রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামের প্রথম ‘স্টিল স্ট্রাকচার ভবন’ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের গল্প

| প্রকাশিতঃ ২৩ মার্চ ২০২৩ | ১০:৪২ পূর্বাহ্ন


এম কে মনির : ২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশে ‘স্টিল স্ট্রাকচার ভবন’ নির্মাণ শুরু হয়। তবে এর ব্যাপ্তি, জনপ্রিয়তা পেতে সময় লেগেছে আরও কয়েক বছর। যদিও উন্নত বিশ্বে স্টিলের ভবন নির্মাণের প্রচলন শুরু হয় বহু আগে থেকে।

গোড়ার দিকে বাংলাদেশে স্টিল স্ট্রাকচার ভবনের নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ, কাঠামো, প্রাক প্রকৌশলের কাজ করত ঢাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ইট-পাথরের (আরসিসি) তুলনায় স্টিলের ভবন নির্মাণে ব্যয় কম, দীর্ঘস্থায়ী, টেকসই, সহজে মেরামতযোগ্য, স্থানান্তরযোগ্য, অধিক রিসেল ভ্যালু ও ভূমিকম্পসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহায়ক। ফলে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও ধীরে ধীরে শিল্প উদ্যোক্তারা স্টিল দিয়ে তাদের কারখানার ভবন গড়ে তুলতে শুরু করেন।

এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্রিজ, সেতু, শপিং কমপ্লেক্স, রেলস্টেশন, বাস স্টেশন, যাত্রী ছাউনিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে স্টিলের দিকে ঝুঁকতে থাকে। তবে চট্টগ্রামের শিল্পপতি ও সরকারি সংস্থাগুলোকে স্টিলের ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত সামগ্রী এবং স্থাপত্য কৌশলের জন্য ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরেই ভর করতে হতো।

এতে নির্মাণ ব্যয় যেমন বাড়ত। তেমনি মানের ক্ষেত্রে নতুন, অচেনা প্রতিষ্ঠানকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা ছাড়া উপায়ও ছিলো না। ফলে এক ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্টিল ভবন বা স্থাপনা বানাতে হতো। ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে স্টিল ভবন নির্মাণ ও সামগ্রী সরবরাহকারী কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। কিন্তু চট্টগ্রামে শিল্পের অগ্রগতির সাথে সাথে ক্রমেই স্টিল ভবনের চাহিদা বাড়তে থাকে। জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে স্টিল স্ট্রাকচার শিল্প। অথচ বরাবরের মতোই বাজারে এর মান নিয়ে আস্থার অভাব ছিলো যথেষ্ট।

চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক, শিল্প, আবাসিক ভবন স্টিলে করতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের জন্য মানসম্মত নির্মাণের দক্ষতা ও প্রাক প্রকৌশল সক্ষমতা নিয়ে ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে প্রথম যাত্রা শুরু করে সুপরিচিত, স্বনামধন্য কেআর শিল্প গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কেআর স্টিল স্ট্রাকচার লিমিটেড (কেএসএসএল)। তবে এটি এখন আর চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ নেই। দিনে দিনে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা, সিলেট, যশোরসহ সারাদেশের আনাচে-কানাচে আস্থা-ভরসার ঠিকানা হয়ে উঠেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন নতুন স্টিল কারখানা, ওয়্যারহাউজ, ভবন, স্থাপনা নির্মাণের বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে উঠেছে কেআর স্টিল স্ট্রাকচার লিমিটেড। গৌরব অর্জন করেছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প ও শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের বড় বড় কারখানা নির্মাণের।

প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠার গল্প

একটা সময় চট্টগ্রামে স্টিল ভবন নির্মাণ করে দেয়ার মতো কোনো প্রতিষ্ঠান ছিলো না। অথচ আরসিসিকে পেছনে ফেলে স্থান দখল করে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের জায়গা দখল করে স্টিল স্ট্রাকচার ভবন। ফলে এর চাহিদা বাড়তে থাকে দিনদিন। কিন্তু মানসম্মত কাজের অভাব রয়ে গেছে বরাবরের মতোই। সীতাকুণ্ডের শিল্পপতি, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এম এ কাশেম রাজা’র (রাজা কাশেম) ছোট ছেলে তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা মো. তসলিম উদ্দিন ঘাটতির এ বিষয়টি অনুধাবন করলেন। ভাবলেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা এ শিল্পের অগ্রগতির কথা। বিনিয়োগকারীরা যেন সহজেই যেকোনো শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারেন- এজন্য তাদের উৎসাহিত করতেই তিনি ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে প্রথম স্টিল স্ট্রাকচার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরায়। যেখানে ১ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে তার কেআর স্টিল স্ট্রাকচারের ম্যানুফকচারিং কারখানার অবস্থান। শুরু থেকেই শক্ত হাতে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এ প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. তসলিম উদ্দিন। এরপর থেকে চট্টগ্রামে এ শিল্পের বিকাশে নেপথ্যে নায়ক হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। গত ৫ বছরে চট্টগ্রামে স্টিল কাঠামোয় গড়ে ওঠা বেশিরভাগ শিল্পকারখানাই তার মালিকানাধীন কেআর স্টিল স্ট্রাকচার লিমিটেডের হাত ধরে।

