শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বিনামূল্যে রোহিঙ্গাসহ ১ লাখ ২০ হাজারের বেশী রোগীর চোখের চিকিৎসা

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: কক্সবাজারে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাসহ এবং স্থানীয়দের মাঝে দুই দিনব্যাপী জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং বিশ্বব্যাপী সেবা প্রদানকারী সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনালের বিনামূল্যে চশমা বিতরণ রোববার সম্পন্ন হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে সমাপণী দিনে রোববার সকালে উখিয়া ক্যাম্পে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শামসুদ্দৌজা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় বাংলাদেশীদের দৃষ্টিশক্তি উন্নয়নে কাজ করছে ইউএনএইচসিআর, ফুজি অপটিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড ও অরবিস ইন্টারন্যাশনাল। এ রকম আরো সহায়তা আমাদের প্রয়োজন। এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের ইউএনএইচসিআর’র সাব-অফিসের প্রধান মারিন কাইদুমচাই, অরবিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মুুনির আহমদ উপস্থিত ছিলেন। ড. মুুনির আহমদ বলেন, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় ১ লক্ষ ২০ হাজেরেরও বেশী চোখের স্ক্রিনিং করা হয়েছে এবং ২৮শ’ এর বেশী রোগীর ক্যাটারাক্ট সার্জারী করা হয়েছে। এছাড়া ২০ হাজেরের বেশী রোগীকে ওষুধ এবং ৯ হাজারের বেশী চশমা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ৭৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা সম্পর্কে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয়দের জন্য ফুজি অপটিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড ইউএনএইচসিআরকে ১৫শ’টি চশমা অনুদান দেয়। এই অনুদানটির সাথে ২০১৭ সালে পাওয়া ১ হাজার চশমা মিলে মোট ২৫শ’ চশমা হয়েছে। উখিয়ার ক্যাম্প এবং স্থানীয়দের জন্য পরিচালিত ‘আই কেয়ার প্রোগ্রাম’র এর অংশ হিসেবে এগুলো অরবিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফুজি অপটিক্যাল হাজার হাজার শরনার্র্থীর স্পট দৃষ্টি নিশ্চিত করতে ১৯৮৪ সাল থেকে ইউএনএইচসিআর সাথে কাজ করে আসছে। শরণার্থী এবং স্থানীয়দের চক্ষু সেবা দিতে ২০১৮ সালে কক্সবাজার বায়তুর শরফ হাসপাতাল (সিবিবিএসএইচ) এর সাথে অরবিস কাজ শুরু করে।

এর মধ্যে আউটরিচ প্রোগ্রাম, স্কুলে দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা কার্যক্রম এবং শিশুবান্ধব স্পটগুলোতে স্ক্রিনিং। যার ফলে বালুখালী-১১ তে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার এবং উখিয়া স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ভিশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সিবিবিএসএইচ শরনার্থী এবং স্থানীয়দের জন্য একটি এম্বুলেন্স পেয়েছে, যেটি সব ধরণের সুবিধা এবং যন্ত্রপাতি সম্বলিত।