
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে চট্টগ্রামের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষা লাভ করে অনেক গুণি ব্যক্তি দেশ বিদেশের অনেক উচ্চ পদমর্যাদায় আসীন হয়েছেন। প্রতিবছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় দক্ষিণ চট্টগ্রামে বরাবরই ফলাফলে প্রথম স্থান ধরে রাখে এ বিদ্যালয়। নানা ছড়াই উৎরাই পেরিয়ে সাফল্যের ঝুঁড়িতে অনেক কিছু অর্জিত হলেও ১৭০ বছরের সুপ্রাচীন এ বিদ্যালয়টি নানা কারণে সরকারীকরণে পিছিয়ে রয়েছে। সরকারিকরণের দাবিতে এবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের হলরুমে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. সৈয়দ সাইফুল ইসলাম। এসময় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে পেশ করা স্মারকলিপি পাঠ করেন প্রধান শিক্ষক সুনিল কুমার বড়ুয়া।
প্রাচীন এ বিদ্যালয়কে সরকারীকরণের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন, এম এ কাসেম, আহমদ কবির, আরাফ আলী চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম মামুন, নজরুল ইসলাম বিপ্লব, গুলশান আরা বেগম, শিক্ষক প্রতিনিধি চন্দন কান্তি নাথ, সাইফুল আজম, রুমা চক্রবর্তী, সাবেক সদস্য নজরুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সাবেক মহকুমা পটিয়া উপজেলায় কোন বালক উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি নাই। বর্তমান সরকার সারাদেশে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কার্যকর করলেও পটিয়া তা থেকে বঞ্চিত। অথচ ইতিহাসের বিশাল বটবৃক্ষ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় একটি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত বিদ্যাপীঠ। ১৮৪৫ সালে স্থাপিত এ সুপ্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সমগ্র দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিদ্যানিকেতন। এদেশের শিক্ষাজগতে এটি একটি অনির্বাণ দীপশিখা। নিরন্তর শিক্ষার আলোক বিতরণে এবং আলোকিত সামাজিক বাতাবরণ তৈরিতে এর অনন্য ও ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। প্রায় দু’শতাব্দী ধরে অগণিত বিদ্যার্থী এ ঐতিহ্যমন্ডিত বিদ্যাকানন থেকে আহরণ করেছেন জ্ঞানপুষ্প। চট্টগ্রামের মধ্যে যাঁরা বিদগ্ধ ও প্রজ্ঞাবান হিসেবে সম্মানিত এবং বিশ্ববিশ্রুত মনীষী- তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন এ স্কুলের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী।
বিখ্যাত ব্যক্তিদের আগমনের জন্যেও এ বিদ্যাপীঠের নাম ইতিহাসে সমুজ্জ্বল। অবিভক্ত ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৪৩ সালে এ স্কুলের সুবিশাল মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন ভারতের অবিসংবাদিত নেতা পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ মাঠে এসেছিলেন দু’বার। একবার ১৯৭০ সালে ২৫ এপ্রিল এবং আরেকবার ১৯৭৩ সালে। দু’টো জনসভাতেই লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটেছিল। সাম্প্রতিক কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনও এই স্কুলের ঐতিহাসিক মর্যাদাকে করেছে সমুজ্জ্বল। ১৯৯৬ সালে এবং ২০১৮ সালের ২০ মার্চ এ স্কুলের মাঠেই আপনি এক বিশাল জনসমুদ্রে ভাষণ দিয়েছিলেন। জননায়কদের আগমনধন্য হয়ে এভাবেই এ স্কুল স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।