রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ছেঁড়া-ময়লা নোটের ভোগান্তি, দায় নিচ্ছে না ব্যাংকগুলো

| প্রকাশিতঃ ১৬ অগাস্ট ২০২০ | ৫:১৯ অপরাহ্ন

আবছার রাফি : দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক লেনদেনের নানা ফাঁকফোকরে হস্তগত হয় ছেঁড়া-ফাটা নোটের। ক্রেতা-বিক্রেতা যার কাছেই আসুক না কেন, একবার হস্তগত হলেই তা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েননি এমন মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে।

কীভাবে এ টাকা পরিবর্তন করতে হবে, বিনিময়মূল্য কী পরিমাণে পাওয়া যাবে তা নিয়ে সঠিক পথ জানা না থাকায় পাশাপাশি দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকসমূহের স্বেচ্ছাচারিতাও এই ভোগান্তির পেছনে দায়ী।

ছেঁড়া-ফাটা নোট গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তফসিলভুক্ত বেশিরভাগ ব্যাংক এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে চায় না। হরহামেশা ছেঁড়া নোটের বাহককে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ফলে অবস্থা যা হবার তাই হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতা দুইপক্ষই ছেঁড়া নোট চালানোর জন্য ফন্দিফিকির ও গোপনীয়তার আশ্রয় নিচ্ছেন। নিচ্ছেন চোখ ফাঁকি দেওয়ার কৌশল। আর এই কৌশলের অংশ হিসেবে পরিস্কার নোটের ভাঁজে অথবা অন্য মনস্কতার সুযোগ নিয়ে ছেঁড়ানোট চালানোর সুযোগ নিচ্ছে দাতা-গ্রহীতা উভয়ই।

১৩ আগস্ট (বুধবার) সরেজমিন চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ‘ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোট গ্রহণ করা হয়’ মর্মে ব্যাংকগুলোতে নোটিশ স্থাপনের নির্দেশনা থাকলেও এমন কোনো নোটিশ দেখা যায়নি অধিকাংশ ব্যাংকে।

হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংকে এ নোটিশ পরিলক্ষিত হলেও বাস্তবে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকতারা ছেঁড়া নোট গ্রহণে অনাগ্রহ দেখান। ফিরিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট বাহককে। অবস্থা বুঝে তারা কোনও কোনেও গ্রাহককে সরাসরি না করছেন, আবার কখনও কখনও বাড়তি আইন-কানুনের ঝামেলা দেখিয়ে বিদায় করছেন।

এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘নোট প্রত্যপর্ণ বিধিমালা-২০১২’ প্রণয়ন করলেও বাস্তবে এ বিধিমালার সুফল ভোগ করতে না পারায় ব্যাংকগুলোর প্রতি ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা গেছে ভুক্তভোগীদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ছেঁড়া–ফাটা নোট অবশ্যই বদলযোগ্য। অবস্থাভেদে ১০০ ভাগ, ৭৫ ভাগ, ৫০ ভাগ রিফান্ড করা হয়। সাধারণত ৫১ শতাংশের কম ছেঁড়া থাকলে নোটের পুরো মূল্যমানই প্রদান করা হয়। তবে একটি নোটের অর্ধেকেরও কম অংশ থাকলে, তা আর রিফান্ড করা হয় না।

এ অবস্থায় কোনো ব্যাংকের শাখা ছেঁড়া–ফাটা নোট বদলে না দিলে সেই ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর (এমডি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে।

৫শ’ টাকার একটি ছেঁঁড়া নোট নিয়ে ভোগান্তিতে পড়া এক গ্রাহকের সাথে কথা হয় একুশে প্রতিবেদকের সাথে। তিনি বলেন, নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় একটি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে এসেই চোখে পড়ে নিজের অজান্তে হস্তগত হওয়া ৫শ’ টাকার একটি নোটের। নোটটি ছেঁড়া বলেই গ্রহণ করতে চায়নি ব্যাংক কর্মকর্তা। এই নোটের বিকল্প নোট নেই বলে গ্রহণ করার অনুরোধ করলে তারা গ্রহণ করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। আমি বিভিন্ন সময়ে পত্র- পত্রিকায় দেখে আসছি ছেঁড়া নোট হুবহু পরিবর্তন বা বিনিময়মূল্য কিছুটা কমিয়ে ছেঁড়া টাকা পরিবর্তনের সুযোগ ব্যাংকের আছে। কিন্তু ব্যাংক সেটা কার্যকর করছে না। এমন কোনো সিস্টেম আছে কি না জানতে চেয়েও কোনো লাভ হলো না। এখনো সেই নোট নিয়ে ঘুরছি, কী করবো বুঝতে পারছি না।

এদিকে খণ্ডিত, ছেঁড়া নোট নিয়ে গ্রাহক-ভোগান্তির সুযোগ নিচ্ছে ছেঁড়া নোটের ব্যবসায়ীরা। লালদিঘী পাড়, কোতোয়ালী মোড়ে এধরনের কয়েকজন ব্যবসায়ী আছেন। যারা ফুটপাথে বসে ছেঁড়ানোট গ্রহণ করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বড় নোটের বিনিময়মূল্য দিচ্ছে অর্ধেকেরও কম। যার থেকে যেমন পারছে হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। ব্যাংকসেবা না পেয়ে অগত্যা মানুষকে দ্বারস্থ হতে হচ্ছে এসব নোট ব্যবসায়ীদের।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ছেঁড়া-ফাটা নোট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তা আমরা দেখি। তাছাড়া মাঝেমধ্যে আমরা নিজ দায়িত্বে দুয়েকটা জায়গায় যাই ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলাচ্ছে কিনা দেখতে।

এসময় ভুক্তভোগীরা ব্রাঞ্চের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।