সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

হাঁস পালন করেই সাবলম্বী সন্দ্বীপের হাফেজ মোহাম্মদ

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২০, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

 

বাদল রায় স্বাধীন : সন্দ্বীপ শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে কালাপানিয়া ইউনিয়নের হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহীম একজন সফল হাঁস পালনকারীর নাম। ৭ নং ওয়ার্ডস্থ মজু পাটোয়ারী বাড়ির মুন্সী আব্দুল আজিজের ছেলে হাফেজ মোহাম্মদের নাম শুনলেই সবার চোখে ভেসে উঠে হাজারো হাঁসের কলরব ও কাঁৎ কাঁৎ ডাক, ছোটাছুটি।

সন্দ্বীপের পশ্চিম বেঁড়িবাঁধের বাইরে একটি পুকুরে গড়ে তুলেছেন তিনি হাঁসের বিশাল খামার। বিদেশফেরত হাফেজ মোহাম্মদ যখন অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে জর্জরিত তখন কোনো উপায় না দেখে ও কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় ইউটিউবে হাঁস পালনের একটি ভিডিও চিত্র দেখে ৪০-৫০ টি হাঁস দিয়ে খামার গড়ে তোলেন। এখন সে খামারে হাঁসের পরিমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজারে।

গত ১ বছর পূর্ব থেকে এ খামার গড়ে তুলে এখনো লাভবান হতে না পারলেও তিনি আগামী মাস থেকে ১ হাজার হাঁসের মধ্যে মাত্র অর্ধেক হাঁস ডিম পাড়া শুরু করলে তার প্রতিমাসে ডিম বিক্রি থেকে আয় হবে দেড় থেকে দুই লখ টাকা। এছাড়াও হাঁস বিক্রি করলেও গড়ে ৫০০ করে বিক্রি করলে যার বর্তমান মূল্য ৫ লাখ টাকা।

আর মাত্র একবছর অপেক্ষা করতে পারলে শুধু ডিম বিক্রি করে হতে পারেন তিনি অর্ধকোটি টাকার মালিক। কারণ বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা ১ হাজার। ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন অর্ধেক হাঁস ডিম দিলেও ডিম প্রতি যদি ১২ টাকা হিসাবে বিক্রি করলে ৫০০ ডিম বিক্রি করলে প্রতিদিন ৬০০০ টাকা হারে মাসে তার পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ আশি হাজার টাকা।

প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, হ্যাচারি থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনে এনে পালন করে প্রতিটি বাচ্চা পরিপক্ক হতে খাদ্য ও ওষুধ বাবদ সর্বসাকূল্যে খরচ হয় প্রায় ১২০ টাকা। তারপর বিক্রি হবে প্রতিটি ৫০০ টাকা, তাহলে মাংস এবং ডিম দুটোতে প্রায় ৫ গুণ লাভ হবে।

এদিকে তার এ সফলতা দেখে এলাকার অন্যরাও আগ্রহী হয়ে হাঁস পালন শুরু করেছেন বলে জানালেন আরেক কৃষক বেলাল উদ্দীন।

তবে হাফেজ মোহাম্মদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রশিক্ষণ পাননি বলে তার হাঁসের চিকিৎসা ও টিকা দান করতে প্রাণীসম্পদ অফিসের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হয়ে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে দিতে হয়। এই জন্যে কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি হাঁস পালনে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই নিজের হাঁসের চিকিৎসা করতে চান বলে মতামত ব্যক্ত করেন তিনি। রিকল প্রজেক্ট এসডিআই তাকে হাঁস পালনের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন বলে আশ্বাস দেন।

এলাকার একজন সচেতন নাগরিক ডা. মোজাম্মেল হোসেন জানান, হাফেজ মোহাম্মদের হাঁসের খামার সত্যিই অনুকরণীয়।বিদেশ ফেরতের পর হাঁস পালন করে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং পরিবার পরিজনকে পাশে নিয়ে তিনি সুখেই জীবন যাপন করছেন। তার এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও হাঁস খামার তৈরি হবে, দূর হবে এলাকার বেকারত্ব এ প্রত্যাশাই করছি।

প্রাণী সম্পদ অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা বলেন, সন্দ্বীপে খাল বিল না থাকলেও প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে অসংখ্য বড় বড় পুকুর। যা হাঁস পালনের উপযোগী হওয়ায় এ ক্ষেত্রটি ব্যাপক সম্ভাবনাময়। হাঁস পালনের উপযোগী পরিবেশের কারণে অনেকেই নিজ উদ্যোগে খামার গড়ে তুলে যেমন স্বাবলম্বী হতে পারবে তেমনি ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটাতে পারবে এলাকার।

‘আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে হাঁস পালনকারীদের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকি। হাঁস ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং বিপণন ব্যবস্থা ভালো থাকায় লাভবান হতে পারে খামারীরা। আশা করছি, হাফেজ মোহাম্মদের দেখা দেখি অন্যরাও এগিয়ে আসবে।’

একুশে/এএ