
চট্টগ্রাম : প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
চেম্বার সভাপতি বলেন, করোনার মতো বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে স্বাস্থ্যখাত, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ বাজেট দেশে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করবে। এ বাজেট অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সময়োপযোগী। স্বাস্থ্য খাতে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা ও কৃষি খাতে ২৯ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৯৫ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান ইতিবাচক। তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।
চেম্বার সভাপতি বলেন, ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি, সর্বনিম্ন কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করায় করদাতাদের উৎসাহিত করবে। মহামারীর কারণে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ করদাতাদের জরিমানা ও সুদ ব্যতীত সময় বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড, সিকিউরিটিজ এবং পুঁজি বাজারে বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদানে বৈধ করার সুযোগকে স্বাগত জানিয়ে চেম্বার সভাপতি সবাইকে এ সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। এর ফলে অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত হয়ে তারল্য সংকট নিরসনে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় উৎপাদনমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রীম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা, রেয়াতের সময় ২ কর মেয়াদ থেকে বৃদ্ধি করে ৪ মেয়াদ করায় দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি ইত্যাদি সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ, রসুন ও চিনি আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রীম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ, পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে হাঁস, মুরগির খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রীম কর ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ২ শতাংশ নির্ধারণ করায় এসব পণ্যের মূল্য হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য দেশে পিপিই, মাস্ক ইত্যাদি উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি এবং পিপিই, মাস্ক, স্যানিটাইজার ইত্যাদি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ওপর সমুদয় শুল্ককর মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে যা এই ভাইরাস মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।