর চেয়ে বেশী পাওয়ার কিছু নেই। আমি দুর্নীতি করি না। আমি সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিই না। চাঁদাবাজের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। আমি আমার মতো জনগণের সাথে আছি।

https://www.facebook.com/EkusheyPatrika/videos/2549279895306887/?t=2

একুশে/এসআর/এটি