বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

ভুয়া এমবিবিএস সনদে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ ফাতিমার বিরুদ্ধে

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জানুয়ারি ৩, ২০২০, ৯:৫২ অপরাহ্ণ

হিমাদ্রী রাহা : নেই কোনো এমবিবিএস ডিগ্রি। তবুও তিনি চিকিৎসক। শুধু চিকিৎসক নন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সনদ না থেকেও এমন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ফাতিমা রওশন জাহান নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসকদের একটি পেইজে এমন অভিযোগ করেন এক ভুক্তভোগী।

ডক্টরস সেইফটি এন্ড রাইটস নামের এই ফেসবুক পেইজে আশরাফ নিপু নামের একজন অভিযোগ করে লেখেন, ‘ফাতিমা রওশন জাহান। ফিজিওথেরাপিতে ডিপ্লোমা করা। কিন্তু এমবিবিএস সার্টিফিকেটে কম্পিউটারে নাম পরিবর্তন করে নিজের নাম বসিয়ে দেন।

শুধু তাই নয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এক বছরের অনারারি ডিগ্রি আছে বলেও দাবি ফাতিমা রওশন জাহানের। অতপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অথচ তার নেই কোনো বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নাম্বার। তার একটি ক্লিনিকও আছে। যেটির নাম মেটারনিটি কেয়ার হাসপাতাল। সেখানে তিনি নিয়মিত রোগী দেখছেন ও সিজার অপারেশন করছেন। ক্লিনিকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাতিমা রওশন জাহানেরই স্বামী মাহবুবুর রহমান খান।

স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এর কি কোনো প্রতিকার নেই?’

শুধু তাই নয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ফাতিমা রওশন জাহানকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। উনার কোনো এমবিবিএস ডিগ্রি নেই। বিএমডিসি থেকে যে রেজিস্ট্রশন নাম্বার নিয়েছে সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ উনি নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলে পরিচয় দিচ্ছেন। এটা চিকিৎসক সমাজের জন্য খুবই বিব্রতকর, লজ্জাজনক।

অভিযোগের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হয় ফাতিমা রওশন জাহানের সাথে। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, দেখুন কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি আমার পেশাগত দক্ষতা ও সনদ নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। এটি আমি দেখেছি। বিষয়টি আমাদের ডাক্তারদের ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সিভিল সার্জনের দৃষ্টিগোচর হয়। আমি সিভিল সার্জন মহোদয়কে আমার চিকিৎসা সংক্রান্ত যা যা সনদ আছে সবই জমা দিয়েছি। আপনি চাইলে সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

এদিকে ফাতিমা রওশন জাহান যে ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেন অর্থাৎ মেটারনিটি কেয়ার হাসপাতালের প্যাডে তাঁর নামের পাশে লেখা আছে এমবিবিএস, ইওসিটি (গাইনি এন্ড অবস) , রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এছাড়া তিনি বিএসএমএমইউ থেকে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রামের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।

এমবিবিএস পাশের সাল ও বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার জানতে চাইলে তিনি বলেন, বললাম তো ভাই এসবই আমি সিভিল সার্জন অফিসে জমা দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ফাতিমা রওশন জাহান নামের একজন তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত বেশ কিছু সনদ আমাদের দিয়েছে। সেখানে তাঁর বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, যে কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছে তার সনদের কপিও রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট স্থানে সেসব কপির সত্যতা তদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। শীঘ্রই তদন্ত শেষ হবে। তখন আসল ঘটনা জানা যাবে।

একুশে/এইচআর/এটি