মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চট্টগ্রামে করোনা-চিকিৎসায় তৈরি হলিক্রিসেন্ট বৃহস্পতিবার চালু হচ্ছে

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২০, ৫:২৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যাসিয়েশনের অর্থায়নে ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হচ্ছে।

ক্লিনিকটি চালু হওয়ার ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এর মধ্যদিয়ে সে অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের করোনা-চিকিৎসায় নতুন আশা ও সাহসের সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৯) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর একুশে পত্রিকাকে এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, আগামি বৃহস্পতিবার সকালে এই হাসপাতালটি উদ্বোধন হবে এবং সেদিন থেকেই রোগী ভর্তি হবে।

১১টি আইসিইউ বেড সম্বলিত ১০০ বেডের এই হাসপাতালটি জেনারেল হাসপাতালের কোভিট ইউনিট-২ হিসেবে পরিচালিত হবে। রোস্টার করে এখানে সরকারিভাবে চিকিৎসক-নার্স ও জনবল দেয়া হবে। চট্টগ্রামে বিদ্যমান করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জানান ডা. হাসান শাহরিয়ার।

এর আগে গত ৭ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সরকারি পর্য়ায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল পরিচালিত হবে এমন সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এসময় চমেক হাসপতালের দ্বিতীয় ইউনিট হিসেবে হলিক্রিসেন্ট হাসপতাল পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।

তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, চমেক হাসপাতালের ইউনিট হিসেবে এটি চালু হওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষপর্য়ন্ত তা হচ্ছে না। জেনারেল হাসপাতালের কোভিট ইউনিট হিসেবেই এটিকে চালু করছি আমরা।

এদিকে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঘোষণা দেওয়া পরও সরকারিভাবে হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় বরং মহলবিশেষের গড়িমসি ও অপরাজনীতি শুরু হওয়ায় গত ৭ দিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে দুটি ডিও দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

একইসাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে হাসপাতালটি চালুর ব্যাপারে দফায় দফায় বৈঠক ও দেনদরবার করেন তিনি। শুক্রবার (১৬ মে) মেয়র নাছির একুশে পত্রিকার কাছে ফোন করে এ বিষয়ে সৃষ্ট প্রতিবন্ধতা দূরীকরণে একুশে পত্রিকার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, আপনারা তো অনেক সাহসী রিপোর্টিং করেন, অন্ধকারে আলো ছড়ান; বন্দরনগরী চট্টগ্রাম করোনার হটস্পট বিবেচনায় এই হাসপতালটি যেন দ্রুত চালু হয় সেব্যাপারে একটু ভূমিকা রাখুন।

মূলত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের পীড়াপীড়িতে সবধরনের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষ আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে হলিক্রিসেন্ট হাসপতাল। বৃহস্পতিবার (২১ মে) উদ্বোধন হচ্ছে বহু প্রত্যাশিত এই হাসপাতাল।

এ প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, সরকারিভাবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পরও সেটা চালু হতে নানান প্রতিবন্ধকতা! ঢাকার পরই চট্টগ্রামে বেশি মানুষের বসবাস। চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থানসহ নানা সমীকরণে চট্টগ্রাম করোনার ’ডেঞ্জার জোন’। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের নেই কোনো সমন্বিত প্রস্তুতি, নেই পরিকল্পনা। তার উপর অপরাজনীতি, স্টান্টবাজি।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউসহ ১০০ বেড। অন্যদিকে ৫০ শয্যার বিআইটিআইডি ও ২৫ শয্যার ফিল্ড হাসপাতালে কোনো আইসিইউ নেই। এ পরিস্থিতিতে ১১ বেডের আইসিইউ সম্বলিত ১০০ বেডের হলিক্রিসেন্টে হাসপতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন, এসডিওসহ আনুষঙ্গিক সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে। সবকিছু রেডি একটা জিনিস। আর সেটি চালু করতেই কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আমাদের। যাই হোক, আগামি পরশুদিন এটা চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের করোনা চিকিৎসা চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হবে। – বলেন মেয়র নাছির।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর প্রথমদিকেই চট্টগ্রামের করোনা-আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচেনা করে প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সহযোগিতায় পরিত্যক্ত হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালটিকে বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে পরিণত করে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে মে’র শেষদিকে এর কাজ শেষ হয়। প্রস্তুতির প্রায় একমাস পর এই হাসপাতালটি চালু হতে যাচ্ছে।