রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

সংক্রমণ বেড়ে গেলে কোথাও জায়গা দিতে পারব না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

| প্রকাশিতঃ ৩ মে ২০২০ | ৮:২৬ অপরাহ্ন


ঢাকা : শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে পোশাক কারখানা পরিচালনা করার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে, সংক্রমণ যদি বেড়ে যায় তাহলে জায়গা দিতে পারব না বলেও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ (রোববার) করোনা পরিস্থিতিতে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে চালু রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ প্রতিনিধি এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।

কারখানা পর্যায়ে টেস্ট ফ্যাসিলিটি বাড়ানো, আক্রান্তদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্ধারণ করে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যাবে সে সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে আজকের এ বৈঠকে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আজকের বৈঠকের মূল বিষয় ছিল পোশাক শিল্প কারখানায় কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করা হবে। শ্রমিকরা যেন স্বাস্থ্যসেবা পায়, কর্মস্থলে তারা যাতে মিনিমাম একটা স্পেস মেইনটেইন করে কাজ করতে পারে এবং তাদের পরিবহনটা যাতে নিরাপদ হয় সে সব বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় যে সিদ্ধান্তটা হয়েছে সেটা হলো, বিশেষ করে গার্মেন্টসের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের দিকটা মনিটর করার জন্য একটি কমিটি করা; ফোকাল পয়েন্ট স্থাপন এবং বিভিন্ন সাব-কমিটি গঠন করা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ফ্যাক্টরি লেভেলেও একটা মেডিকেল টিম রাখতে হবে। তারা আমাদের নির্দেশনা পালনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবে। এ মেডিকেল টিম পর্যায়ক্রমে ন্যাশনাল কমিটির কাছে রিপোর্ট করবে প্রতিনিয়ত।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাক্টরিতে ঢোকার সময় শ্রমিকদের স্যানিটাইজেশনটা ভালোমতো করতে হবে। শ্রমিকদের থাকার জায়গা, খাওয়ার জায়গা- এগুলোর বিষয়ে যেন গুরুত্ব দেয়া হয়; শ্রমিকরা আক্রান্ত হলে যাতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা যায় সেরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও বলা হয়েছে মালিকপক্ষকে।

মন্ত্রী বলেন, কোথাও যদি খুব বেশি আক্রান্ত হয়, তখন ফ্যাক্টরি শাটডাউন করে দেয়া হবে কিছুদিনের জন্য।

জাহিদ মালেক বলেন, করোনার তিনটি হটস্পট ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর- এ তিনটি স্থানকে ভালোভাবে দেখার জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি। এখান থেকে কেউ যাতে বাইরে না যায় ও ভেতরে না ঢোকে। সেই বিষয়ে বেশি নজরদারি করার জন্য বলা হয়েছে।

শ্রমিকদের পরিবহন একটি বড় সংকট, এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্যোগের কিছু নাই। মালিকরা এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। তাদের আমরা পরামর্শ দিয়েছি, আনা-নেয়া, থাকা-খাওয়া সব বিষয়ে তারা যেন আরও সতর্ক হন।

এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, “পরিবহনের উদ্যোগ নেবেন মালিকরা, যারা গার্মেন্ট শিল্প তাদের আমরা পরামর্শ দিয়েছি, তারা যেন আনা-নেওয়া, থাকা-খাওয়া সব বিষয়ে বেশি করে সতর্ক হয়। তা না হলে সংক্রমণ যদি বেড়ে যায় তাহলে পরে আমরা কোথাও জায়গা দিতে পারব না।”