কেআর স্টিল স্ট্রাকচারের শুরুর কথা

২০১৭ সালে শুরুটা হয়েছিল নিজেদের গ্রুপের কেআর রি-রোলিং মিলস নামক একটি কারখানার স্টিল স্ট্রাকচার ভবন করার মাধ্যমে। এরপর দেশের অন্যতম শীর্ষ ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান বানাতে কেআর স্টিল স্ট্রাকচারের উপর ভরসা করে। সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ায় সবচেয়ে বড় ওয়্যারহাউজটি নির্মাণের জন্য কেআর স্টিল স্ট্রাকচারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় জিপিএইচ। খুব কম সময়ে ৬৫ হাজার বর্গফুট আকৃতির দৃষ্টিনন্দন এ ওয়্যারহাউজটি অত্যন্ত সুচারুরূপে গড়ে তুলেন কেআর স্টিল স্ট্রাকচারের অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা। যা ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয় স্টিল ইন্ডাস্ট্রিতে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির কাজের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বড় বড় শিল্প গ্রুপগুলো বিনিয়োগে নেমে কেবল জমি কিনে কারখানা নির্মাণের বেলায় থেকেছেন অনেকটা নির্ভাবনায়, নিশ্চিন্তে। কেননা কম সময়ে সহজে কারখানা করে দ্রুত উৎপাদনে যেতে তারা কেআর স্টিল স্ট্রাকচারকেই বেছে নিয়েছেন। কেআর স্টিল স্ট্রাকচারও তাদের সুনাম নষ্ট হতে দেয়নি।

কেআর স্টিল স্ট্রাকচার বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন এলাকার বিএসআরএম ওয়েল্ডেড ওয়ার মেশ প্ল্যান্ট, মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাটের বিএসআরএম বিলেট উৎপাদন কারখানা, কেডিএস গ্রুপ, ক্লিপটন, বারটেক্স গ্রুপের চট্টগ্রামের কারখানা, ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রিমিয়ার সিমেন্ট কারখানা, নারায়ণগঞ্জের এসিআই হেলথকেয়ার ফ্যাক্টরি, খাগড়াছড়ির ঠাণ্ডাছড়ির আলরাজি কেমিক্যাল কমপ্লেক্স, গাজীপুরের ইউনিলিভার ওয়্যারহাউজ, গাজীপুরের আরপিকো টায়ারস ফ্যাক্টরি, আরপিকো ওয়াটার ট্যাঙ্ক ফ্যাক্টরি, যশোরের সিরাজগঞ্জের নাহার এগ্রোর ফিড ফ্যাক্টরি ও কর্ণফুলী নদীর ওপারের হাক্কানি গ্রুপের বড় টিস্যু উৎপাদন ফ্যাক্টরি স্টিল স্ট্রাকচার ভবনে করা হয়েছে। আর এসব কারখানা বানিয়েছে চট্টগ্রামের কেআর স্টিল স্ট্রাকচার লিমিটেড।

তবে কেবল বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানই নয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ করার গৌরবও অর্জন করেছে কেআর স্টিল স্ট্রাকচার। সিলেটে গড়ে উঠা দেশের প্রথম স্মার্ট বাস স্টেশনটি নির্মাণে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। যা স্টিল স্ট্রাকচারে নির্মিত দেশের অনন্য আধুনিক স্থাপত্য কৌশল ও সৌন্দর্যের আরেক নিদর্শন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চিটাগং শপিং কমপ্লেক্স নামে বৃহত্তর প্রকল্পটিও গড়ে ওঠেছে এ প্রতিষ্ঠানের হাতে। এখন পর্যন্ত কেআর স্টিল স্ট্রাকচার মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, কেইপিজেডসহ সারাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের অর্ধশতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে সুনামের সাথে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগে স্টিল স্ট্রাকচার ভবন নির্মাণ ও প্রাক-প্রকৌশল দক্ষতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের সক্ষমতায় এ প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে পৌঁছে গেছে।

উচ্চমানের, টেকসই স্টিল ভবন নির্মাণে সক্ষম কেআর

কেআর স্টিল স্ট্রাকচার লিমিটেড এখন দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প গ্রুপ কেআর এর বৈচিত্র্যময় ব্যবসায়িক ইউনিটগুলির মধ্যে একটি। এটি বাণিজ্যিক, শিল্প ও আবাসিকে উচ্চমানের, টেকসই প্রাক-ইঞ্জিনিয়ার যুক্ত ইস্পাত ভবন সরবরাহ করতে পারদর্শী, সিদ্ধহস্ত। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বহুমুখী শিল্প, বাণিজ্যিক, খুচরা, কৃষি, উৎপাদন, স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ও স্টোরেজ সুবিধার যেকোনো স্টিল স্ট্রাকচার ভবন নির্মাণে পূর্ণ অভিজ্ঞ। তারা যেকোনো ডিজাইনের স্পেসিফিকেশন পূরণ করতে সক্ষম। সেই সাথে তারা মানুষের স্থাপত্য কল্পনাকে সাহায্য করতে অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। একজন গ্রাহক পৃথিবীর যেখানেই অবস্থান করুক না কেন কেআর স্টিল স্ট্রাকচার লিমিটেড প্রচলিতভাবে নির্মিত কাঠামোর তুলনায় কম উৎপাদন খরচে, কম সময়ে, ঝামেলামুক্তভাবে ভবন বানিয়ে দিতে সক্ষম। এ প্রতিষ্ঠানটির ৬টি সেকশনে মিশে আছেন প্রায় সাড়ে তিনশ’ জনশক্তি। তন্মধ্যে বুয়েট, চুয়েটসহ সারাদেশের ৩০ জন অভিজ্ঞ, মেধাবী বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী প্রকৌশলী রয়েছেন। এটির বর্তমান বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে।

কথা হয় কেআর স্টিল স্ট্রাকচারের জেনারেল ম্যানেজার (ফ্যাক্টরি এন্ড প্রজেক্ট) ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিনের সঙ্গে। যিনি কৃতিত্বের সঙ্গে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক বিল্ডিং কোডগুলো ফলো করে থাকি। আমাদের মেটেরিয়ালসগুলো চায়না, ইন্ডিয়া, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ান থেকে আমদানি করা। টেকনিক্যাল প্যারামিটারগুলো আমরা অত্যন্ত ভালোভাবে রক্ষা করি।’

এ খাতের চ্যালেঞ্জ, প্রতিবন্ধকতা

ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন বলেন, ‘বর্তমানে এ খাতটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একটি কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে আমাদের। বিশেষত ডলার সংকট আমাদের সংকটকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া মার্কেটে এলসি খোলা যাচ্ছে না৷ এ পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তাও নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে সহসা উদ্ভুত এ পরিস্থিতি কাটবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডলার সংকটের আগে আমরা সহজেই বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করতে পারতাম। কিন্তু এখন করা যাচ্ছে না। কখনও ফান্ড আটকে যাচ্ছে। কখনও তারল্য সংকট। দাম ওঠানামা করছে। যখন আমরা এলসি নিচ্ছি তখন এক রকম রেট, যখন ফাইনাল পেমেন্ট করছি তখন অন্যরকম। আগে যেটা আমরা ৯০ টাকায় নিতাম এখন সেটা ১১৫ টাকা। ধরুন আমি ক্লায়েন্ট থেকে কাজ নিলাম ১০০ টাকার হিসেবে। কিন্তু ফাইনাল পেমেন্ট করতে গিয়ে সেটি ১২০ এ ঠেকেছে। বলা চলে ডলার রেট, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বাড়তি দাম সবকিছু মিলে আগের তুলনায় খরচ বেড়েছে অনেক। এই যে গ্যাপটা তৈরি হয়েছে সেটি এ খাতের উপর টর্নেডের মতো আছড়ে পড়েছে। ফলে ঝুঁকিটা অনেক বেড়ে গেছে। এ খাতের জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সকলে এ সংকট নিয়ে চিন্তিত, উদ্বিগ্ন। হয়তো আরও কিছুদিন সময় লাগবে এ সংকট কাটতে। কেননা এটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস। পুরো বৈশ্বিক সমস্যা।’

