সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬

পুলিশের মানবিক ভাবনা ও একজন বিজয় বসাক

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৯, ৬:৩০ অপরাহ্ণ

হাসিনা আকতার নিগার : পুলিশ মানেই অপরাধী ধরা এমন ভাবনা এক সময় ছিল। এমনকি রাগী রাগী দারোগা বাবুর নাম শুনলেই ভয়ে তটস্থ হতো মানুষ। আর থানায় যাওয়া ছিল মান ইজ্জতের প্রশ্ন। এ হলো সাধারণ মানুষের একধরনের ভাবনা৷ আবার বিপরীত দিকে মামলা হামলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল পুলিশিং ব্যবস্থাপনা।

অনিয়ম দুর্নীতি ঘুষ নিয়ে পুলিশের দুর্নাম ও কম নেই। তবে সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন আসছে পুলিশের কার্যক্রমে। মানুষের ভয় কাটাতে পুলিশ জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এতে করে পুলিশের প্রতি যেমন জনগণের আস্থা যেমন বাড়ছে, তেমন বিপদের মুহূর্তে পুলিশের কাছে যেতে সাহস পায়। আধুনিক সময়ে খুব সহজে পুলিশের সহায়তা পেতে ৯৯৯ ন্যম্বারটি খুবই উপকারী। এর মাধ্যমে যে কোনো মুহূর্তে পুলিশবাহিনী তৎপর হয় আইনী ব্যবস্থা নিয়ে অপরাধ দমন করতে।

সাম্প্রতিককালে রাস্তায় ও গণপরিবহনে নারীদের হয়রানি রোধে অনন্য একটি উদ্যোগ নিয়েছে চট্রগ্রাম মেট্রোপুলিশের উত্তর বিভাগ। আর এ উদ্যোগকে জনমুখী করতে সহায়তা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যাত্রী ছাউনি। আরো সহায়তা করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি।

‘নারী যাত্রী‌দের নিরাপত্তা নি‌শ্চিত করতে জনসচেতনতা ক্যা‌ম্পেইন’ – স্লোগান সামনে রেখে উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক বিপিএম, পিপিএম (বার), গত ২৩ নভেম্বর জিইসি মোড়ে যাত্রী-হয়রানি এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে গণসচেতনতা কার্যক্রম আয়োজন করেন। তার এ মানবিক ও জনসচেতনতামূলক কাজের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আমেনা বেগম বিপিএম- সেবা। একই সাথে তিনি তার বক্তব্যে উপ-পুলিশ কমিশনারের এরকম একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। এ উদ্যোগের সাথে থেকে তিনি বিভিন্ন বাসে উঠে নিজ হাতে সচেতনতামূলক স্টিকারগুলো লাগিয়ে দেন এবং বাসযাত্রীদের তার সহযাত্রী মহিলাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ করেন। মহিলা যাত্রীদের সচেতনতার মাধ্যমে তিনি বলেন, যে কোনো অসুবিধা 999 ফোন করার মাধ্যমে তারা সকল প্রকার সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাকের মানবিক কার্যক্রমে থাকে আগামী প্রজন্মের জন্য চিন্তাভাবনা। তিনি এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন বলেই ইতপূর্বে স্কুল কমিউনিটি পুলিশিং বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। “বিতর্কে জাগবে মানবিক বোধ, জঙ্গি-মাদক করবো প্রতিরোধ’ শিরোনামে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৯ উপলক্ষে স্কুল কমিউনিটি পুলিশিং বিতর্ক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তিনি শিশুদের সামাজিকভাবে সচেতন করতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এ প্রতিযোগিতায় শিশুরা তাদের চিন্তাভাবনাকে তুলে ধরেন । তারা নিজেরাই বুঝতে পারে সামাজিক অপরাধকে চিহ্নিত করতে পারলে বিপথে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হবে। একজন পুলিশ তার আইনী গণ্ডির ভেতর থেকে সমাজকে এগিয়ে নিতে কতটা মানবিক হতে পারে তারই উদাহরণ উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক। যা তিনি নিজের কর্ম দিয়ে বিকশিত করছেন। একই সাথে চট্টগ্রামবাসীর কাছে আশার প্রদীপ হয়ে পাশে আছেন সকল সময়।

হাসিনা আকতার নিগার : কলামলেখক