বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

অবহেলায় আ’লীগ নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, পার্কভিউ’র বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০, ১:৩৭ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার জন্য গেলেও করোনা সন্দেহে আইসিইউ দেয়া হয়নি। আর আইসিইউ না পেয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে।

আর এই অভিযোগে পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মৃতের স্বজনেরা।

ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম মোহাম্মদ হোসেন প্রকা্শ বাঁচা সওদাগর (৬৫)। তিনি কর্ণফুলী উপজেলাধীন ৪ নং শিকলবাহা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মৃতের ভাতিজা ইসহাক ইমনের অভিযোগ, আইসিইও না পেয়ে দুই ঘণ্টার মাথায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মৃত্যু হয় তার চাচার।

ইমন একুশে পত্রিকাকে বলেন, গত ১৫ জুন পার্কভিউ হাসপাতালে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হতে যান মোহাম্মদ হোসেন। কিন্তু নানা অজুহাতে সেখানে ভর্তি নেওয়া হচ্ছিল না। এরপর বিভিন্ন তদবিরের পর ভর্তি করে সিসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। নমুনা পরীক্ষা দিলে তার করোনা নেগেটিভ আসে। এরপর কিছুটা সুস্থতাবোধ করলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ২৬ জুন আবারো তিনি অসুস্থতাবোধ করলে রাত ১২ টার দিকে পুনরায় পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

‘মধ্যরাতেও ব্যস্ততার অজুহাতে প্রায় চার ঘণ্টা পর সাড়ে ৪ টার দিকে সিসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয় চাচাকে। সেখানে থাকার পর কিছুটা সুস্থ হলে বুধবার (১ জুলাই) ছাড়পত্র দিলে্ আবারো বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।’ বলেন ইমন।

ইসহাক ইমন আরো জানান, সন্ধ্যায় বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে সকাল ৭টার দিকে তাকে ফের পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে যাই। জরুরি বিভাগের সামনের একটি বেডে চাচাকে শুইয়ে রেখে আইসিইউ’র জন্য কখনো চারতলা, কখনো ৮ তলায় ছুটছি আমরা। ৮ তলায় আইসিইউ খালি থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আশরাফ করোনা রোগী সন্দেহে আইসিইউ দিতে অস্বীকার করেন। দুইঘণ্টা ধরে অনেক দেনদরবার করেও আইসিইউ মিলেনি। শেষপর্যন্ত বিনিচিকিৎসকায় সকাল ৯টার দিকে চাচা মৃত্যুবরণ করেন।

অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে ডা. আশরাফসহ পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ইমন।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবারই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।