শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চালের মজুত পর্যাপ্ত, মূল্য বৃদ্ধির কারণ নেই : খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ


ঢাকা: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, চালের মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। অযৌক্তিকভাবে চালের দাম বৃদ্ধি করা হলে তা সহ্য করা হবে না।

আজ বুধবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত চালকল মালিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দেশে বছরে চালের চাহিদা প্রায় ২ কোটি ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। বছরে চালের উৎপাদন প্রায় ৩ কোটি ৪৪লাখ মেট্রিক টন। এ মুহূর্তে সরকারের বিভিন্ন গুদামে খাদ্য মজুদ রয়েছে প্রায় ১৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৭০৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১১লক্ষ ১৩ হাজার ৩০৩ মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, ধানের দাম বৃদ্ধি পায়নি, তাই চালের দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাবে না। ধানের দাম বৃদ্ধি পেলে কৃষক কিছুটা লাভবান হতো কিন্তু তা হয়নি। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষক লাভ পাবে না কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা সব লাভ নিয়ে যাবে সেটা চলতে দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিভিন্ন টিম মাঠ পর্যায়ে চালের বাজার মনিটরিং করছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, দেশের প্রতিটি বাজারে যে পরিমাণ চাল মজুদ আছে তাতে পরিবহন ধর্মঘট চললেও চালের দামের উপর কোন প্রভাব পড়বে না। যদি কেউ কারসাজি না করে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবার। প্রয়োজন হলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যেহেতু ধানের দাম বৃদ্ধি পায়নি তাই চালের দাম কোনভাবেই বাড়তে দেয়া যাবে না। কেউ অসহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চালকল মালিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা শুধু আশ্বাস নয়, শপথ করুন যে আর চালের দাম বৃদ্ধি করবেন না।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ওমর ফারুক, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ, বাংলাদেশ অটো রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, চালকল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।