সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬

আমাদের আমলাকে থাকতে হবে গামলার মতো মুখ করে!

প্রকাশিতঃ বুধবার, নভেম্বর ৬, ২০১৯, ৬:১৯ অপরাহ্ণ


শেখ মোহাম্মদ জুলফিকার বিপুল : আজ সকালে একুশে পত্রিকায় পড়লাম চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমানকে নাচ, গান করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, গাড়িতে বন্ধুর সাথে করা তার একটা গান (সাথে হালকা নাচ) ভাইরাল হলে এটা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। চাটগাঁইয়া গানটার বাংলা হচ্ছে- ‘তুমি আমাকে মধু বলে বলে বিষ খাইয়ে দিয়েছো…’

যাই হোক, একবার ওকলাহোমায় ফ্রেসম্যান ইয়ারে এক ক্রেডিটের একটা ওরিয়েন্টেশন ক্লাস করতে হয়েছিল। সেটা ছিল আমার প্রথম ক্লাস। ক্লাস টিচারের নাম- রেজিনা রেইনি। ভদ্রমহিলা ছিলেন মিউজিক লাভার, আর পছন্দ করতেন উইয়ার্ড ড্রেস-আপ করতে। প্রথম দিন ক্লাসে এলেন মাথায় গোলাপি উইগ পরে আর হাতে একটা ড্রাম, কখনো থাকতো গিটার অথবা হারমোনিকা- মাঝে মাঝে তিনি আমাদের ক্লাসরুমের বাইরে মাঠে নিয়ে যেতেন, তখন সাথে থাকতো তার ভাল্লুকের মতো বিরাট এক কুকুর…

আমার মাঝে মাঝে মনে হতো রেজিনা রেইনির মাথায় কোনো একটা গন্ডগোল আছে, কিন্তু তিনি নিজে বা ইউনির্ভাসিটি অথরিটি সেটা ধরতে পারছেন না। পরে বুঝেছিলাম ক্লাসের শুরুতে তিনি ইচ্ছা করেই এসব হাসাহাসি করতেন- যাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকায় পড়তে আসা স্টুডেন্টসরা স্ট্রেস ফিল না করে ক্লাস শুরু করতে পারে। প্রথমে রিল্যাক্স হওয়া তারপর পড়া।

সেসময় মনে পড়েছিল আমার স্কুলের কথা- যেখানে স্যার ক্লাসে ঢুকছেন ডাবল বেত হাতে নিয়ে আর দাঁত কিড়মিড় করে বলছেন- আজকে যেই ব্যাটা পড়া পারবে না তারে খাইছি…। শুনেছি ওই ডাবল বেতে উনি মাঝে মাঝে তেল মাখেন আর একটা চাবিওয়ালা ড্রয়ারে সেটা রাখেন। বিশেষ বিশেষ সময়ে এটা বের করেন। তো এই রকম একটা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে গিয়ে আমার যে রেজিনা রেইনিকে লুনি মনে হবে এটাই স্বাভাবিক।
একই চিন্তার কারণে আমাদের সিভিল সার্জন মহাশয়কেও আমাদের যে লুনি মনে হবে এটাই স্বাভাবিক।

আমরা বরং হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা একজন- যাকে সরাতে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীরা মার খাচ্ছে তাকে মেনে নিতে পারি কিন্তু একজন রেজিনা রেইনি বা আলোচ্য সিভিল সার্জনকে কখনই না।

পড়াশোনার বাইরে এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটি হিসেবে শুধুমাত্র স্যাক্সোফোন বাজাতে পারতো বলে বিল ক্লিনটন প্রেস্টিজিয়াস রোডস স্কলারশিপ পেয়েছিলেন বলে শুনেছি। আমরা হয়তো বলতাম- ব্যাটা বখে গেছে…

তবে আরো শুনলাম ডা আজিজুর রহমান শুধু গাড়িতেই গান করেননি- সুমিংপুলে শর্টস পরেও আরেকটি গান করেছেন। হিন্দি গানটির বাংলা হচ্ছে- “আমার আঙ্গিনায় তোমার কাজ কী…” যেটা কর্তৃপক্ষের কাছে খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে। এতবড় দায়িত্বশীল পদে থেকে কোটি টাকা দুর্নীতি করলেও না হয় কথা ছিল, তা না করে বচ্চনের গান! অসহ্য অসহ্য! আমাদের আমলাকে থাকতে হবে গামলার মতো মুখ করে। কলোনিয়াল রটেন মাইন্ড সেটাই এলাউ করে।

বাঙালিরা ঠিক বেরসিক না হলেও কট্রাডিকশনে ভরা। ওই যে লোকটার মতো- হুঁকোমুখো হ্যাংলা বাড়ি তার বাংলা মুখে তার হাসি নাই দেখেছ?…

নিত্য দুর্নীতির বিভিন্ন ঘটনা না হয় সহ্য করা যায়, তাই বলে নাচ গানের মতো স্থুল একটা ব্যাপার? নো নো…