শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

গুইমারায় অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মেজরসহ ১১ সেনা সদস্য আহত, বাজারে আগুন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ৭:০৬ অপরাহ্ন


খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের সময় গুইমারা উপজেলায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সিন্দুকছড়ি জোনের উপ-অধিনায়কসহ অন্তত ১১ জন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।

রোববার বেলা ১১টার দিকে গুইমারা উপজেলা সদরের খাদ্যগুদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর রেশ ধরে পরে রামছুবাজারে কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

আহতদের মধ্যে সিন্দুকছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মাজহার হোসেন রাব্বানীর নাম জানা গেছে। তাকেসহ আহত বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গুইমারা উপজেলা প্রশাসন শনিবার বিকেল তিনটা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে।

রোববার সকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে অবরোধকারীরা গুইমারা খাদ্যগুদামের সামনে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে অবরোধকারীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে মেজর মাজহারসহ ১১ জন সেনা সদস্য আহত হন।

সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এর কিছুক্ষণ পরেই নিকটবর্তী রামছুবাজারে কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলসহ পুরো জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।