
একুশে প্রতিবেদক : ‘ চিন্তা করছি প্যানেল যদি শুরু হয় ইয়াবা দিয়ে, শেষ কোথায় হবে?’ প্রশ্নটি দৈনিক পূর্বদেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার রাহুল দাশ নয়নের (নিয়ম রাহুল)। সোমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বহুল আলোচিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান, সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর এ সংক্রান্ত এক ফেসবুক পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর পোস্টটা ছিল এরকম – ‘হায়রে ভোট! দামি মোবাইল ফোন, শাড়ি চুড়ি, পাজামা পান্জাবিও কিংবা কচকচে টাকাই নিয়ামক শক্তি। ইয়াবাই মুখ্য! হায়রে ভোট! হায়রে নগর আমার!
এর আগে সোমবার (২২ মার্চ) বহুল প্রত্যাশিত চসিকের প্যানেল মেয়র নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত নবাগত (দ্বিতীয়বার নির্বাচিত) রামপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন সর্বোচ্চ ২৯ ভোট পেয়ে প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হন।
অপরপক্ষে বাগমনিরাম ওয়ার্ডের টানা ৫ বারের কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে টানা ৫ম বার নির্বাচিত কাউন্সিলর আফরোজা জহুর যথাক্রমে ২৭ ও ২৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হন।
এমন ফলাফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বইছে নগরজুড়ে। আর এই সমোলোচনার ঝড় সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সোমবার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ফেসবুকে প্রথম মুখ খোলেন। তার দেওয়া পোস্টে প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য প্রদান করতে গিয়ে অনেকেই নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় উপঢৌকন, টাকার খেলার পাশাপাশি নির্বাচিত একজন প্যানেল মেয়রকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলেও ইঙ্গিত করতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত রিয়াজ হায়দারের সেই পোস্টে ৭ জন শেয়ার ও ৪৭ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন। যেগুলোর বেশিরভাগই নেতিবাচক এবং চলমান প্যানেল মেয়র নির্বাচন সংস্কৃতির বিরুদ্ধ। যমুনা টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান জামশেদ চৌধুরী মন্তব্য করেন – ‘গুটি ব্যবসার কথা প্রশাসন জানে, তারপরও চুপ থাকার রহস্য কি!’
ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্ত লেখেন -‘কিছু রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধি আজ টাকার কাছে বিক্রি ও পরাজিত…। আর এদের জন্য আমরা সাধারণ মানুষের নিকট ভোট ভিক্ষা করি…ধিক এই অপসংস্কৃতির প্রতি…সজাগ হউন দেশবাসী…।’
আরাফাত হোসেন মন্তব্য করেন- ‘একজন প্রকাশ্য মাদক ব্যবসায়ীকে প্যানেল মেয়র বানালো। জনমতে এমন কথা চলছে।’ নজরুল ইসলাম নামের একজন লেখেন ‘গুটি ব্যবসায়ীর জয়জয়কার।’
আওয়ামী লীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী রানা রিয়াজ হায়দারকে উদ্দেশ করে লেখেন- ‘ভাই ধর্ষিত হল আমার নগর ভবন ,কালো টাকা ও ইয়াবা দিয়ে ।’ আতিক রহমান লিখেন – ‘যারা মোবাইলের লোভ সামলাতে পারে না তারা কিভাবে জনগণের সেবক হবে।’
মবিনুল হক নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন – ‘২ পার্টওয়ালা ফ্রিজ ও সোনার চেইন বাদ গেছে ভাইয়া ’। ফরিদ বঙ্গবাসী লেখেন – ‘আই ফোনের কেরামত ’।
আবার উল্টো জবাবও দেন সালাউদ্দিন কাওসার লাভলু নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘চেতনাই সব, নিজের আপন মানুষ আসে নাই বলে ক্ষোভ ঝাড়ছেন! হা হুতাশ করে লাভ কি ভাই! আপনারাই এই “ভোটারবিহীন রাজনীতি”র জন্ম দিয়েছেন। আপনারাও সমান অপরাধী, ইতিহাস আপনাদেরকেও ক্ষমা করবে না। ওয়েট এন্ড সি।’
এদিকে সিভয়েস২৪.কম-এর প্রধান প্রতিবেদক আলম দিদারও প্যানেল মেয়র নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফেসবুকে ব্যঙ্গ করে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আই ফোনের কাছে পরাজিত যোগ্যরা’। অবশ্য আই ফোন কে দিয়েছেন, কারা নিয়েছেন সে ব্যাপারে কিছুই তিনি উল্লেখ করেননি।
আলম দিদারের পোস্টে আরাফাত হোসেন নামের একজন মন্তব্য করেন `ইয়াবার টাকা ঢেলে দিয়েছে’। আর মনজুর মোরশেদ রনি মন্তব্য করেছেন -‘অর্থই সকল অনর্থের মূল’।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব সমালোচনার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চসিক’র নবনির্বাচিত প্যানেল মেয়র আবদুর সবুর লিটন বলেন, ‘পড়ন্ত সুর্য’র যারা দালালি করছেন এগুলো তাদেরই কাজ। এসবে আমার কিছু যায় আসে না। আমি ইয়াবা ব্যবসায়ী কিনা প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করুন। দেশের প্রশাসন, পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভালো করেই জানে আমি কী?
আলোচনার একপর্যায়ে আবদুস সবুর লিটন একুশে পত্রিকা প্রতিবেদকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এসময় একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, আমি এখন ঢাকায়। কিছুক্ষণ আগে উপর মহলে একুশে পত্রিকা নিয়ে কথা হচ্ছে, তিনি আমাকে অর্ডার দিয়েছেন একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করতে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার।-বলেন লিটন।
‘কেন মামলা করবেন, আপনাকে নিয়ে তো এখনো কোনো নিউজ হয়নি। তাছাড়া কথা হচ্ছে জাস্ট এখনই। একঘণ্টা আগেই বা কেন একুশে পত্রিকা নিয়ে উপর মহলে কথা হচ্ছে, ক্ষোভটা কি তাহলে পরিকল্পিত’ -এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি আবদুস সবুর লিটন।
এসময় প্রতিবেদককে পাগল, রাস্তায় রাস্তায় অনেক সাংবাদিক ঘুরে বেড়ায় এবং নিজেও একটি পত্রিকা চালান জানিয়ে হুঙ্কার ছুড়তে শোনা যায় নতুন প্যানেল মেয়র লিটনকে।
অপরদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা থেকে ১ টার মধ্যে প্যানেল মেয়র-২ গিয়াসউদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
### গণমাধ্যমকর্মীরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে : প্যানেল মেয়র লিটন (অডিও)