শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে একই তারিখে কুরবানি!

| প্রকাশিতঃ ২০ জুলাই ২০২০ | ১০:৩৩ অপরাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : এবার বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে একই দিনে কোরাবানি পালন হতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। চাঁদ নিয়ে গবেষণাধর্মী ওয়েব সাইট ‘মুন সাইটিং ডট কম’- এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এসবা কথা জানান তারা।

এ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা তর্ক-বিতর্কের অবসান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

তারা বলেন, মঙ্গলবার (২১জুলাই) পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের আকাশেও জিলহজ্বের নতুন চাঁদ দেখা যাবে। এই চাঁদ ৩৫ মিনিট আকাশে স্থায়ী হবে।

২১ জুলাই বাংলাদেশে যখন ২৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে সূর্য অস্ত যাবে ঠিক একই সময়ে ২৯৩ ডিগ্রি এঙ্গেলে পশ্চিম আকাশে জিলহজ্ব মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাবে।

‘মুন সাইটিং ডট কম’- এর তথ্য মতে, জুলাইয়ের ২০ তারিখ বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে জিলহজ্ব মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাবে না তবে ২১ জুলাই বিশ্বের বেশিভাগ দেশ থেকে তা স্পষ্ট দেখা যাবে।

বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম দিকের দেশগুলো খালি চোখেই চাঁদ দেখতে পাবে আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশ থেকেও স্পষ্ট চাঁদ দেখা যাবে।

এদিকে ধর্মমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। চাঁদ দেখা গেলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এবিষয়ে ওআইসির ‘ফিকাহ কাউন্সিল’ এর সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক্ষ ড. আবদুল্লাহ আল মারুফ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ওআইসির সিদ্ধান্ত হলো পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় চাঁদ উঠলে তার প্রামাণিক সত্যতা নিশ্চিতপূর্বক সব জায়গায় রোজা শুরু ও ঈদ পালন করা। কিন্তু এবছরও ওআইসির সদস্যভুক্ত ৫৭ দেশের মধ্যে ৫৬ দেশ একই তারিখে রোজা শুরু ও ঈদ পালন করলেও বাংলাদেশে সেটা করা হয়নি।

এখনতো জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে ২১ তারিখ চাঁদ খালি চোখে দেখার কথা রয়েছে সেখানে যদি মেঘের আঁড়ালে চাঁদ দেখা যায়নি বলা হয় তাহলে আমি বলবো মেঘের কারণে চাঁদতো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে উঠবে না।

যেখানে আমরা বিজ্ঞানের শ্রেষ্টত্বের যুগে প্রবেশ করেছি, মহাকাশে ‘কৃত্রিম উপগ্রহ’ পাঠিয়েছি সেসময়ে এধরণের কথা বলা খুবই লজ্জাকর ব্যাপার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সাথে বৈঠকে বসেছি জানিয়ে ওআইসির স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, তৎকালীন ইফা ডিজি প্রয়াত শামীম মুহাম্মদ আফজালের আহ্বানে ২০১৭ সালে উভয় পক্ষের ১৫ জন করে ৩০ জনের একটা বৈঠকও করেছি। পরপর দুইবার আলোচনা হওয়ার পরও বিষয়টি অমিমাংসিত রেখে দেন তারা।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাএ সাথে দেখা করারও সুযোগ কামনা করেন তিনি।

পরমাণু বিজ্ঞানী ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর এম শমশের আলী একুশে পত্রিকাকে বলেন, একসময় সারাবিশ্বে একই তারিখে রোজা শুরু ও ঈদ পালনে বাধা ছিল, এখন সেটা আর নেই। আমরা ইন্টারনেটের যুগে পৌঁছে গেছি। পৃথিবী একটা, মানবজাতি একটা, চাঁদ একটা সুতরাং কোথাও চাঁদ উঠে গেলে এখন সেটাকে না দেখার ভান করা যায় না।

৯ জিলহজ্ব আরাফা দিবস; যা আমরা টিভিতে দেখেও ১০ জিলহজ্বে পালন করছি অথচ এইদিনে রোজা রাখা হারাম তাহলে আমরা ১৭ কোটি মানুষ কেন হারাম কাজ করছি এমন প্রশ্ন রেখে ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্স’- এর এই প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, অতীতে যা হওয়ার হয়েছে এখন যদি আমরা ওআইসির সিদ্ধান্ত মানি এবং ইন্টারন্যাশনাল হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি তাহলে এই সমস্যা শীগ্রই সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে চন্দনাইশ থানাধীন জাহাঁগীরিয়া শাহসূফী মমতাজিয়া দরবার শরীফে প্রায় ১১০ বছর যাবৎ সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে রোজা, ঈদ ও কুরবানিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।

হযরত শাহসূফী আমজাদ আলী (রা) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই সূফী দরবারটি উল্লেখিত ধর্মীয় উৎসবগুলি পালনের ক্ষেত্রে গোটা মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষপাতি। তারা জানান, বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে সারা বিশ্বে অভিন্ন ক্যালেন্ডার অনুসরণ করাটাই যুক্তিযুক্ত। পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে চাঁদ দেখামাত্র সমগ্র পৃথিবীর জন্য সেটার অনুসরণ ওয়াজিব, এটা হাদীস ও ফিকাহ দ্বারাও সমর্থিত। বর্তমানে সারাদেশে এই দরবার শরীফের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষাধিক। যারা সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে অভিন্ন ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।