কক্সবাজার: পথে পথে ব্যাপক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রোববার বিকাল ৫টার দিকে তাকে চকরিয়া বাস স্টেশন এলাকায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চকরিয়া স্টেশন পার হয় বেগম জিয়ার গাড়ী বহর। রাত ৮ টার দিকে গাড়ি বহরটি কক্সবাজার ঢুকে।
খালেদার জিয়ার গাড়ী বহরে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং এর সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, চকরিয়ার রাস্তার দুই পাশে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড প্রদর্শন করে সংবর্ধনা জানায় দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও বেশ লক্ষ করার মতো। তিনি বলেন, সড়কে শুধু মানুষ আর মানুষ। কক্সবাজারবাসী বেগম জিয়াকে কি পরিমাণ ভালবাসে এটি তার প্রমাণ।
তবে এই ভিড় ছাপিয়ে কিছু কিছু এলাকায় পথচারীদের দুর্ভোগও সৃষ্টি হয়েছে। অগণিত মানুষের ভিড়ে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন অনেকে। সড়কে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক যান চলাচল।
খালেদা জিয়ার আগমনে একদিকে যেমন হাজার হাজার নেতাকর্মীর কণ্ঠে উচ্ছ্বসিত শ্লোগান উঠেছে, অন্যদিকে কিছু মানুষকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।
রোববার দুপুর সোয়া বারোটার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস ছাড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে শনিবার ঢাকা ছাড়েন তিনি।
পাঁচ বছর পর কক্সবাজারে বিএনপি প্রধানের এ সফরকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার তিনি উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন। এ সময় তিনি প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে ত্রাণ দিবেন।
সোমবার সকাল ১১টায় উখিয়ায় বালুখালি পানবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বালুখালি-২, হাকিমপাড়া ও শফি উল্লাহকাটা ঢালা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন খালেদা জিয়া। ওই দিন বিকেলে কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তার রাত্রি যাপন করার কথা রয়েছে।
২০১২ সালে রামু বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শনে কক্সবাজার আসেন বেগম জিয়া। সুদীর্ঘ ৫বছর পর তার আগমনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
এদিকে তার সফরসূচি সফল ও তদারকি করতে শুক্রবারই কক্সবাজারে এসেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানঁ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও জাতীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস।
এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার সাথে রয়েছেন মির্জা ফখরুলসহ একডজন কেন্দ্রীয় নেতা। মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান কক্সবাজারে এসে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের সাথে দফায় দফায় মিটিংয়ে বসে সবকিছু তদারকী করছেন।
এদিকে গত শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের তারকামানের হোটেল লংবীচ এর লবিতে প্রেসব্রিফিংয়ে মুখোমুখি হন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি রোহিঙ্গাদের মাঝে আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। তাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখতে ও ত্রাণ সহায়তা দিতে এসেছি। ৩ বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন রোববার কক্সবাজারে পৌছেন। সোমবার সকালে সড়কপথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শন ও ত্রাণবিতরণ করতে যাবেন। তিনি বেগম জিয়ার সফরসূচি সফল করতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন সর্বাত্মক সহযোগিতার। আশা করি সবাই এগিয়ে আসবেন।
জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ হিসেবে ১১০ টন চাউল, প্রসূতি মা ও শিশুদের মাঝে খাদ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করবেন। তিনি ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারপাসনের পরিদর্শনস্থল ও ত্রাণবিতরণের সম্ভাব্য এলাকা দেখে বলেন, আগের চেয়ে অনেক শৃংখলা ও সীমাবদ্ধতা ফিরে এসেছে। এজন্য তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আওয়ামী লীগের সামলোচনা করে বলেন, বিএনপি শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় ও সহযোগিতা করে আসছে। আর আওয়ামী লীগ লুটপাট ছাড়া কিছুই করেনি।
বিএনপির দফতর সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে জেলা বিএনপি ১৪ টি সাংগঠনিক ইউনিট গঠন করে যাবতীয় প্রস্তুুতি সম্পন্ন করেছে।
এ উপলক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বেগম জিয়ার সফর উপলক্ষে ৬টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিগুলো হলো- অভ্যর্থনা উপ-কমিটি, শৃঙ্খলা উপ-কমিটি, আপ্যায়ন উপ-কমিটি, অর্থ উপ-কমিটি, মিডিয়া উপ-কমিটি এবং ত্রাণ উপ-কমিটি। জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা কমিটিগুলোর তত্ত্বাবধান করবেন।
প্রস্তুুতির অংশ হিসেবে রোববার চকরিয়ার উত্তর হারবাং থেকে শুরু করে জেলা প্রতিটি এলাকায় ও কক্সবাজার সার্কিট হাউজ এলাকা পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, খালেদা জিয়া উখিয়া-টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে ত্রাণবিতরণ করবেন। দলীয় চেয়ারপারসনকে জেলায় অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। চেয়ারপারসনের আগমন উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।