প্রয়োজন সরকারের সুনজর, সুদৃষ্টি

ইঞ্জিনিয়ার আল আমিন বলেন, ‘এ খাতটি যেভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে ঠিক সেভাবে আমাদের সরকার এটিকে সাপোর্ট দিচ্ছে না। বিশেষ করে সরকারের নীতি সুবিধাগুলো পাওয়া গেলে এ শিল্পের বিকাশ আরও দ্রুত হতো। বিনিয়োগকারীরাও আরও বেশি আগ্রহী হতেন। যত বেশি বিনিয়োগ বাড়বে, ততবেশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। স্টিলে কখনও সরকারের নীতি সুবিধাগুলো ছিলো না। আমদানির উপর ভ্যাট রেটে সুবিধা নেই। এতে করে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের খরচ বেড়ে গেলে বিনিয়োগকারীদেরও খরচ বেড়ে যায়। আর খরচ বাড়লে শিল্প উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে নিরুৎসাহিত হয়। তারা তখন ভাবে এখন দাম বেশি পড়বে। পরে করবো৷ এভাবে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নষ্ট হয়।

স্টিল স্ট্রাকচারে নীতিমালা জরুরি

কেআর স্টিল স্ট্রাকচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তসলিম উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘স্টিল স্ট্রাকচারে সরকারের সুনজরের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট নীতিনালাও জরুরি। কেননা নীতিমালার অভাবে সরকার এ খাত থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। আমার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী আমদানি করছে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে প্লেট এনে বানিয়ে দিচ্ছে। এতে কাজের মান নষ্ট হচ্ছে। আমাদের কাজের মান আর তাদের কাজের মান আকাশ-পাতাল ব্যবধান। আমরা জবাবদিহির মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। রেডিমেড ওয়ার্কশপে যারা কাজ করছেন তাদের বেলায় নিয়মের বালাই নেই। এতে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। বিনিয়োগকারীরাও অনেক সময় মানহীন কাজের শিকার হচ্ছেন। তাই এ খাতে নীতিমালা হওয়া প্রয়োজন। তা হলে মানহীন কাজ যারা করছেন তারা হয় মার্কেটে নীতিমালা মেনে কাজ করবেন, নয়তো মার্কেট থেকে আউট হতে বাধ্য হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে স্টিল নিয়ে যেনতেনভাবে যারা কাজ করছেন তাদের মান আর আমাদের মানে অনেক তফাৎ। এটি কখনোই সেইম কোয়ালিটির না। এতে যিনি প্রজেক্ট করছেন তার উপর প্রভাবটা গিয়ে পড়ছে। তাছাড়া বাইরে থেকে স্টিল রেডিমেড নিয়ে আসাকেও নিরুৎসাহিত করতে হবে। তা হলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উৎসাহিত হবে। সেই সাথে দেশেরও লাভ হবে, এ শিল্পটা বহুদূর এগিয়ে যাবে।’

এ শিল্পের সম্ভাবনা ও বিকাশ প্রসঙ্গে মো. তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, পর্যাপ্ত দক্ষ জনশক্তি, সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদপুষ্ট অপার সম্ভাবনার দেশ। আর এ সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতেই আমাদের সব চ্যালেঞ্জ। দেশ ও জাতির উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এ চ্যালেঞ্জগুলো শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমাদের কেআর স্টিল স্ট্রাকচার লিমিটেড প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারিং, সাপ্লাই এবং ইরেকশনে দারুন খ্যাতি অর্জন করেছে। ইতিমধ্যে আমরা বাংলাদেশের সেরা স্টিল স্ট্রাকচার সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত পেয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন মূলত শিল্পায়নের উপর নির্ভর করে। আর কাঠামোগত উন্নয়নই শিল্পায়নের মূল চাবিকাঠি। আমরা এই বিন্দুতেই ফোকাস করে থাকি। আমাদের কোম্পানি অত্যন্ত সুচিন্তিত পরিকল্পনা, সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য ও পরিসেবার শ্রেষ্ঠ গুণগতমান নিশ্চিত করে থাকে। গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তাকে সর্বোচ্চ উপরে রেখেই আমাদের পথচলা। কেননা গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কেআর স্টিল স্ট্রাকচার সবসময় উন্মুখ।’