নিউজিল্যান্ড সফর বাংলাদেশের জন্য অগ্নিপরীক্ষার সম্ভাব্য সেরা মঞ্চ। সফরটা টাইগারদের জন্য সহজ হবে না সেটাও আগে থেকে অনুমিত ছিল। সিরিজও এগোচ্ছে সেভাবেই। জয় দূরে থাক, কিউইদের সঙ্গে ন্যূনতম লড়াইটুকু করতে পারছে না বাংলাদেশ। ‘ব্যাক টু ব্যাক’ ওয়ানডে হেরে মাশরাফিরা এখন কিউইওয়াশের মুখে। আজ ভোর চারটায় শুরু হওয়া ম্যাচটা অতিথিদের জন্য ধবলধোলাই ঠেকানোর উপলক্ষ।
প্রথম ম্যাচের ছন্নছাড়া ফিল্ডিং, বাজে বোলিং এবং ব্যাটিং ব্যর্থতার মাশুল ৭৭ রানের হার দিয়ে গুনেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটার দুঃস্মৃতি দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ভোলার সুযোগ ছিল টাইগারদের। জয়ের পথে হাঁটা মাশরাফিরা হঠাৎই পথভ্রষ্ট। সাব্বির রহমানের একটি রান আউটই তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিয়েছে অতিথিদের ব্যাটিং অর্ডার। পরিণাম, ক্রাইস্টচার্চের পর নেলসনেও হার। ব্যবধানটা শুধু ১০ রান কমেছে। আজ স্যাক্সটন ওভালের এই ভেন্যুতেই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওডিআই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডকে ডেকে এনে বাংলাওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। রাগবির দেশে টাইগারদের এই সফর তাদের জন্য প্রতিশোধের সুযোগ হয়েই এসেছে। সুযোগটা দারুণভাবেই কাজে লাগাচ্ছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। আজ তাদের জন্য প্রতিশোধের ষোলোকলা পূর্ণ করার।
ম্যাচটা সিরিজ জয়ের সুযোগ হতে পারত বাংলাদেশের জন্যও। নেলসনের জেতা ম্যাচ হেরে না গেলে আজকের ম্যাচটার রোমাঞ্চ উঠে যেতে পারত তুঙ্গে। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কণ্ঠে তাই দীর্ঘশ্বাস, ‘কালকে (বৃহস্পতিবার) জিততে পারলে সিরিজটা অন্য রকম হতে পারত। আজকের (শুক্রবার) দিনটিই অন্য রকম থাকত। আমারও একটি পরিকল্পনা ছিল।’
বাংলাদেশ জিতলে একটি বিশেষ পরিকল্পনা ছিল মাশরাফির। জয়ের পথে দারুণভাবেই ছিল দল। কিন্তু নিজেরাই আবার ধরে উল্টো পথ। মাশরাফির পরিকল্পনা মারা যায় মাঠে, স্যাক্সটন ওভালে! পরদিনই আরেকটা ম্যাচ। কিন্তু আগের দিনের হার ছাড়ছিল না পিছু। দল হয়তো হতাশায় আচ্ছন্ন নয়, তবে রেশটা আছে ঠিকই। মাশরাফির পাশে বসে তামিম ইকবালও বলছিলেন আফসোসের কথা। নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করলেন অকপটে। নিজেদের রান আউটের কাটাছেঁড়া করলেন ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমান। সুযোগ হাতছাড়ার হতাশা কমবেশি সবার কণ্ঠেই।
সিরিজের ফয়সালা হয়ে গেছে। শেষ ম্যাচের আগের দিন দুদলেরই ছিল না অনুশীলন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ছিল ছুটি। সকাল থেকে তবু সবাই ছিলেন হোটেলেই। দুপুরের দিকে অবশ্য দল গিয়েছিল ন্যাশনাল পার্কে ঘুরতে। হারের হতাশা ভুলতে ও সবাইকে একটু ফুরফুরে করতে উদ্যোগটা কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। জিম করার জন্য অবশ্য ঘুরতে যাননি মাশরাফি। যাননি তামিম, সাকিব ও মুশফিক।
এই ঘোরাঘুরিতে দল কতটা চাঙা হলো, বলা কঠিন। তবে খুব একটা হওয়ার কথা নয়। আগের দিনের হারের ক্ষতটা যে বেশ গভীর! মাশরাফিও মেনে নিচ্ছেন, শেষ ওয়ানডেতে ভালো কিছু করাও সহজ হবে না, ‘সবাই আশা করছিল ম্যাচটি আমরা জিতব। বিশেষ করে ম্যাচের মাঝ বিরতিতে ছেলেরা কেউই আশা করেনি হারবে। ভালো একটা শুরুর পর যেভাবে হেরেছি আমরা, ছেলেরা হয়তো এটা নিয়ে ভাবতেও পারে। সত্যি বলতে শেষ ম্যাচে কাজটা কঠিন হবে।’
শেষ ম্যাচের আগে এটিই আসলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নেলসনের উইকেট-কন্ডিশন বাংলাদেশের জন্য কঠিন নয় মোটেও। বরং এখানকার স্বাভাবিক উইকেটের চেয়ে এটি একটু মন্থর বলে এবং আগের ম্যাচে কেন উইলিয়ামসনের কার্যকারিতায় নিউজিল্যান্ড দলে ডেকেছে জিতান প্যাটেলকে। একাদশে থাকলে এই অফ স্পিনার ওয়ানডে খেলবেন ৭ বছর পর! বাংলাদেশ ফিরে পাবে আগের ম্যাচে বিশ্রাম থাকা মুস্তাফিজুর রহমানকে।
নিউজিল্যান্ডে মাটিতে টাইগারদের কোনো জয়ের নজির নেই। বছরের শেষ দিনে ইতিহাসের দেয়ালটা মাশরাফিরা ভাঙতে পারবেন তো? উত্তরটা মিলে যাবে আজই।