শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

গৌরবের ৫০ বছরে ‘প্রকৃতির পাঠশালা’

| প্রকাশিতঃ ১৮ নভেম্বর ২০১৬ | ৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

cu-railচবি: ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুরে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবের ৫০ বছর পূর্ণ করছে আজ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ৫ দশক পূর্তির শুভক্ষণে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছে স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল বহু আলোকিত মানুষের এই বিদ্যাপিঠ। এ উপলক্ষ্যে আজ ও আগামীকাল হাতে নেয়া হয়েছে দুইদিনের বর্ণিল আয়োজন। যাতে নতুন-পুরনো প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার শিক্ষার্থীসহ সমাগম ঘটবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের।

মাত্র চারটি বিভাগ আর দুশো শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের। এখন যার বিভাগ ৪৩টি, অনুষদ ৮টি। সবমিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪ হাজারের বেশি। গেল ৫ দশকে এখান থেকে বেরিয়েছেন অসংখ্য জ্ঞানতাপস আর আপন আলোয় দ্যুতিমান ব্যক্তি। তাই, নতুন-পুরনোদের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে সুবর্ণজয়ন্তীর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্যোগ কর্তৃপক্ষের।

সুবর্ণজয়ন্তীর এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ৭ হাজার ৮৪২ জন প্রাক্তন ছাত্র এবং ২০ হাজার ২৮৯ জন বর্তমান ছাত্র রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অন্যান্য সব মিলিয়ে ৫০ হাজার মানুষের অনুষ্ঠান এই সুবর্ণজয়ন্তী।

আজ বিকেল বিকেল তিনটায় নগরীর চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে সুবর্ণজয়ন্তী শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের। এরপর সন্ধ্যা থেকে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়েলকাম নাইট’ অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এতে খ্যাতিমান সঙ্গীতশিল্পী ‍রুনা লায়লাসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী গান পরিবেশন করবেন।

আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে মূল আয়োজন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সুবর্ণজয়ন্তীর বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

আলোচনা সভাশেষে দুপুর ১২টায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ওয়ারফেজ, আর্টসেল ও লালন গান পরিবেশন করবে। এছাড়া তপন চৌধুরীসহ দেশবরেণ্য কয়েকজন শিল্পী তাদের সংগীত পরিবেশন করবেন। রাত ৭টায় শেষ হবে অনুষ্ঠানমালা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ আয়োজনকে সফল করতে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা সহ প্রায় ৫ শতাধিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন অনুষ্ঠান জুড়ে। এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুরো এলাকায় থাকছে সিসি ক্যামরা। সিসি ক্যামরা ছাড়াও মাঠের উত্তর পাশে পুরো এলাকা জুড়ে নজর রাখতে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। মনোরম সাজে সাজানো হয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

সার্বিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী জানান, ‘সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কিছুই কমতি রাখছে না। এজন্য জেলা পুলিশের পরামর্শে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। আশা করছি নবীন-প্রবীণের সফল মিলন মেলা হবে সুবর্ণজয়ন্তীতে।’