
এ. কে. আজাদ, লোহাগাড়া : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেছেন, লোহাগাড়ার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে বিনষ্ট করতে গত ৪ মে মন্দিরে হামলা চালিয়েছিল রকি বড়ুয়া। মুসলিম ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল সে, কিন্তু সেই চেষ্টায় সফল হয়নি। অন্যায় যে করুক, তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। অপরাধীদের অপরাধের জন্য ধর্ম, দল, সম্প্রদায় কিংবা জাতি দায়ী নয়। তার পাপের ফল তাকেই ভোগ করতে হবে এবং হয়েছেও । ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায় যাতে আর কেউ করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিরবিলা বৌদ্ধ শান্তি বিহারে অনুষ্ঠিত এক সম্প্রীতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, চরম্বা একটি অসম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উর্বর ভূমি। এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম পরস্পরের সাথে গড়ে উঠেছে অপূর্ব সম্প্রীতি। আমরা সবাই সবার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার একটি অসম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির রাষ্ট্র উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন। এই সম্প্রীতি যে কোনো আমাদের ধরে রাখতে হবে।
স্থানীয় চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্প্রীতি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়ুয়া, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হিরু, বৌদ্ধ ভিক্ষু নেতা তাপস জ্যোতি ভিক্ষু।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দিন, বড়হাতিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রিটন বড়ুয়া রোনা, চরম্বা বিবিবিলা বৌদ্ধ শান্তি বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মতীলু ভিক্ষু, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি বড়ুয়া, চরম্বা ইউপির ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সোলাইমান, ইউপি সদস্য মুহাম্মদ সৈয়দ আহমদ, মুহাম্মদ আকতার হোসাইন, মুহাম্মদ ওসমান গনি, চরম্বা ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক শিমুল বড়ুয়া প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া কর্তৃক বৌদ্ধ বিহারটি পুন:সংস্কারের জন্য দেয়া অনুদানের টাকা বিহার অধ্যক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়ুয়া। এসময় বিহারের পুন:সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে মধ্যরাতে ধর্ম ব্যাবসায়ী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী রকি বড়ুয়ার নির্দেশে দেশে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার উদ্দেশ্যে লোহাগাড়ায় চরম্বা বিবিবিলা বৌদ্ধ শান্তি বিহারটির অংশবিশেষ ভাঙচুর চালায় রকিবাহিনী। ইতোমধ্যে বিদেশী পিস্তল, গুলি, মদ, রক্ষিতাসহ ৬ সহযোগী নিয়ে গ্রেফতার হন রকি বড়ুয়া। পরে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরে অংশ নেয়া কামাল উদ্দিন নামে রকির ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী লোহাগাড়া থানা পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। জবানবন্দীতে তিনি রকি বড়ুয়ার নির্দেশে কীভাবে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর হয়েছে, কারা তাতে অংশ নেন এসবের বর্ণনা দেন। এরপরই মূলত প্রশাসন ও সরকারের সর্বোচ্চ মহল বৌদ্ধ বিহার ভাঙচুরের বিষয়ে নিশ্চিত হন।