শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষ

| প্রকাশিতঃ ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ৩:৩৩ অপরাহ্ন


ব্রাহ্মণবাড়িয়া : করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক, উদ্বেগের মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ইসলামী আলোচক আল্লামা মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। আজ শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিষেধাজ্ঞা ভেঙেই এই আলেমের জানাজায় অংশ নিতে বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে মানুষ এসে জড়ো হন বেড়তলায়। মাদরাসা মাঠে জায়গা না হওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তত দুই কিলোমিটার অংশে জানাজায় অংশ নেয় মানুষ।

জানাজায় ইমামতি করেন জুবায়ের আহেমদ আনসারীর দ্বিতীয় ছেলে মাওলানা আসাদুল্লাহ গালিব। পরে জানাজা শেষে মাদরাসা প্রাঙ্গণেই তার মরদেহ দাফন করা হয়।

মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ও ইউনুছিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুরাবারক উল্লাহ, সাইখুল হাদিস আল্লামা সাজিদুর রহমান, আল্লামা হাসান জামির, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক, যুব মজলিশের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ অংশ নেন।

সরাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা গতকালই ওই মাদরাসায় গিয়ে বলে এসেছিলাম, জানাজায় যেন বেশি লোকের সমাগম না করা হয়। তারা বলেছিল ৫০-৬০ জন, যারা মাদরাসায় আছেন শুধু তারাই অংশ নেবেন হুজুরের জানাজায়। বাইরের কাউকে ডাকা হয়নি। কিন্তু সকাল ১০টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকে হঠাৎ হাজার হাজার মানুষ জমা হতে শুরু করে।

তিনি বলেন, জানাজায় অংশ নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও অন্যান্য জেলা থেকে মানুষ এসেছে। এতো মানুষ হবে সেটি আমরা বুঝতে পারিনি। লোকজন আসতে শুরু করার পর আমাদের আর কিছু করার ছিল না। আমরা চিন্তাও করতে পারিনি যে এত লোক হবে। কত লোক হয়েছিল-তার তো সঠিক হিসাব নেই। তবে অনেকেই ধারণা করছেন লাখের মত মানুষ হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, আমাদের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ দিয়ে এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া মোটেও সম্ভব ছিল না।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাস পাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন যুবায়ের আহমেদ আনসারী (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

যুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির এবং বেড়তলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একাধিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।