
চট্টগ্রাম : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ডেল্টা মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের চিকিৎসক পলাশের অবস্থা স্থিতিশীল। ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পলাশ এখন আশঙ্কামুক্ত।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবীর। সোমবার (২৩ মার্চ) নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এ সংক্রান্ত এক পোস্টে ডা. পলাশের জন্য দোয়া চেয়ে তিনি লিখেছেন, ডা. পলাশের জন্য সকলে দোয়া করবেন। অবস্থা স্টেবল।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে একুশে পত্রিকাকে হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, পলাশের অবস্থা এখন স্টেবল। অবস্থা যতটা খারাপ হয়েছিলো এখন ততটা খারাপ নয়। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা পাওয়ার কারণে তার অবস্থা ভালোর দিকে।
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে একবার ঢুকতে পারলেই চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, কুয়েত মৈত্রীতে ভয়টা নেই। সেখানে ভালো চিকিৎসা হচ্ছে। এদিক দিয়ে সরকার এবং ডাক্তাররা সফল। পলাশের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ ডক্টর ফাউন্ডেশনসহ প্রায় সব চিকিৎসক তার পাশে দাঁড়িয়েছে্ন। বলেন হাসান শাহরিয়ার।
এর আগে রোববার (২২ মার্চ) ডা. পলাশের শরীরে করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। তিনি মিরপুরের টোলারবাগের এক করোনা (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করেছিলেন। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করছেন ৩০ বছর বয়সী ওই চিকিৎসক। তার ভাইরাস ইনফেকশনের প্রতিবেদন আসার পর রোববার রাতেই দ্রুতই তাকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নেয়া হয়।
এর আগে ডেল্টা মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের ৪ জন চিকিৎসক, ১২ জন নার্স এবং ৩ জন স্টাফকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। গত ২০ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন তারা। বাংলাদেশে গত ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর ২১ মার্চ আরো একজনের মৃত্যু হয়।
বোবরার (২২ মার্চ) দুপুরে ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টা দেশে নতুন করে ৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৭ জনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এই চিকিৎসককে ধরে সেই সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে আরো ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলেও জানান ফ্লোরা। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরলেন ৫ জন। মারা গেছেন ২ জন। সেই হিসেবে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২১ জন করোনা রোগী আছে বাংলাদেশে।