চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। বুধবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম কলেজের পশ্চিম ফটক এলাকায় দফায় দফায় এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। পরে ফাঁকা গুলি ও লাটিচার্জ করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে নগরীর চকবাজারের প্যারেড মাঠে নিজামীর গায়েবানা জানাজার ঘোষণা দেয় জামায়াত। তবে গায়েবানা জানাজা ঠেকাতে দুপর ১২টা থেকে প্যারেড মাঠ এলাকায় অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরও গায়েবানা জানাজার প্রস্তুুতি নেয়। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজের পূর্ব গেট ও কেয়ারি কর্নারে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ফলে মুহুর্তেই মধ্যেই প্যারেড মাঠের আশেপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দোকানপাট বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্যারেড মাঠের আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
একপর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে প্যারেড মাঠ সংলগ্ন চট্টগ্রাম কলেজের পূর্ব ফটকের পাশের সড়কে নিজামীর গায়েবানা জানাজার জন্য জড়ো হয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় নিজামীর জানাজা প্রতিহত করতে আসা ছাত্রলীগের কর্মীরা কলেজের পশ্চিম গেইটে অবস্থান নিয়ে জানাজা প্রতিহত করা নিয়ে মাইকে স্লোগান দিতে থাকে। উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় কলেজের পশ্চিম ও পূর্ব ফটক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। চট্টগ্রাম কলেজের পূর্ব ফটকের পাশের সড়কে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলামের ইমামতিতে নিজামীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে শিবিরের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম কলেজের পূর্ব ফটকের গেট ভেঙ্গে কলেজ সংলগ্ন প্যারেড মাঠে ঢুকে পড়ে। এসময় পশ্চিম ফটকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে তারা। কলেজ চত্বরে শিক্ষকদের তিনটি ও পুলিশের একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এতে মাইক ফেলে পিছু হটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এসময় উভয়পক্ষকে লাটিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পরে সংগঠিত হয়ে শিবির কর্মীদের ধাওয়া দেয় ছাত্রলীগ। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে প্যারেড মাঠে অবস্থান নেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর আমির আ ন ম শামসুল ইসলামের ইমামতিতে সেখানে দ্বিতীয় দফা গায়েবানা জানাজা শেষে নেতাকর্মীরা চলে যান।
চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ বলেন, নিজামীর গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে করে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুস্কৃতকারীরা। উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে আমরা সক্ষম হই। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত।