রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

প্রয়াত ওসির বিপুল সম্পত্তিতে জামাতা ওসির ‘বদনজর’!

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুন ১৪, ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ রফিক : প্রয়াত পুলিশ পরিদর্শক শ্বশুরের সম্পত্তিতে বদনজর পড়েছে মেয়ে-জামাইয়ের। যিনি কিনা নিজেও পুলিশের ইন্সপেক্টর। ‘সম্পদলোভী’ জামাইর বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন প্রয়াত পুলিশ পরিদর্শক এম করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী জারিয়া বেগম (৪২)। ৮ বছর বয়সী এক সন্তান নিয়ে তিনি থাকেন নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ১২ নম্বর বাড়িতে। বাড়িটির মালিক এম করিম গণি।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর মারা যান করিম গণি। মৃত্যুর সময় তিনি চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে রেখে যান কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ এপ্রিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান করিম গণির প্রথম স্ত্রী জাহানারা বেগম। ওই সংসারে আছে দুই ছেলে এক মেয়ে- জাহাঙ্গীর খালেদ, জাহেদ আলমগীর ওরফে ববি ও খালেদা নার্গিস শ্রাবণী। এর মধ্যে ববি ও শ্রাবণী থাকেন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাবার বাড়িতেই।

জারিয়ার অভিযোগ, স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে ‘বদনজর’ পড়েছে মেয়ের জামাই পুলিশ ইন্সপেক্টর জহিরুল আনোয়ার মঞ্জুর। তিনি এখন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে কর্মরত। স্বামীর সম্পদের ভাগ না দিতে ইন্সপেক্টর জহিরুল আনোয়ার ও তার স্ত্রী এবং শ্যালক মিলে সৎ মা জারিয়ার উপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তার স্বামী এম করিম গণি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক। তার প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে জাহাঙ্গীর খালেদ যুক্তরাজ্যে আইটি কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত। ছোট ছেলে জাহেদ আলমগীর বেকার। জারিয়ার দাবি, জাহেদ আলমগীর মাদকাসক্ত। একমাত্র মেয়ে খালেদা নার্গিস ওরফে শ্রাবণী। পুলিশ ইন্সপেক্টর জহিরুল আনোয়ার শ্রাবণীর দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম স্ত্রী জাহানারা বেগমের মৃত্যুর পর ২০১২ সালের ৩ মার্চ দ্বিতীয় স্ত্রী জারিয়া বেগমকে বিয়ে করেন এম করিম গণি।

জারিয়ার অভিযোগ, জীবদ্দশায় তার স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্ধেক সম্পত্তি লিখিয়ে নেন শ্রাবণী ও তার ভাই জাহেদ আলমগীর। অবশিষ্ট সম্পত্তি আত্মসাত করতে জীবদ্দশায় তার স্বামীর উপর মানসিক নির্যাতন চালান শ্রাবণী ও তার স্বামী।

সৎ মেয়ে শ্রাবণীর স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল আনোয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করে জারিয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘শ্রাবণী ও তার ভাই জাহেদকে আমার উপর লেলিয়ে দিয়েছেন জহিরুল। স্বামীর রেখে যাওয়া ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার, ব্যাংক ব্যালেন্সসহ কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন তারা। স্বামীর কাছে আমি এবং আমার ছেলের প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন জহিরুল।’

উর্ধ্বতন মহলে পাঠানো অভিযোগে বলা হয়, জারিয়াকে বিয়ে করায় এম করিম গণিকে নানাভাবে হেনস্থা করেছিলেন জহিরুল ও তার স্ত্রী শ্রাবণী এবং শ্যালক জাহেদ। একসময় স্বামীর জানমাল রক্ষায় চান্দগাঁও থানায় জিডি করলে পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল সেখানে প্রভাব খাটান। এক সময় তার স্বামী করিম গণিকে হত্যা চেষ্টাও চালান তারা।

জারিয়ার দাবি, শ্রাবণীর ছোট ভাই জাহেদ একজন মাদকসেবী। একসময় তাকে ‘তরী’ নামে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছিলেন বাবা করিম গণি। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে না দিয়ে বাসায় নিয়ে আসেন শ্রাবণী ও তার স্বামী জহিরুল আনোয়ার।

‘পুলিশ ইন্সপেক্টর জহিরুল ও তার শ্যালক জাহেদ আমি এবং আমার শিশুকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে আমার স্বামীর মালিকানাধীন জমি, চান্দগাঁও আবাসিকের বাড়ি, পূর্ব ষোলশহরে ‘ওসি কলোনি’ ভাড়াঘর এবং বিভিন্ন বাড়িভাড়ার লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে। স্বামীর সূত্রে আমি ও আমার ছেলের প্রাপ্ত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দিতে হুমকি দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

জারিয়ার অভিযোগ, পুলিশ ইন্সপেক্টর জহিরুল আনোয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার স্ত্রী এবং শ্যালকের যোগসাজশে প্রতিমাসে চান্দগাঁও আবাসিক ১২ নম্বর রোডের ২৮২ নম্বর বাড়ির ভাড়া বাবদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা, ওসি কলোনির ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা আয় হলেও সেখান থেকে জারিয়াকে এক টাকাও দেওয়া হচ্ছে না।

বিরোধ নিষ্পত্তির নামে ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর চান্দগাঁও আবাসিকের বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে সালিশী বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রয়াত পুলিশ কর্মকর্তা এম করিম গণির যাবতীয় সম্পদের তালিকা করেন সালিশকারকরা। এতে দেখা যায়, সরকারি-বেসরকারি ৭টি ব্যাংকে করিম গণির ব্যাক-হিসাব, ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার (পাঁচটি গলার সেট, ১ জোড়া বালা, ১ জোড়া চুড়ি, একটি ব্রেসলেট, ৬ জোড়া কানের দুল, ৪টি আংটি এবং ৭টি নাকফুল)। অস্থাবর সস্পত্তির বিবরণের মধ্যে নগরের চান্দগাঁও এলাকার বিভিন্ন জায়গার দলিল এবং বান্দরবান জেলার লামায় ৩০০ একর আয়তনের পাহাড়ি জমির মূল দলিল, একাধিক দোকানের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ যাবতীয় দলিল দস্তাবেজ, ব্যাংক-হিসাবের কাগজপত্র, সঞ্চয়পত্র, বীমাপত্র রয়েছে।

অনেক দেনদরবারের পর গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার গণ্যমান্যদের ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়া সালিশী বোর্ডে সালিশী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষপর্যন্ত ওই পক্ষের কেউ আসেননি। এরপর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সস্পাদক মোহাম্মদ ইসলাম এবং আইন ও সালিশ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বদরুল হুদা মামুন যৌথ সিল ও স্বাক্ষরে একটি চিঠিতে ঘটনার প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরেন।

চিঠিতে বলা হয়, জারিয়া বেগম বাড়ি ২৮২, রোড-১২ চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে সসম্মানে ফোনে উপস্থিত হতে বলা হয়। আবেদনকারী উপস্থিত হলেও প্রতিপক্ষ হননি। সার্বিক বিবেচনায় ও সিদ্ধান্তে আবেদনকারীর আবেদন সঠিক ও যথাযথ বলে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ যেহেতু আইন উপ কমিটির সম্মুখে উপস্থিত হন নাই, তাই উপ কমিটি বিষয়টি সমাধান করতে ব্যর্থ হন।

আবেদনকারীর আবেদন মানবিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে ওই চিঠিতে যথাযথ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ভুক্তভোগী জারিয়া বেগমকে প্রতিকার চাওয়ার পরামর্শ দেন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ।
জারিয়ার বড়ভাই আবদুল মান্নান জানান, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বরে বৈঠকে সালিশকারকদের উপস্থিতিতে স্বর্ণালংকারসহ যাবতীয় কাগজপত্র বুঝে নেন পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল আনোয়ার।

