নজিব চৌধুরী: দেশের অন্যতম সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষা সহায়ক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ, চট্টগ্রাম শাখার দপ্তর পরিদর্শন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটির সাংবাদিকতা বিভাগের ষষ্ঠ ও সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। মূলত: তারা সাংবাদিকতা বিভাগের ‘ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন বা উন্নয়ন বিষয়ক যোগাযোগ’ কোর্সের শিক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত এসাইনম্যান্টের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম শহরের অলাভজনক সামাজিক শিক্ষামূলক সংস্থাগুলো সম্পর্কে ব্যাবহারিক জ্ঞানার্জন ও গণমাধ্যমের শিক্ষার্থী হিসেবে ‘উন্নয়ন বিষয়ক যোগাযোগের’ ধারণা নেয়ার জন্য তাদের এসব প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করতে আসা। অনুরূপভাবে তারা বিদ্যানন্দ পরিদর্শন করেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টা, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটির সাংবাদিকতা বিভাগের ষষ্ঠ ও সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শহরের ২ নং গেইটে অবস্থিত ‘বিদ্যানন্দ’র প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছে। শুরুতে তারা বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে কুশলতাসম্পন্ন করেন। তারপর বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। তারাও আমন্ত্রিত শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যানন্দের অফিস, ক্লাসরুম, লাইব্রেরী,খাদ্যগুদাম ও’বিদ্যানন্দ প্রকাশনীর’ বিভিন্ন বই পরিদর্শন করে দেখান।
শিক্ষার্থীরা বিদ্যানন্দ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সালে ২২ ডিসেম্বর নারায়নগঞ্জে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যানন্দের পথ চলা শুরু হয়। আর চট্টগ্রামে এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিলে, বর্তমানে দেশে এর আরো দুটি শাখা রয়েছে, রাজধানী ঢাকার মিরপুরে একটি অন্যটি বান্দরবন শহরে। কক্সবাজারের রামুতে বিদ্যানন্দ ‘অনাথশালা’ খোলার প্রক্রিয়াধীনে রয়েছে। আমাদের সবচেয়ে কার্যক্রম চট্টগ্রাম শহরে বেশি। ‘লার্ন ফর ফান বা বিদ্যানন্দের’ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য আনন্দের সাথে শিক্ষা নিশ্চয়তা এর কাজ। ‘বিদ্যানন্দ’ প্রতিষ্ঠাতার নাম কিশোর কুমার দাশ, উনি বর্তমানে পেরুতে থাকেন, ওখানে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যানন্দের নামেই দুটো রেস্টুরেন্ট দিয়েছেন, ওখান থেকে মূলত বিদ্যানন্দের সকল ব্যায়ের উত্স। পেশাগত জীবনে সফল এ ব্যক্তি নিজের শৈশবের হতাশা, ব্যর্থতা আর অপ্রাপ্তির তাড়ানা থেকে বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন। নিজে সুবিধাবঞ্চিত হিসেবে ভুক্ত ভুগি ছিলেন বিধায় জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের কল্যাণে শুরু করেন এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে উনার হাত ধরেই বিদ্যানন্দ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পরেছে। এটি একটি পরিপূর্ণ বিদ্যালয় নয়,শিক্ষা ও বিদ্যালয় সহায়ক প্রতিষ্ঠান।
বিদ্যানন্দ কিভাবে পরিচালিত হয়, শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর কর্যক্রমগুলো পরিচালনা করে আসছে এক ঝাঁক তরুণ-তরুনী স্বেচ্ছাসেবী দল,তারা সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী। তাছাড়া এখানে দৈনন্দিন কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করার জন্য রয়েছে একদল দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সুতরাং এ বিদ্যানন্দ একটি উদ্দেশ্যমূখী প্রতিষ্ঠান অর্থ যোগানমূখী নয়। এর সম্পূর্ণ খরচা বহন করেন প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশ। তবে এখন ওনার দেখা-দেখিতে সমাজের কিছু বিত্তবানরাও বিদ্যানন্দের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবছর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা সম্পন্নের পিছনে ব্যয় হয় প্রায় এক কোটি টাকা মুল্যের সেবাপ্রদান সামগ্রী। অর্থাৎ মানবতার কাজে নিবেদিত এ সকল স্বেচ্ছাসেবী আর কর্মকর্তাদের হাত ধরেই বিদ্যানন্দ এগিয়ে যাচ্ছে সাফল্যের সাথে।
এ পর্যন্ত বিদ্যানন্দের যে সকল নৈমিত্তিক ও নিয়মিত কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে: নিয়মিত একাডেমীক শিক্ষা প্রদান, উন্মুক্ত পাঠাগার ব্যবস্থা, ফ্রেমে বাধা শৈশব, বিনামুল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সহায়ক প্রোগ্রাম, নিয়মিত খাবার প্রকল্প, শিক্ষার্থীদের জন্মদিন উত্সব, সহ শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের মাসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শীত ও ঈদ বস্ত্র বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প, এক টাকার চুল ও নখ কাটা, সাহিত্য সভা – এ পর্যন্ত’বিদ্যানন্দ প্রকাশনী ‘ তরুন লেখক-লেখিকার প্রচেষ্টায় সাতটি বই পাবলিশ করেছে। এবং বিদ্যানন্দের নিয়মিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ‘এক টাকার আহার প্রকল্পটি’ সবার কাছে সত্যিই অভাবনীয় লাগবে, এটি একটি নতুন প্রকল্প এ প্রকল্পের অধীনে প্রতিদিন বিদ্যানন্দ শতাধিক পথ শিশু ও ভিক্ষুকদের, নামে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে দুপুর ও রাতের খাবার বিতরণ করেন। এক টাকাটা কেন নেয়া হয় জানতে চাইলে তারা বলেন, তারা যেন মনে না করে যে, তাদেরকে খাবারগুলো ভিক্ষা হিসেবে দেয়া হচ্ছে। সবশেষে আমন্ত্রিত সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রমটির পরিবেশনাও পরিদর্শন করে আসেন।