
ঢাকা : সারাবিশ্বে ছড়িয়েপড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া, ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৩২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে। আর আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ মানুষ।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ রোগে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ৩২ লাখ ১৮ হাজার ১৮৩ জন মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৮ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫৯ হাজার ৮১৭ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০ লাখ ৩২ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী- এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির আক্রমণে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে আমেরিকা। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৩ জন। আর মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৬৫৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৪২৮ জন আর মারা গেছেন দুই হাজার ৩৯০ জন।
মৃতের সংখ্যায় আমেরিকার পরেই রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। নতুন ৩২৩ জনসহ দেশটিতে মারা গেছেন ২৭ হাজার ৭৮২ জন। দেশটিতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৮৬ জন।
মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ইউরোপে দ্বিতীয় ব্রিটেন
এদিকে, ইউরোপে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রিটেনে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৪১৯ জনের, যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এরপর আজ সকাল পর্যন্ত মারা গেছে আরও ৭৬৫ জন। সবমিলিয়ে দেশটিতে ২৬ হাজার ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে যা ইউরোপের মধ্যে দ্বিতীয়।
ডাউনিং স্ট্রিটে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এ মৃত্যুর সংখ্যাকে ‘হঠাৎ উত্থান’ বলে মনে করেন না। তিনি বলেন, “আমরা নতুন পদ্ধতিতে মৃতের সংখ্যা গণনা করছি। যার কারণে সংখ্যা বেড়েছে। হঠাৎ করে মৃত্যু বাড়েনি।”
পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের (পিএইচই) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মারা যাওয়া চার হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে ৩০ শতাংশ হাসপাতালে মারা গেছেন। বাকি ৭০ শতাংশ বাসা ও অন্যান্য স্থানের।
মৃতের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা স্পেনে অবশ্য ইতালির চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় চার হাজার ৭৭১ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮৯৯ জন। আর নতুন ৪৫৩ জনসহ এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪ হাজার ২৭৫ জন।
এছাড়া, ফ্রান্সে ২৪ হাজার ৮৭ জন, বেলজিয়ামের সাত হাজার ৫০১ জন, জার্মানিতে ৬ হাজার ৪৬৭, ইরানে ৫ হাজার ৯৫৭, ব্রাজিলে ৫ হাজার ৫১১, নেদারল্যান্ডসে ৪ হাজার ৭১১ জন, তুরস্কে ৩ হাজার ৮১, কানাডাতে ২ হাজার ৮৬৯ এবং সুইডেনে ২ হাজার ৯৯৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।