পরবর্তী বৈঠকে করিম গণির রেখে যাওয়া স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যাবতীয় সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করা হবে বলে জানিয়ে বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন সালিশকারকরা। এরপর মুহূর্তেই পাল্টে যান জহিরুল। জমির দলিলপত্র একটি কক্ষে তালা মেরে চাবি ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি চলে যান।

মান্নানের অভিযোগ, বৈঠকের পর থেকে স্বামীর সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা সংক্রান্ত দাবি তুললে জারিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন পুলিশ ইন্সপেক্টর জহিরুল ও তার স্ত্রী শ্রাবণী। আমার বোনকে স্বামীর সম্পত্তিতে হাত লাগাতেও দিচ্ছেন না। তাকে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে জারিয়া আর্থিক কষ্টে জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় জারিয়াকে তার সন্তানসহ স্বামীর বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টাও করা হচ্ছেন।’

গত ১৬ মে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জারিয়া বেগম ও তার ভাই আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে ইন্সপেক্টর জহিরুল ও তার স্ত্রী শ্রাবণী চান্দগাঁও থানায় মিথ্যা মামলা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জারিয়া। তিনি বলেন, গত ১২ মে চান্দগাঁও থানায় অভিযোগের পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে জহিরুল ও শ্রাবণী। তারা বলছে, আমার ছেলেকে কোনও সম্পত্তি দিবে না। উল্টো আমার স্বামীর বাড়ি থেকে আমাকে উচ্ছেদ করার হুমকি দিচ্ছেন জহিরুল।

ইন্সপেক্টর জহিরুল আনোয়ার বর্তমানে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জারিয়ার দাবি, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে জহিরুলকে ওএসডি করা হয়েছিল। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ১৪ নম্বর রোডে তার রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি (নম্বর ৩৫৭)।
এদিকে মৃত্যুর আগে ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর জোরপূর্বক বাড়ি দখল এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিজের দুই ছেলে, একমাত্র মেয়ে শ্রাবণী ও পুলিশ পরিদর্শক জামাতার বিরুদ্ধে আদালতে একটি ডায়েরি করেছিলেন এম করিম গণি। এতে সম্পত্তির লোভে সন্তানদের দ্বারা কীভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন তার বিশদ বর্ণনা দিয়ে প্রতিকার চেয়েছিলেন তিনি।

এম করিম গণি ওই জিডিতে অভিযোগ করেন, তার মেয়ে খালেদা নার্গিস শ্রাবণী ও ছোট ছেলে জাহেদ আলমগীর তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে জারিয়াকে বিয়ে করার পর থেকে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। তাকে এবং জারিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলেও উল্লেখ করেন অভিযোগে।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রয়াত পুলিশ কর্মকর্তা এম করিমের মেয়ে শ্রাবণী গতকাল রোববার (১২ জুন) বিকালে একুশে পত্রিকার কাছে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তার দাবি, তার সৎ মা জারিয়া বেগম তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। তার স্বামী পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল আনোয়ার কখনো তাদের পারিবারিক বিষয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটাননি। ৩০ ভরি নয়, স্বর্ণালংকার হবে ১৫ ভরি। এসব স্বর্ণ জারিয়ার নয়। সেগুলো তার মা প্রয়াত জাহানারার। জীবদ্দশায় বাবা এম করিমকে সম্পত্তি লিখে দিতে নির্যাতন করেননি। সৎ মা জারিয়াকে হত্যার হুমকি দেননি। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে শ্রাবণী ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে বাবা করিম গণি যেসব অভিযোগ করেছিলেন তখন তিনি (করিম গণি) মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না বলে দাবি করেন শ্রাবণী।

স্বামীর সম্পদের ভাগ পেতে জারিয়াকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে শ্রাবণী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘তিনি (জারিয়া) আমার বাবাকে ফাঁদে ফেলে সম্পত্তির লোভে বিয়ে করেছেন। এই নারী লোভী প্রকৃতির। বাবা খরচের চেয়ে সঞ্চয় বেশি করতেন। বান্দরবানের জায়গা থেকে বাবার কাঠ বিক্রি বাবদ লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন জারিয়া। তাকে বিপুল স্বর্ণালংকার কিনে দিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেদিনের বৈঠকে সেগুলো উপস্থাপন করেননি জারিয়া। করোনা আক্রান্ত বাবার জন্য উপযুক্ত সময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেননি জারিয়া।’

রোববার (১৩ জুন) থেকে মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল আনোয়ার মঞ্জুরের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে তিনি ফোন ধরেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন আমার শ্বশুরের দ্বিতীয় স্ত্রী জারিয়া বেগম। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ডেকেছেন। আমি আমার বক্তব্য দিয়েছি। আমি জারিয়ার উপর কোনও অন্যায় করে থাকলে পুলিশ তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

সৎ শাশুড়ি জারিয়ার কাছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা আছে বলে দাবি করে পুলিশের এই ইন্সপেক্টর বলেন, আমার শ্বশুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ছিল। মামলার পর থেকে তিনি টাকা-পয়সা বাসার একটি ড্রয়ারে রাখতেন। মৃত্যুকালে তার ড্রয়ারে ৪/৫ কোটি টাকা ছিল।সেগুলো আত্মসাত করেছেন জারিয়া ও তার ভাই আবদুল মান্নান। এসময় আবদুল মান্নানকে পটিয়া থানার এসিড ছোঁড়া মামলার আসামি বলেও দাবি করেন পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল।

প্রয়াত পুুলিশ পরিদর্শক করিম গণির বিপুল সম্পদ অর্জন এবং সেই সম্পদ নিয়ে মেয়ের জামাতা পুলিশ পরিদর্শকের এমন অবস্থানকে ভালো চোখে দেখছেন না সচেতন মহল। তারা বলছেন, গণমাধ্যমে পুলিশ পরিদর্শক শ্বশুরের মৃত্যুকালে ৪-৫ কোটি টাকা নগদ রেখে যাওয়ার তথ্য দিয়ে ইন্সপেক্টর জহুরুল আনোয়ার প্রকারান্তরে ওসির চেয়ারকে বিপুল অর্থ উপার্জনের যন্ত্র বা আলাদিনের চেরাগ-এমনই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন সেই সাথে অন্য ওসিদেরও এমন বার্তা দিচ্ছেন যে, এই চেয়ারে বসলেই বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হওয়া যায়। সেই শিক্ষা তিনি যেমন নিচ্ছেন পক্ষান্তরে অন্য ওসিদেরও দিচ্ছেন।

এমন অবস্থান, মানসিকতা পুলিশ বিভাগে দুর্নীতিকে আরও উসকে দেবে এমন মন্তব্য করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে সৎ মায়ের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় প্রয়াত ইন্সপেক্টর করিমের বিত্তভৈববের ‘খতিয়ান’ ফাঁস হয়েছে। তা না হলে সম্পদের বিষয়টি আমাদের কাছে গোপন থেকে যেত।

আমার প্রশ্ন-বাংলাদেশে এরকম আরও কতজন ওসি আছেন আমাদের জানা নেই। তাহলে এক্ষেত্রে দুদক, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স কী করছে? আর প্রয়াত পুলিশ কর্মকর্তা এম করিম গণির জামাতা যিনি নিজেও পুলিশের ইন্সপেক্টর, তিনি তার শ্বশুরের মৃত্যুকালে ড্রয়ারে রেখে যাওয়া ৪/৫ কোটি টাকা সৎ শাশুড়ি জারিয়া কর্তৃক মেরে দেওয়ার যে অভিযোগ করেছেন মূলত তিনি বন্দুকের নল তো নিজের দিকেই তাক করেছেন। তবে বাস্তবে আমাদের সমাজের চিত্র এমনই। – বলেন অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী।