রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

করোনায় হলিক্রিসেন্ট নিয়ে সময়ক্ষেপন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তামাশা : সুজন

| প্রকাশিতঃ ৬ মে ২০২০ | ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

 

চট্টগ্রাম : বণিকতন্ত্রের কাছে মানবতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি সোমবার রাত ১০টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তিনি এ ভাইরাস মোকাবিলাকে যুদ্ধ জয়ের মতো উল্লেখ করে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করছেন। জনগণের ঘরে থাকার সুবিধার্থে গত ২৬ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে টানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

সরকারের এতোসব কার্যকরী উদ্যোগকে বাঁধাগ্রস্ত করছে এক শ্রেণীর বণিকতন্ত্র- এই অভিযোগ করে সুজন বলেন, তারা ছলেবলে কৌশলে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তাদের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে অর্থটাই মুখ্য। তাই তারা সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমতো তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তারা সরকারকে জিম্মি করে তাদের অসৎ ফায়দা হাসিলে তৎপর। এতে করে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। মানুষের জীবনরক্ষা আজ বানিজ্যিকরণের কাছে অসহায় এবং বাঁধা। তাই এসব বণিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, বেসরকারি হাসপাতালের নৈরাজ্য বন্ধ, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নগরজুড়ে মশার উৎপাত বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিরসনে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জবাবে সুজন বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনগণের চিকিৎসায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। তাদের গাফিলতির কারণে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে সাধারণ রোগী। অথচ ন্যূনতম সেবা পেলে এসব রোগীদের জীবন বাঁচানো কোনো কঠিন বিষয় ছিলো না। তিনি বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি না খেলতে অনুরোধ করেন।

এছাড়া হলি ক্রিসেন্টের মতো একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছি, করবো বলে সময়ক্ষেপণ করা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় উল্লেখ করে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে। করোনা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, কিট এবং ঔষধপত্রসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও বৃদ্ধি করার বিশেষ আহ্বান জানানো হয় লাইভে।

তিনি আরো বলেন আমরা বারবার ওয়াসার এমডি’র নিকট অনুরোধ জানিয়েছি যে নগরীর যে সমস্ত এলাকায় ওয়াসার পানির সরবরাহ স্বাভাবিক নয় সে সব এলাকায় রেশনিংয়ের মাধ্যমে হলেও ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। কারণ সরকারি নির্দেশনা হচ্ছে জনগনকে ঘরে থাকা। সেই নির্দেশনা পালন করতে হলে অবশ্যই ব্যবহার্য পানির ব্যবস্থাও করতে হবে ওয়াসাকে। তাছাড়া রমজান মাসে গৃহস্থালি কাজে পানির ব্যবহার পূর্বের তুলনায় কম হলেও গ্রাহকগণ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি যে কোন মূল্যে ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।

তিনি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নিঃস্বার্থভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি নজর দেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন বলেন,  বর্তমান লকডাউন অবস্থায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ মূহূর্তে তাদের পাশে দাড়ানো সরকারের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ প্রবাসীরা স্ব-উদ্যোগে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। তাদের এ অবদানের পিছনে কারো কোনো সাহায্য নেই। একজন প্রবাসী তার পরিবারের জমানো উপার্জন দিয়ে বিদেশে গিয়ে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাই প্রবাসীসহ তাদের পরিবার পরিজন যারা দেশে অবস্থান করছেন তাদের তালিকা করে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।