শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

আকাশ-প্রদীপ উত্তোলনে আনন্দ যেমন ঝুঁকিও তেমন

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ


বান্দরবান প্রতিনিধি : বৌদ্ধ সম্প্রদায়ে ফানুস বাতি আকৃতি দেখতে বিভিন্ন ধরনের। কিন্তু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ে পরিভাষায় এর অপর নাম হল, ‘আকাশ-প্রদীপ’।

রাজকুমার সিদ্ধার্থ (পরবর্তীতে গৌতম বুদ্ধ) জাগতিক সকল দুঃখমুক্তি লাভের আশায় রাজ্য, রাজত্ব, ভোগ-বিলাস, ধনকুম্ভ সব ত্যাগ করে সংসার পরিত্যাগ করেছিলেন শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে। তিনি সারথি ছন্দককে সঙ্গে নিয়ে অশ্ব কন্থকের পিঠে চড়ে অনোমা নদীর তীরে পৌঁছলেন। রাজ-আবরণ ছন্দককে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি সন্যাস-ব্রত গ্রহণ করলেন। এরপর ভাবলেন, ‘আমি এখন সন্যাসী, রাজকীয় বাহারি চুল কী-বা প্রয়োজন?’

তরবারি দিয়ে চুলের গোছা কেটে নিয়ে মনে মনে অধিষ্ঠান করলেন, ‘যদি বুদ্ধ হওয়ার মতো গুণ আমার মধ্যে থেকে থাকে তাহলে উর্ধ্বদিকে নিক্ষিপ্ত চুলের গোছা মাটিতে না পড়ে আকাশে স্থিত থাকুক। এই সংকল্প করে তিনি চুলের গোছা উপরের দিকে নিক্ষেপ করলেন। বড়ই আশ্চর্যের ব্যাপার! একটা চুলও মাটিতে পড়ল না।

বৌদ্ধধর্ম মতে, স্বর্গের ইন্দ্ররাজা চুলগুলো হীরা, মণি, মানিক্যখচিত স্বর্ণপাত্রে ধারণ করে তাবতিংস স্বর্গে উক্ত কেশ-ধাতু স্থাপন-পূর্বক একটি চৈত্য নির্মাণ করেন এবং এই চৈত্যের নাম রাখা হয় ‘চুলামনি চৈত্য’। স্বর্গের দেবতারা এখনও এর পূজা করে থাকেন।

কিন্তু মর্ত্যের বুদ্ধভক্ত পূজারীরা স্বর্গে তো আরোহণ করতে পারেন না। তাই তারা পরম শ্রদ্ধায় রং কাগজে ফানুস তৈরি করে একটি বিশেষ দিনে ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে চুলামনি চৈত্যকে পূজা করার উদ্দেশ্যে আকাশ-প্রদীপ উত্তোলন করে থাকেন। ধর্মীয় মন্ত্র পাঠ করে উৎসর্গ করে খালি পায়ে বৌদ্ধরা আকাশ প্রদীপ উড়িয়ে দেন। মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সাধু-ধ্বনির সুরে সুরে ফানুস উড়ানো হয়।

আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অনেক সময় ফানুস ওড়ানোর পরিবেশ এবং সুযোগ কোনোটিই থাকে না। তাই প্রবারণা পূর্ণিমা বা আশ্বিনী পূর্ণিমায় দিনে ফানুস ওড়ানো হয়। ফানুস কোনো বেলুন নয় যে, যখন-তখন যেমন তেমনভাবে মনের আনন্দে ওড়ানো যাবে। এখানে পালনীয় অনেক বিধি-বিধান আছে। তাই প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে শত শত ফানুস উত্তোলন করার প্রয়োজন আছে কিনা এটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করি।

বিশেষজ্ঞ দের মতে, আকাশ-প্রদীপ উত্তোলনে আনন্দ যেমন তেমন ঝুঁকিও আছে। ফানুসের আগুনে ঘরবাড়ি কিংবা সম্পদের ক্ষতি হওয়ার ইতিহাসও রয়েছে। তাই বলে আমরা আমাদের সংস্কৃতিকেও ভুলে যেতে পারব না। তবে একটি নিয়মের মধ্যে ফিরতে হবে। আকাশ-প্রদীপ উত্তোলনের সময় আমাদের পূর্ণ দায়িত্বশীল হতে হবে। যে কেউ যেমন তেমনভাবে যেন আকাশ প্রদীপ উত্তোলন না করেন। আর ফানুস যাতে উত্তোলন করা মাত্র পড়ে না যায় এ ব্যাপারেও সতর্ক হতে হবে। আগুন নিয়ে যেন খেলা না হয়।