বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

পৃথিবীর আলো দেখলো আরো ১৫ শিশু

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯, ৫:২২ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: পাঁচ মাস বয়সী ইয়াসমিন বিবি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নেয়া শিশুটি জন্মগতভাবে অন্ধ ছিল। চোখে ছানির কারণে দেখতে পাচ্ছিল না সে। অবশেষে রঙিন পৃথিবীর আলোয় আলোকিত হলো তার জীবন।

অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে ইয়াসমিন বিবিসহ ১৫ জন বাংলাদেশে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় শিশুর ৫ম বারের মত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর আচ মঙ্গলবার সকালে চোখের বাঁধন খুললে ১০ রোহিঙ্গা ও ৫ জন স্থানীয় শিশু স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়।

পাশাপাশি ঔষধসহ যাবতীয় সেবা প্রদান করা হয়। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর শনিবার থেকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশে হাসপাতালে চোখের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকায় চক্ষু হাসপাতালে গত বছরের নভেম্বর থেকে চালু হওয়া এই কার্যক্রমে এ পর্যন্ত ৪০ জন রোহিঙ্গা স্থানীয় শিশুর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (কিউএফএফডি) সহায়তায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাস্তবায়িত ‘কাতার ক্রিয়েটিং ভিশন (কিউসিভি) এক্সপান্ডিং আই কেয়ার ইন সাউথ ইস্ট বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ও কক্সবাজার বায়তুশ শরফ (ক.বা.শ) হাসপাতালের তত্বাবধানে এই অস্ত্রোপচারে টেকনিক্যাল সার্পেট দিচ্ছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল।

অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন চক্ষু হাসপাতালের শিশু সার্জারী বিভাগের ডা. মেরাজুল ইসলাম ভূইয়া। সহযোগিতায় ছিলেন, প্রোগ্রামের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর, নিলুফা ইয়াসমিন,এম আই এস মকবুল হোসেন, ক.বা.শ চক্ষু হাসপাতালের অপটোমেট্রিস্ট মো. আব্দুল আউয়াল শাহ এবং জামিল উদ্দিন বাপ্পি।

অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়া রোহিঙ্গা শিশুরা হল, মো. এরফান (১২), মো. সাদেক(৩), লালু(৩.৫), এনায়েত উল্লাহ(১০), শহীদা বেগম (২), তাসমিনা তারা(৬), মো. সাহেদ (২), ইয়াসমিন বিবি (০.৫), আতাউল্লাহ (১২), সালমান (৩) এবং কক্সবাজারের স্থানীয় মোস্তফা (১২), মো. তারেক (৭), রফিক আলম (১১), রবিউল (১০) ও মোবিন (২)।

এর আগে চক্ষু চিকিৎসার জন্য অরবিস পরিচালিত বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুদের এবং নিয়মিত স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় শিশুদের চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা প্রদানের জন্য ক.বা.শ হাসপাতালে এবং অস্ত্রোপচারের জন্য চটগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর শিশুদের বাবা-মায়েরা জানান, তারা অনেক আনন্দিত। এতদিন সন্তানের চোখ নিয়ে যে দুঃশ্চিন্তা ছিল তা এখন কেটে গেছে। তারা অরবিসসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, যারা তাদের সন্তানদের চোখের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে।

প্রসঙ্গত, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১ লক্ষের বেশী রোহিঙ্গা ও স্থানীয় শিশুর চোখ পরীক্ষার পাশাপাশি প্রায় ৮ হাজার শিশুকে চশমা প্রদান করা হয়।