চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফানের ‘হত্যার’ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের ‘নাম-পরিচয়’ তদন্ত সংস্থা সিআইডিকে জানিয়েছে তার বোন জুবাঈদা সরওয়ার নিপা।
মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সিআইডির চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কথা বলেছেন জুবাঈদা সরওয়ার নিপা ও তার স্বামী সরওয়ার আলম।
এ প্রসঙ্গে দিয়াজের বোন জুবাঈদা সরওয়ার নিপা বলেন, ‘মামলায় যাদেরকে আসামি করেছি তাদের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর বাইরে কাউকে আমরা সন্দেহ করছি কিনা সেটাও জানতে চেয়েছেন তিনি। মামলা সংক্রান্ত আরও কিছু তথ্য তিনি জানতে চান। আমরা যাদেরকে সন্দেহ করছি তাদের তথ্য ওনাকে জানিয়েছি।’
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মঙ্গলবার দিয়াজের বোনের সাথে কথা বলে কিছু তথ্য জেনে নিয়েছি। এবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যা যেহেতু এসেছে এখন জড়িতদের খুঁজে বের করাই হবে প্রথম কাজ।’
এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বরে দিয়াজের লাশ উদ্ধারের পর দিয়াজের পরিবার দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণকাজের দরপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম ময়নাতদন্তের পর ২৩ নভেম্বর চিকিৎসকরা ‘আত্মহত্যা’র কথা বলেন; ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তিনজন ফরেনসিক চিকিৎসকের স্বাক্ষর ছিল।
২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য দিয়াজের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ছাত্রলীগ নেতার দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার চিকিৎসকের বরাত দিয়ে গত ৩০ জুলাই সিআইডি জানায়, দিয়াজের মৃত্যু শ্বাসরোধজনিত হত্যাকান্ড।
এদিকে দিয়াজের প্রথম ময়নাতদন্তে ‘ভুল’ কেন, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা; মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে দিয়াজ হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত এক কর্মসূচীতে তারা এই দাবি জানায়।