মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬

ডিফরেন্ট কালারের টেলিভিশন হবে সিটিভি : বিটিভি মহাপরিচালক

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২০, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ

 

চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র (সিটিভি) ডিফরেন্ট কালারের টেলিভিশন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক (ডিজি) হারুন অর রশীদ।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা সম্প্রচারে যাওয়া উপলক্ষে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের

শিল্পী, কলাকুশলী  ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে  এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে গানের শিল্পী, আবৃত্তি শিল্পী, নৃত্যশিল্পীদের অডিশনের মাধ্যমে বাছাই করে প্রোগামের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। শিল্পীদের যাতে বহিরাঙ্গনে শুটিং এর জন্য কোনো অসুবিধা না হয় সেজন্য আগামী একমাসের মধ্যে শিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অকেজো বাসটি ঠিক করা হবে।

অনুষ্ঠানের মানোন্নয়ন করা এবং এটিকে ধরে রাখা একটি সংগ্রাম জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবসময় অনুষ্ঠানের মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। সরকারি চাকরি হওয়ায় অনেকে কাজ না করে টাকা নেওয়ার চেষ্টায় থাকেন। এখন থেকে সেই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বিটিভির নানামুখি প্রয়োজন ও সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম টিলিভিশন কেন্দ্রের কিছু সমস্যা আছে। যারা ঢাকায় থাকেন তাদেরকে চট্টগ্রামে পাঠানোই একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ সংগ্রাম করেই যাচ্ছি। কীভাবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়ে আপনারা সহযোগিতা করুন। স্বপ্ন দেখেন, এমন কিছু এসিস্ট্যান্ট  আমাকে দেন যাদেরকে নিয়ে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য অবশ্যই তুলে ধরা দরকার। আধুনিকায়নের অনুষ্ঠান বাড়ানো উচিত। টেলিভিশনে ১২ ঘণ্টা সম্প্রচার একটা বিশাল স্পেস। গানের অনুষ্ঠান ৪ ঘণ্টাও যদি হয় তাহলে ২৪০ মিনিট। এতেই ৬০ জন শিল্পী গান করতে পারবে। একটা টকশো করতে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ একটা নাটক বানাতে খরচ হয় তিন লাখ টাকা। তাই সবকিছুর মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।

হারুন অর রশিদ বলেন, খুবই শীঘ্রই আমাদের চব্বিশ ঘন্টায় যেতে হবে। না গেলে টেলিভিশন স্থগিত হয়ে যাবে। ট্রান্সমিশনে যারা তৈরি করেছেন তারা তাড়াহুড়া করে করেছেন আমাদের এই ফাঁকফোকরগুলো পূরণ করতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হবে। আমাদের স্বস্তির বিষয় হচ্ছে আমাদের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ একজন ডায়নামিক মানুষ। আপনারা ভালো করে জানেন, তিনি চট্টগ্রামের মানুষ হওয়াতে উনার একটা মমতা আছে এবং উনার সার্বক্ষণিক নজরদারি আমি কাজে লাগাতে চাই।

দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দক্ষ ব্যবসায়ীরা এবং শিল্পীরা সবাই ঢাকায় চলে যায়। কারণ ঢাকায় সুযোগটা বেশি। ৩৯ টি টেলিভিশন কেন্দ্র আছে্। সুতরাং সেখানে সুবিধা বেড়ে যায়। টেলিভিশনের মূলে যারা আছেন তারা যদি চট্টগ্রামের দর্শকদের যে প্রত্যাশা তা যদি বুঝতে পারেন তাহলে আর কোন অসুবিধাই থাকবে না। ৩০-৪০টা কলকাতার সিরিয়ালে আমাদের পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যা সাতটা না বাজতেই দেখতে বসে যায়। পরিবারে যত ধরনের কূটনীতি আছে এসব দেখানো হয় পুরো সিরিয়ালজুড়ে, এই যে সিরিয়াল দেখার আকর্ষণ তাদের হলো এটা যদি করা সম্ভব বলে মনে করেন তাহলে এ ধরনের এট্র্যাকশন তৈরি হয় এমন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা আপনারা করুন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) অনুপ খাস্তগীর বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের গুণগত মান ধরে রাখা সবার কর্তব্য। এর মধ্যেও অনেক শিল্পী দাবি করেন ‘আমাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, আমার যোগ্যতা আছে’। সুতারাং এসব বিবেচনায় না রেখে কীভাবে গুণগত মান ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সব কাজ যে সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে তা কিন্তু নায়। কীভাবে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উন্নয়নে সবাই কাজ করবে আমাদের সে বিষয়ে চিন্তা করা উচিত।

নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় অনেক সংস্কৃতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আজকে সারা বাংলাদেশে যেসব শিল্পীরা আছে তাদের মধ্যে অনেকে চট্টগ্রামের সন্তান। চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় যে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য আছে সেগুলো যদি এখানে দেখানো হয় টেলিভশন আরো সমৃদ্ধ হবে। টেলিভিশন একটি জাদুর বাক্স। এই জাদুর বাক্সটির মাধ্যমে আপনি যেসব খবর সহজে পৌঁছে দিতে পারবেন তা অন্য কোনো মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

‘সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষ করে যখন বাসায় ফিরেন তখন অন্তত খবরটা দেখার জন্য টেলিভিশনটা চালু করেন। এছাড়া এখন আধুনিক গান কিন্তু খুব কম হয়। আধুনিক গানগুলো দেখানো উচিত বলে আমি মনে করি। যারা লেখেন তারা যদি না লিখতেন তাহলে একজন নাট্যকার কিন্তু নাটক তৈরি করতে পারতো না। তাই লেখকদের সম্মান জানাতে হবে।’

একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার বলেন, শুরুতে যে বিষয়টি আমি আলোকপাত করতে চাই সেটি হলো, গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান গেয়ে, গাইয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে তিনি কতটা ভালোবাসেন। নিজের কণ্ঠে ‘চাটগাঁইয়া নওজোয়ান আরা হিন্দু-মুসলমান’ গান গেয়ে পুরো দেশের কাছে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন তিনি।’

কাজেই চট্টগ্রাম ও তিন পাবত্য জেলার সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতি,  জীবানাচার ও পাহাড়, নদী, সাগর, সমতল-এই চারের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম টেলিভিশনকে কেবল বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন হিসেবে গড়ে তোলা যায়। এজন্য প্রয়োজন যোগ্য, সৃষ্টিশীল টিম সেই সাথে একাগ্রতা।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচায্য এসময় উপস্থিত  ছিলেন।

একুশে/জেএইচ/এএ