শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনায় অস্থির বিশ্ব : ভাবাচ্ছে, জাগাচ্ছে…

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০, ২:৪৮ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম : চলমান করোনা মহামারিতে অস্থির, টালমাটাল পুরো বিশ্ব। ক্ষুদ্র, মাঝারি দাপিয়ে বেড়ানো পরাশক্তিগুলো অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে খালি চোখে দেখতে না পাওয়া এক জীবানুর কাছে। মানছে না ধর্ম-গোত্র। কাজে আসছে না সঞ্চিত সম্পদ ও দাম্ভিকতার প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত বিলাসিতা সামগ্রী আর ভীতি ছড়ানো সমর সরঞ্জাম।

কী বিচিত্র আত্মসমর্পণ মানবজাতির। আক্রান্ত স্বজনের পাশে যেতে মানা বা যাচ্ছে না ভয়ে। একদিকে মানবতাবোধের বিসর্জন, অন্যদিকে মানবিকতার উদহারণ। সামনে যেন এক নতুন পৃথিবীর হাতছানি। যেখানে থাকবে মানবতার প্রতিযোগিতা, থাকবে না ধ্বংসের লীলাখেলা।

করোনা মোকাবেলায় চলছে প্রায় বিশ্বজুড়ে লকডাউন কর্মহীন হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ আমাদের দেশও ব্যতিক্রম নয়। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষরা। এমন সময়ে সরকারের পাশাপাশি যে যেভাবে পারছে সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের প্রতি।

চলমান এ দুর্যোগ মুহূর্তে কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ সাহায্যের নামে তামাশা হতাশ করলেও আগের সময়গুলোতে নানান সমস্যা ও অপবাদের কারণে সাধারণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশবাহিনীর মানবিক নানান কার্যকলাপ আশা জাগাচ্ছে সবার মনে।

করোনার প্রভাবে দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাভাব। আশংকা দেখা যাচ্ছে খাদ্যঘাটতির।সমস্যা মোকাবেলায় সব দেশ উপায় সাজাচ্ছে যার যার মত করে। ইতিমধ্যে সরকার অধিক কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির প্রাণখ্যাত গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য ঘোষণা করেছে বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ। অবশ্য অনেকটা দেশকে করোনা ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়ে দেশের মানুষকে উৎকন্ঠায় রেখে সরকারের কাছ থেকে গার্মেন্টস মালিকরা প্রণোদনার ঘোষণা আদায় করে নেয়।

গার্মেন্টস মালিকদের আমি রক্তচোষা বলে গালি দিতে চাই না। তবে এটা বলবো যে তারা সরকারের অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। তাদের অনেকে নানান সময় এর অপব্যবহারও করে যেমন শুল্কফাঁকি, শুল্কমুক্ত আমদানী পণ্য অবৈধভাবে বিক্রি, অর্থপাচার ইত্যাদি।

গার্মেন্টস সেক্টর জাতীয় অর্থনীতির প্রাণ হলে কৃষিখাত হচ্ছে তার ফুসফুস, আর তা বিপন্ন হলে প্রাণের অস্তিত্ব যন্ত্রণাময় হওয়াটা স্বাভাবিক। দেশজুড়ে চলমান লকডাউন কর্মহীন হয়ে পড়েছে কৃষিসংশ্লিষ্টরা। বর্তমান সময় হচ্ছে সবজির ভরা মৌসুম। কিন্তু পরিবহন, ক্রেতাসংকট এবং রপ্তানি না হওয়ায় নষ্ট হয়েছে এবং হচ্ছে হাজার হাজার মেট্রিক টন সবজি।

সরকার গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও কৃষকদের জন্য কেন নয় প্রনোদনা তা ভাবাচ্ছে সচেতন মহলকে। তারা মনে করছেন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম না পাওয়ার ফলে অধিক লোকসানের কারণে হতাশ হয়ে উৎপাদনবিমুখ হতে পারে। এতে করে দেশে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বা দেশকে খাদ্যদ্রব্য আমদানী নির্ভর করতে পারে। সরকারের দায়িত্বশীল মহলকে ভাবা উচিত কৃষিখাত নিয়ে তাহলেই বাচঁবে কৃষক মোকাবেলা হবে খাদ্য ঘাটতির।

মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম : স্টাফ রিপোর্টার, জিটিভি।