
ফায়সাল করিম : বিশ্ববাজারে সংকট থাকায় ইস্পাত শিল্পের স্ক্র্যাপ বা কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এমন অবস্থা চলতে থাকাটা দেশের ইস্পাত শিল্পের জন্য অশনি সংকেত বলেই মনে করছেন স্থানীয় পর্যায়ের উৎপাদকেরা।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এ মাসের শুরুতেও সরবরাহে ঘাটতি আর ফ্রেইট খরচ বাড়তি থাকায় উচ্চ মূল্য দিয়ে স্ক্র্যাপ সরবরাহ করেছেন আমদানিকারকা। এ ধরনের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। যার ফলে দেশের ইস্পাতের চাহিদা ও দামে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
ইস্পাত শিল্পের এই পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলেছে দেশের বৃহৎ ইস্পাত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও। বাংলাদেশের প্রথম সারির ইস্পাত প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার জাহান রিফাত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে ইস্পাত শিল্পের এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষেণ করছেন।
একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে ইস্পাত স্ক্র্যাপের তীব্র ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই বছর ধরেই এসবের দাম আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে। এখনও তা সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে আমাদের কিনে নিতে হচ্ছে এবং মূল্য প্রতিনিয়তই বাড়ছে।’
দামের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এক মাস আগেও যেখানে প্রতি মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ ৩০০ ডলার ছিল সেখানে এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩৯০ ডলারে।’
তবে দামের চেয়ে স্ক্র্যাপ বা কাঁচামালের ঘাটতি বেশি উদ্বেগজনক বলে আশংকা প্রকাশ করেন শাহরিয়ার। তিনি জানান, এখন সকল নির্মাতারা উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য পার্সেল বুক করার জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘চীন ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা তাদের দেশে স্ক্র্যাপ আমদানির অনুমতি দেয়া হবে, যা এই পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলবে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের উৎপাদন ক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন হবে যদি স্থানীয় বাজার থেকে তা জোগান দেয়া না যায়। ইতিমধ্যেই করের বোঝায় ক্ষতিগ্রস্ত এই শিল্প যদি স্থানীয়ভাবে তার কাঁচামালের বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারে তবে তা স্থবির হওয়ার শংকা আছে।’
জানা গেছে, গেল সপ্তাহে (১৮ নভেম্বর) এক ভার্চুলায় সভায় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ইস্পাত শিল্পের বিকাশে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপের কথা জানান। এসময় শিল্পের কাঁচামাল সহজলভ্য করতে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জাহাজভাঙা শিল্পের স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।