রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

সেই সাজ্জাতের অবস্থা স্থিতিশীল নয়, দেখতে গেলেন ডা. বিদ্যুত

| প্রকাশিতঃ ২৯ জুলাই ২০২০ | ১০:১৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : করোনা মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত চট্টগ্রাম করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা মো. সাজ্জাত হোসেনের অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়।

সাজ্জাতের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বুধবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় জেনারেল হাসপাতালে যান চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের প্রধান উদ্যোক্তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুত বড়যা। সাজ্জাতকে দেখাশেষে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এসময় একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদারও উপস্থিত ছিলেন। তারা পৌনে ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ বেডে চিকিৎসাধীন সাজ্জাতের শয্যাপাশে অবস্থান করেন এবং তার স্বাস্থ্যের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া বলেন, আক্রান্ত হওয়ার পর সাজ্জাতের অবস্থা যেমন ছিল এখনও তাই। অনেকটা অপরিবর্তিত। জীবন রক্ষাকারী ব্যারামিটারগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে না। তার আরও কিছু পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সেই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা বোঝা যাবে। সাজ্জাতের দ্রুত সুস্থতায় বিদ্যুত বড়ুয়া সবাইকে আন্তরিকভাবে দোয়া করতে বলেছেন।

বিদ্যুত বড়ুয়া বলেন, অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া তার অক্সিজেন সিচ্যুরেশান ৮১ থেকে ৮২। ৭ লিটারের অক্সিজেন সাপোর্ট যুক্ত হলে অক্সিজেন লেভেল ৯৫ এ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার অক্সিজেন সাপোর্টের পাশাপাশি দরকার নিরবচ্ছিন্ন সেবা, মুক্ত পরিবেশ। সাথে নিয়মিত গোসল, গরমপানির ব্যবহার। এগুলো চিকিৎসারই অংশ। কিন্তু আইসিইউ বেডে থাকায় সেই সুবিধাগুলো থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন।- যোগ করেন ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।

একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার জানান, এই অবস্থায়ও সাজ্জাতের মনোবল নষ্ট হয়নি। শ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হলেও তিনি আমাদের সাথে কথা বলছেন। ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ওয়ার্ডের ৭টিতেই করোনা রোগী। তাদের বেশিরভাগের অবস্থা খারাপ। সেই তুলনায় সাজ্জাত ভালো আছেন। কিন্তু ওয়ার্ডের সার্বিক যে পরিবেশ তা সাজ্জাতের মতো রোগীর উপযোগী কিনা সেটিই বড় প্রশ্ন। সাজ্জাত নিজেও বলেছেন, এই পরিবেশে থেকে তিনি আরও অসুস্থ হচ্ছেন। যত দ্রুত সম্ভব, তাকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে কেবিনে নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে সাজ্জাত হোসেনের চিকিৎসায় নিয়োজিত জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ড ডা. রাজদীপ দাশ একুশে পত্রিকাকে বলেন, রোগী বর্তমানে কোভিডের যে খারাপ সময় আছে, সেই সময়টা পার করছেন। তিনি অক্সিজেন সাপোর্টে আছেন। ইতোমধ্যে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে তার সুস্থতায় পাশে দাঁড়িয়েছি। রোগীর কিছু রিপোর্ট খারাপ এসেছে। ফলে গতকাল আমরা একটি ওষুধ দিয়েছি। সেই ওষু্ধের রেসপন্স দেখার জন্য পরীক্ষাগুলো আমরা আগামিকাল করতে দেবো। আমরা দেখব যে, ওই ওষুধের প্রভাব কেমন পড়েছে। রোগী এই মুহূর্তে একটি ক্রিটি্ক্যাল সময় পার করছেন। এই অবস্থা থেকে উন্নতি যেমন হয়, অবনতিও হয়। তাই কেবিনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তার আইসিও সাপোর্ট লাগবেই।- যোগ করেন ডা. রাজদীপ দাশ।

সাজ্জাত হোসেনের চিকিৎসায় সার্বক্ষণিক ছায়া হয়ে থাকা চট্টগ্রাম আইসোলেশন সেন্টারের অন্যতম পরিচালক জাওইয়িদ চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের মাধ্যমে সাজ্জাত ভাইকে ঢাকার সিএমএইচে হস্তান্তরে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। কয়েকটি রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। আজ রাতে বা আগামিকাল রিপোর্টগুলো হাতে পেলে সেই অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নেবো।

এর আগে গত ২১ জুলাই মো. সাজ্জাত হোসেনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তারও আগে ৩-৪ দিন ধরে ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি জ্বরে ভুগছিলেন সাজ্জাত। এ সময়টাতে যেরকম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল সাজ্জাত তা করেননি। ফলে তার অবস্থা খারাপ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।